রণজিত্ ঘোষ, শিলিগুড়ি : পরিবহণ দপ্তরের গাফিলতির কারণে  শিলিগুড়িতে মোটরবাইকের পলিউশন সার্টিফিকেট তৈরি হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। য়ার জেরে ভুগতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। বহু মোটরবাইকের পলিউশন সার্টিফিকেটের মেয়াদ ফুরিযে গেলেও তা পুনর্নবীকরণ করা যাচ্ছে না। বিভিন্ন পলিউশন টেস্টিং সেন্টার সূত্রে জানা গিয়েছে, অনলাইনে একটি মোটরবাইকের তথ্য আপলোড করতে গেলে তা ফেইলড দেখাচ্ছে। লেখা উঠছে, আরটিও (রিজিওনাল ট্রান্সপোর্ট অফিসার) অফিসে যোগাযোগ করতে হবে। প্রতিদিন এভাবে প্রচুর বাইকমালিক ফিরে যাচ্ছেন, ফলে এই কেন্দ্রগুলির ব্যবসাও ক্ষতির মুখে পড়ছে। এ ব্যাপারে দার্জিলিংয়ের আঞ্চলিক পরিবহণ আধিকারিক সোনম লেপচা বলেন, ই-পরিবহণ পোর্টাল চালু হওয়ায় কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে। তবে, আমাদের অফিসে গেলেই সঙ্গে সঙ্গে সেগুলি সংশোধন করে দেওয়া হচ্ছে। মানুষের হয়রানির কিছু নেই।

সাধারণ নিযমে বিএস-ফোর পদ্ধতি চালু হওয়ার আগে কেনা মোটরবাইক ছয় মাস পর পর পলিউশন সার্টিফিকেট পুনর্নবীকরণ করাতে হয়।  কিন্তু গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে শিলিগুড়িতে ২০১৩ সাল বা তার আগে কেনা মোটরবাইকের সিংহভাগই পলিউশন আন্ডার কনট্রোল সার্টিফিকেট করা যাচ্ছে না। ফলে শহরে বহু মোটরবাইকই এই সার্টিফিকেট ছাড়াই চলছে। কিন্ত কেন এই সমস্যা? শহরের বিভিন্ন জাযগায় ছড়িযে থাকা পলিউশন টেস্টিং সেন্টারগুলির সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, এখন সমস্ত পলিউশন সার্টিফিকেট প্রক্রিয়াই অনলাইনে করতে হয়। কোনো গাড়ির পলিউশন সার্টিফিকেট করার জন্য ওই গাড়ির নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর নির্দিষ্ট পোর্টালে ইনপুট করলেই ওই গাড়ির সমস্ত তথ্য দিয়ে নতুন পেজ ওপেন হয। সেখান থেকেই পরবর্তী ছয মাসের জন্য পলিউশন সার্টিফিকেট বেরিযে আসে। কিন্তু চলতি মাসের প্রথম দিন থেকেই দেখা যাচ্ছে মোটরবাইকের নম্বর এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিলেই নট ফাউন্ড, কনট্যাক্ট উইথ ইওর আরটিও বলে দেখাচ্ছে। ফলে ওই গাড়িগুলির পলিউশন সার্টিফিকেট করা যাচ্ছে না। ২০১৩ সাল এবং তার আগের গাড়িগুলিতেই এই সমস্যা দেখা যাচ্ছে।

এখানেই পরিবহণ দপ্তরের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছে। শিলিগুড়ির বাসিন্দা তনয মিত্র, সম্রাট রায, মিঠুন দাসের মতো অনেকেই মোটরবাইক কিনেছেন ২০১১, ২০১২ বা ২০১৩ সালে।  তাঁদের কারোরই গাড়ির পলিউশন সার্টিফিকেট করাতে পারছেন না।  এদিন তাঁরা বলেন, অগাস্ট মাসেই আমাদের বাইকের পলিউশন সার্টিফিকেটের মেয়াদ শেষ হয়েছে। কিন্তু চলতি মাসে শহরের কোনো পলিউশন টেস্টিং সেন্টারে গিয়ে ওই সার্টিফিকেট পুনর্নবীকরণ করাতে পারছি না। বলা হচ্ছে, পরিবহণ দপ্তরে গিয়ে কাগজপত্র ঠিক করাতে হবে। ওই অফিস তো ঘুঘুর বাসা। টাকা ছাড়া কোনো কাজই হয় না। আমরা সেখানে গেলে তো আরও হয়রানির শিকার হব। দপ্তর ভুল করেছে, কিন্তু এই কাজ করার জন্য আমাদের কাছেই ঘুস চেযে বসবে না তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এমন প্রশ্ন শিলিগুড়ির সাধারণ মানুষেরও। দার্জিলিংয়ের আঞ্চলিক পরিবহণ আধিকারিক অবশ্য বলেছেন, এটা আমাদের দপ্তরেরই ভুল। যেকোনো গাড়ির মালিক দার্জিলিং বা শিলিগুড়ির পরিবহণ দপ্তরে গিয়ে নিজের কাজ করিয়ে নিতে পারেন। হযরানি করার কোনো বিষয় নেই।