আমেরিকার মিত্র দেশের তকমা ঘুচছে পাকিস্তানের

258

ওয়াশিংটন : সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়ার অভিযোগে দুবছর আগে পাকিস্তানের ওপর আর্থিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল ডোনাল্ড ট্রাম্প সরকার। ন্যাটো বহির্ভূত মিত্র দেশের তালিকা থেকে পাকিস্তানকে বাদ দেওয়ার পক্ষেও একসময়ে সওয়াল করেছিলেন ট্রাম্প। তাঁর বিদায়বেলায় তেমন প্রস্তাব সংক্রান্ত বিল পেশ হল হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে। বিলটি পেশ করেছেন রিপাবলিকান সেনেটর অ্যান্ডি বিগস। মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষে বিলটি অনুমোদিত হলে এবং প্রেসিডেন্ট স্বাক্ষর করলে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত বহু মার্কিন সুযোগসুবিধা হারাবে পাকিস্তান। ১১৭তম মার্কিন কংগ্রেসের হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে সোমবার বিলটি পেশ হয়েছে। ন্যাটো বহির্ভূত জোটে পাকিস্তানকে যুক্ত করেছিল জর্জ বুশ সরকার। সময়টা ছিল ২০০৪ সাল। এর ফলে পাকিস্তানের কী সুবিধা হয়েছিল? এতে আমেরিকার কাছ থেকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম পেত ইসলামাবাদ সরকার। প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত মার্কিন গবেষণা ও উন্নয়ন প্রকল্পের পাশাপাশি মহাকাশ গবেষণাতেও অংশ নিতে পারত ইমরান খানের দেশ। মহাকাশ প্রযুক্তির রপ্তানি, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে সামরিক সরঞ্জাম মেরামত ও রপ্তানির সুযোগ পেত পাকিস্তান। ন্যাটোর বাইরে থাকা গোষ্ঠীতে থাকলে চিরদিনই এই সুবিধাগুলি ভোগ করার কথা পাকিস্তানের। কিন্তু ক্ষমতায় এসেই সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়ার অভিযোগে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার তাঁর দলের সেনেটরের পক্ষ পাকিস্তানের নন ন্যাটো অ্যালি-র তকমা ঘোচানোর উদ্যোগ নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ।

বিলে বলা হয়েছে, ন্যাটো বহির্ভূত মিত্র দেশের তালিকা থেকে একবার বাদ পড়লে আমেরিকার অন্য কোনও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না পাকিস্তানকে। তবে, হাক্কানি নেটওয়ার্কের মতো সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীকে পাক সরকার উচ্ছেদ করতে সফল হলে এবং খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে তা নিশ্চিত করে শংসাপত্র দাখিল করা হলে, তবেই পাকিস্তান সম্পর্কে অন্যকিছু ভাববে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। কেন হঠাৎ এত কড়া বিল পেশ করা হল? আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা স্বদেশে ফিরছে। সেখানে নাশকতাও চলছে। এই আবহে পাকিস্তানে নিরাপদ আশ্রয়ে থেকে ইসলামাবাদ সরকারের মদতে আফগানিস্তানে হাক্কানি নেটওয়ার্ক জঙ্গি তৎপরতা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে অনেকদিন আগে থেকে। পাকিস্তান ওই জঙ্গি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে আদৌ কোনও পদক্ষেপ করেছে কি না, সেই প্রশ্নও উঠেছে। হাক্কানি নেটওয়ার্কের কতজন নেতাকে পাক সরকার গ্রেপ্তার করেছে, তা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে লিখিত শংসাপত্র দেওয়ার দাবি রয়েছে রিপাবলিকান সেনেটরের পেশ করা বিলটিতে। সব মিলিয়ে পাকিস্তানের শিয়রে সংক্রান্তি। বিলের পরিণতি কী হয়, এখন সেটাই দেখার।

- Advertisement -