শিলিগুড়ি হয়ে পাহাড়ে ফিরতে পারেন বিমল গুরুং

454
কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠকে বিমল গুরুং। ছবিঃ কৌশিক দত্ত।

শিলিগুড়ি :  বিমল গুরুংকে পাহাড়ে ফেরাতে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা বেশ কিছু মামলা প্রত্যাহার এবং বাকিগুলি থেকে দ্রুত জামিন পাইয়ে দেওয়ার তৎপরতা শুরু হয়েছে রাজ্য প্রশাসনের অন্দরে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে ডিসেম্বরেই নিজের এলাকায় ফিরবেন বিমল। তবে তিনি ডুয়ার্সে যাবেন নাকি দার্জিলিং তা নিয়ে জোর জল্পনা রয়েছে। সরকারি তরফে সামসিংয়ে বিমলের জন্য একটি বাংলো দেখা হয়েছে বলে খবর। এরই মধ্যে মঙ্গলবার বিমলপন্থী মোর্চার সহ সভাপতি বিশাল ছেত্রী সাংবাদিক বৈঠক করে দাবি করেছেন, শীঘ্রই পাহাড়ে ফিরছেন বিমল গুরুং। তাঁকে শিলিগুড়ির বাঘাযতীন পার্কে সংবর্ধনা দেওয়া হবে। তিনি বলেন, গোটা পাহাড় অধীর আগ্রহে বসে রয়েছে, তাঁদের নেতা বিমল কবে ঘরে ফিরবেন। তিনি শীঘ্রই নিজের এলাকায় ফিরছেন। বিনয় তামাং, অনীত থাপাদের নাম না করেও তিনি বলেন, বিমলকে পাহাড়ে উঠতে দেওয়া হবে না বলে কয়েকটি ভেড়া পাহাড়ে চিৎকার করছে, যা হাস্যকর। বিজেপি পাহাড়ের সঙ্গে বরাবর অন্যায় করেছে, মানুষকে প্রতারিত করেছে বলেও অভিযোগ বিশালের। তিনি বলেন, আমাদের একমাত্র দাবি গোর্খাল্যান্ড। আগামী নির্বাচনে আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর দলকে সমর্থন করছি।

দীর্ঘ তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে আত্মগোপন করে থাকার পরে গত ২১ অক্টোবর কলকাতায় ফিরেছেন বিমল গুরুং। সেদিনই সন্ধ্যায় সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে তাঁরা তৃণমূল কংগ্রেসকে সমর্থন করছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই আবার মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে দেখতে চান। বিমলের এই বক্তব্যেই একরকম স্পষ্ট হয়ে যায় যে, তৃণমূলের শীর্ষ নেতত্বের সঙ্গে সমঝোতা করেই তিনি কলকাতায় এসেছেন। বিমল কলকাতায় ফিরতেই পাহাড়ে বিনয় তামাং এবং অনীত থাপার চেয়ার নড়বড়ে হয়ে যায়। ক্ষমতা হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয় এই দুই নেতার মধ্যে। তাই রাতারাতি তাঁরা বিমলকে পাহাড়ে ঢুকতে দেওয়া হবে না বলে ঠিক করে সেইমতো অনুগত নেতা-কর্মীদের রাস্তায় নামান। পুজোর সময় থেকেই পাহাড়ের বিভিন্ন জায়গায় বিনয়, অনীতপন্থীরা মিটিং-মিছিল করে বিমল গুরুং মুর্দাবাদ, বিমল গুরুং গো ব্যাক স্লোগান দিচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারও বিমলকে পাহাড়ে তুললে গণ্ডগোলের আশঙ্কা করছে। তাই আপাতত বিমলের কলকাতাতেই ঠাঁই হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতা, খুন সহ শতাধিক মামলা রয়েছে। কিছু মামলা রাজ্য সরকার প্রত্যাহার করে নিচ্ছে, যে মামলাগুলি প্রত্যাহার করা সম্ভব নয়, সেগুলি থেকে বিমলকে জামিন পাইয়ে দেওয়ার তৎপরতা শুরু হয়েছে রাজ্য প্রশাসনের অন্দরে।

- Advertisement -

এদিন সাংবাদিক বৈঠক করে বিশাল বলেন, বিমল খুব তাড়াতাড়ি বেশ কিছু মামলা থেকে রেহাই পাবেন। পাশাপাশি তাঁর দার্জিলিংয়ের পাতলেবাসের যে বাড়িটি আদালতের নির্দেশে ক্রোক করা হয়েছিল সেটিও ইতিমধ্যেই মুক্ত হয়েছে। যদিও দার্জিলিং পুলিশ জানিয়েছে, এমন কোনও খবর তাদের জানা নেই। বিমলের বাড়ি, সম্পত্তি এখনও ক্রোক করা রয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই আগামী অল্প কিছুদিনের মধ্যেই বিমল দার্জিলিং ফিরবেন বলে আশাবাদী বিশাল। কিন্তু রাজ্য প্রশাসন সূত্রের খবর, বিমলকে রাখার জন্য সামসিংয়ের বাংলো দেখা হয়েছে। সেখান থেকেই তিনি ডুয়ার্স এবং পাহাড়ে দলের ওপরে নজরদারি করবেন। বিশাল এদিন বলেন, পাহাড়ের সিংহভাগ মানুষ বিমলকে দ্রুত পাহাড়ে দেখতে চাইছেন। বিনয় তামাংদের মতো দুচারজন এবং তাঁদের শাগরেদরা এর বিরোধিতা করছেন। তবে, আমাদের নেতা পাহাড়ে ফিরবেন এবং শীঘ্রই তাঁকে স্বমহিমায় রাজনীতির ময়দানে দেখা যাবে। তিনি এদিন বলেন, আমরা অনেক আশা নিয়ে ২০০৯ থেকে বিজেপির সঙ্গে জোট করেছিলাম। বিজেপি বারবার আমাদের পৃথক রাজ্যের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে পাহাড় সমস্যার স্থায়ী সমাধানের কথা বলেছে। কিন্তু বাস্তবে প্রতারণা ছাড়া কিছুই করেনি। তাই আমরা বিজেপির সঙ্গ ছাড়তে বাধ্য হয়েছি। বিমলপন্থীদের এই দাবি প্রসঙ্গে মোর্চার বর্তমান শাসক গোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক অনীত থাপা বলেন, আমরা বিমলপন্থীদের বক্তব্যকে কোনও গুরুত্ব দিচ্ছি না। বিমল গুরুং ক্লোজড চ্যাপ্টার।