লকডাউনে ছোটদের যোগাসন শেখাচ্ছেন বিজয়

দীপঙ্কর মিত্র, রায়গঞ্জ : লকডাউনের জেরে প্রায় তিন মাস ধরে বন্ধ রয়েছে স্কুল ও প্রাইভেট টিউশন। করোনা পরিস্থিতিতে সচেতন অভিভাবকরাও এখন তাঁদের ছেলেমেয়েদেরকে টিউশনের ব্যাচে পাঠাতে চাইছেন না। ফলে বাড়ির চার দেওয়ালের মধ্যেই দিন কাটছে ছোটদের। একঘেয়েমি কাটাতে ছোটদের ভরসা এখন টেলিভিশন ও অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন। কিন্তু অত্যধিক মোবাইল ও টেলিভিশনের ব্যবহারের জন্য ছোটদের মনসংযোগ ও স্মৃতিশক্তি ক্রমশ কমে যাচ্ছে। তাদের মধ্যে নানাবিধ মানসিক ও শারীরিক সমস্যা দেখা যাচ্ছে। টেলিভিশন ও মোবাইল ফোনের প্রতি ছোটদের আসক্তি কমাতে উদ্যোগী হয়েছেন সুভাষগঞ্জ পালপাড়ার বাসিন্দা বিজয় পাল। পেশায় প্রাথমিক শিক্ষক বিজয়বাবু ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের যোগাসন শেখাচ্ছেন। পাশাপাশি সবুজায়নের লক্ষ্যে ছোটদের মধ্যে চারাগাছ বিলি করছেন। করোনা সংক্রমণ রোধ করার জন্য ছোটদের স্বাস্থ্যবিধিও শেখাচ্ছেন তিনি।

বিজয়বাবুর পরিবেশ ভাবনা একটু অন্য ধরনের। তিনি চান কচিকাঁচারা অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ও টেলিভিশনের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিক। তাঁর মতে অ্যান্ড্রয়েড ফোন ও টিভির নেশায় আচ্ছন্ন হয়ে বর্তমান সমাজের শিশু-কিশোররা নিজের অজান্তেই বিপদ ডেকে আনছে। এদিকে করোনা মোকাবিলায় লকডাউন চলায় এমনিতেই শিশু-কিশোররা একা হয়ে পড়েছে। চার দেওয়ালের মধ্যে তাদের জীবন কাটছে। এই পরিস্থিতিতে মোবাইল ও টিভির প্রতি তাদের আসক্তি বেড়েছে। এই আসক্তি কমাতে ও ছোটদের শরীর, মনকে সুস্থ রাখতে পালপাড়া এলাকার ৫০ জন কচিকাঁচাকে নিয়ে ২৪ মে থেকে বিজয়বাবু যোগাসন অনুশীলন শুরু করেছেন। পরিবেশ সুস্থ থাকলে আমরা সুস্থ থাকব, এই বার্তাকে ছড়িয়ে দিতে তিনি কচিকাঁচাদের হাতে চারাগাছ তুলে দিচ্ছেন। তারা যাতে নিজেদের বাড়িতে ও আশপাশের এলাকায় গাছগুলি রোপণ করে সেই বিষয়ে বিজয়বাবু কচিকাঁচাদের উৎসাহ দিচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে বিজয়বাবু বলেন, ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের মনসংযোগ বাড়াতে ও শারীরিক, মানসিক সুস্থতার লক্ষ্যে যোগাসন অনুশীলনের ব্যবস্থা করেছি। নিয়মিতভাবে যোগাসন অনুশীলন করলে মোবাইল ও টিভির প্রতি ওদের আকর্ষণ অনেকটাই কমবে। ২৪ মে থেকে এই অনুশীলন শুরু হয়েছে। ৫ জন শিশুকে নিয়ে অনুশীলন শুরু করেছিলাম। এখন মোট ৫০ জন শিশু অনুশীলন করছে। বিকেল হলেই অভিভাবকরা তাঁদের সন্তানকে অনুশীলনে পাঠাচ্ছেন।

- Advertisement -

বিজয়বাবুর এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা। বিজয়বাবুর এক ছাত্র সায়ন পালের বাবা স্বপন পাল বলেন, যোগাসন অনুশীলন শুরু করার পর সায়নের টিভি ও মোবাইলের প্রতি ঝোঁক অনেক কমেছে। পড়াশুনোর প্রতি আগ্রহ অনেকটা বেড়েছে। বিজয়বাবুর আরেক ছাত্র রিন্টু পালের বাবা রণজিৎ পাল বলেন, আগে টেবিলে মোবাইল রাখার সঙ্গে সঙ্গে ছেলে মোবাইল নিয়ে গেম খেলা শুরু করত। পড়াশুনোর প্রতি আগ্রহ অনেক কম ছিল। কিন্তু যেদিন থেকে রিন্টু যোগাসন অভ্যাস শুরু করেছে, সেদিন থেকেই দেখছি ওর মধ্যে অনেক পরিবর্তন এসেছে।