মাইনরিটি স্কলারশিপের কোটি কোটি টাকা লোপাট

ইসলামপুর রায়গঞ্জ : উত্তর দিনাজপুর জেলার করণদিঘিতে মাইনরিটি স্কলারশিপের কোটি কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। একটি প্রভাবশালী চক্র কেন্দ্রীয় সরকারের টাকা লোপাট করছে বলে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জমা পড়েছে। চক্রের পান্ডারা কীভাবে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তির অধিকারী হয়েছে তা লিখিত অভিযোগে জানানো হয়েছে। অভিযোগের প্রতিলিপি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর, সিবিআই, আয়কর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রশাসন আশ্বাস দিয়েছে।

স্কলারলিপের টাকা নয়ছয়ের ঘটনায় করণদিঘির রাঘবপুর হাইস্কুলের নাম উঠে এসেছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক মনোজকুমার সরকার বলেন, ওপেন পোর্টালের মাধ্যমে এই প্রকল্পের সুবিধা দেওয়া হয়। ফলে কে কী করছে তা বোঝা যায় না। শুধু আমাদের স্কুলই নয়, আশপাশের বেশ কিছু স্কুলও একই সমস্যায় ভুগছে। এ বিষয়ে এলাকায় একটি চক্র সক্রিয় হলেও কিছুতেই সেটিকে ধরা যাচ্ছে না। তৃণমূল কংগ্রেসের মাইনরিটি সেলের উত্তর দিনাজপুরের সভাপতি হাজি আবদুল কাদের বলেন, করণদিঘিতে ২০১৭ সাল থেকে মাইনরিটি স্কলারশিপের টাকা নয়ছয় করা হচ্ছে। এ ঘটনায় যুক্ত চক্রটি বর্তমানে আরও সক্রিয় হয়েছে। এ বিষয়ে পুলিশ ও প্রশাসনকে অবগত করা হয়েছে। কড়া হাতে পরিস্থিতি সামলাতে ফের তাদের আর্জি জানানো হবে।

- Advertisement -

দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকায় এ বিষয়ে কিছু জানা নেই বলে করণদিঘির বিধায়ক মনোদেব সিনহা জানান। সংখ্যালঘু দপ্তরের উত্তর দিনাজপুরের আধিকারিক পঙ্কজ তামাং বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। পুলিশ ও সাইবার সেলকে এ বিষয়ে তদন্ত করতে বলা হয়েছে। করণদিঘি বিডিও বিজয় মোক্তান বলেন, অভিযোগের বিষয়ে উপরমহলকে জানানো হয়েছে। উত্তর দিনাজপুরের জেলা শাসক অরবিন্দ মিনা বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে কড়া পদক্ষেপ করা হবে।

সূত্রের খবর, করণদিঘিতে মাইনরিটি স্কলারশিপের কোটি কোটি টাকা লোপাটের বিষয়টি ২০১৭ সাল থেকে শুরু হয়েছে। ভুয়ো ছাত্রছাত্রীর নামে এই টাকা তোলা হচ্ছে। অভিযোগ, করণদিঘি ব্লকের লাহুতারা-১ এবং আলতাপুর-১ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় প্রায় ৩৫ জন এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত। বিভিন্ন ব্যাংকের কাস্টমার সার্ভিস পয়েন্ট (সিএসপি)-এর কর্মীদের একাংশও এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত আছে বলে অভিযোগ। স্রেফ এই দুটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকাতেই প্রতি বছর ৩৫০-৪০০ ভুযো সংখ্যালঘু ছাত্রছাত্রীদের নামে বৃত্তির টাকা তোলা হচ্ছে। এর আগে ইসলামপুর ও চোপড়া ব্লকেও এ ধরনের চক্র সক্রিয় ছিল।

চলতি বছর মীর সেলিম নামে এক যুবক এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে তথ্য জানার অধিকার আইনের আওতায় তথ্য চান। এর ভিত্তিতে তিনি যে তালিকা পান তা প্রকাশ্যে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়ায়। চক্রের অন্যতম হিসাবে জনৈক মহতাবুদ্দিন এবং ফাইজুলের নাম উঠে এসেছে। অভিযুক্তদের একজন করণদিঘির এক বিত্তশালী ব্যবসায়ী। তার একাধিক ব্যবসা রয়েছে। অভিযোগ, ওই ব্যবসায়ী সহ তার পরিবারের একাধিক সদস্যের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে করণদিঘিতে মাইনরিটি স্কলারশিপের প্রচুর টাকা জমা পড়েছে। পরিবারের সদস্যরা ৩০ বছরের বেশি বয়সি হলেও তাঁদের নবম-দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়া হিসাবে দেখিয়ে টাকা তোলা হয়েছে। এর জেরে যোগ্য পড়ুয়ারা বৃত্তির টাকা থেকে বঞ্চিত থাকছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সাদ্দাম হোসেন, আবু সামা, মীর সেলিম প্রমুখ জানান, বয়স ৫০ পেরিয়েছে এমন ব্যক্তিদেরও পডুয়া হিসাবে দেখিয়ে বৃত্তির টাকা তোলা হয়েছে। সাদ্দাম হোসেন বলেন, প্রকৃতদের বঞ্চিত করে বৃত্তির টাকা তোলা হচ্ছে। যাঁরা বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন তাঁরা কিছুই জানতে পারছেন না। সবকিছু জানিয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন মহলে অভিযোগ জানানো হয়েছে বলে আবু সামা জানান।