পাহাড়ে প্রভাব বিস্তার করতে জাল বিছোচ্ছেন বিমল

229

রণজিৎ ঘোষ, শিলিগুড়ি : বিমল গুরুং পাহাড়জুড়ে ক্রমশই জাল বিছোচ্ছেন। ২০১৭ সালে পাহাড়ে গণ্ডগোলের পরে সর্বত্রই বিমলের পার্টি অফিসগুলি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। বহু নেতা-নেত্রী পরবর্তীতে বিনয় তামাং-অনীত থাপা শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন। দলীয় ঝান্ডা থেকে বিমলের ছবি সরানো হয়। বিনয়পন্থীরা বিমলের পার্টি অফিসগুলিও দখল করে নিয়েছিলেন। কিন্তু ধীরে ধীরে আবার পাহাড়ের আনাচকানাচে পার্টি অফিস খুলছে। সর্বত্রই বিমলপন্থীদের দাপাদাপিও বাড়ছে। বিমলপন্থী মোর্চার সাধারণ সম্পাদক রোশন গিরি বলেন, গোটা পাহাড়েই আমাদের পার্টি অফিস খুলেছে। সব জায়গাতেই আমাদের কর্মসূচিও নেওয়া হচ্ছে। জানুয়ারি মাসে কালিম্পং, মিরিক সহ বিভিন্ন জায়গায় জনসভা করা হবে। শুধু দলের সংগঠনই নয়, পাশাপাশি শিক্ষক, পরিবহণকর্মী থেকে শুরু করে জিটিএ কর্মীদের নিয়ে বিমল শাখা সংগঠন তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। সিংমারিতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় চালু করা নিয়ে রোশন বলেন, জেলা প্রশাসনের কাছে ওই পার্টি অফিসটি পুনরায় চালু করার অনুমতি চাওয়া হয়েছে। শীঘ্রই সিংমারি থেকে দলের কাজকর্ম পরিচালিত হবে।

সাড়ে তিন বছর পর বিমল গুরুং, রোশন গিরি নিজেদের গড় দার্জিলিংয়ে ফিরেছেন। এই সময়কালে বিনয় তামাংরা মোর্চার সমস্ত পার্টি অফিসের দখল নিয়েছেন। তাঁরা দলীয় ঝান্ডা থেকেও বিমলের ছবি সরিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু বিমল পাহাড়ে ফিরতেই নতুন করে সর্বত্রই দলের নেতা-কর্মীরা বিনয়দের ঝান্ডাকে ছাপিয়ে বিমলের ছবি দেওয়া দলীয় ঝান্ডা লাগাচ্ছেন। ফলে ভিতরে ভিতরে মোর্চার দুই গোষ্ঠীর মধ্যে চাপা উত্তেজনা রয়েছে। বৃহস্পতিবার পাতলেবাস, জামুনে, লেবং, বিজনবাড়ি এলাকায় মোর্চার নতুন পার্টি অফিস খুলেছে। পাতলেবাসে খোদ বিমল গুরুং এদিন গিয়ে পার্টি অফিসে বসেন। সেখানে দলের কেন্দ্রীর কমিটির নেতাদের পাশাপাশি প্রাথমিক শিক্ষকদের সংগঠন গোর্খা প্রাইমারি টিচার্স অর্গানাইজেশন (জিপিটিও)-এর সঙ্গে তিনি আলোচনাও করেন। বিমল শিক্ষকদের বিভিন্ন সমস্যা, স্থায়ীকরণ সংক্রান্ত সমস্যা দ্রত মিটিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন।  বিমল এদিনই পাহাড়ের গাড়িচালকদের নিয়ে বৈঠক করে নতুন কমিটিও গঠন করেন। মোর্চা সূত্রের খবর, চলতি মাসের মধ্যেই গোটা পাহাড়ের ৪৫টি সমষ্টি এলাকাতেই সমষ্টি অফিসের পাশাপাশি বিভিন্ন গ্রামেও পার্টি অফিস তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। দলের প্রচার ও প্রসারে বিনয় এবং অনীতের এলাকা দার্জিলিং ও কার্সিয়াংকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিমল আগামী মাসে মিরিকেও জনসভা করবেন। মিরিকে এখনও মোর্চার একটা বড় অংশই বিনয়পন্থীদের সঙ্গে যাননি। খোদ মিরিক পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান মালা সুব্বা এতদিন পুরোপুরি বসে থাকার পরে এখন বিমলপন্থী শিবিরের হয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। ৭ জানুয়ারি বিমল কালিম্পংয়ের জনসভা করবেন। দলীয় সূত্রের খবর, কালিম্পং জেলা নিয়ে বিমল নতুন করে কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। কালিম্পংয়ের বিধায়ক সরিতা রাই মনেপ্রাণে বিমলপন্থী। তিনিও ভিতরে ভিতরে পার্টির প্রসারের কাজ শুরু করেছেন এবং বিমলের আসন্ন জনসভার প্রস্তুতিও জোরকদমে চালাচ্ছেন।

- Advertisement -

এদিকে, বিনয়পন্থীদের পাশাপাশি বিমল শিবির যেভাবে পাহাড়ের বিভিন্ন চোরাবাটোতে পার্টি অফিস খুলছে, এক পক্ষের দলীয় ঝান্ডার উপর দিয়ে অপরপক্ষ ঝান্ডা ঝোলাচ্ছে তাতে প্রশাসন অশান্তির আশঙ্কায় রয়েছে। এরই মধ্যে বিনয়পন্থীরা শনিবার সোনাদা থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত পরিবর্তন যাত্রার ডাক দিয়েছেন। খোদ অনীত থাপার নেতৃত্বে সোনাদা থেকে দার্জিলিংয়ের চকবাজার পর্যন্ত এই পদযাত্রা হবে। সেই পদয়াত্রা ঘিরেও প্রশাসন দুই গোষ্ঠীর মধ্যে গণ্ডগোলের আশঙ্কা করছে। সেই অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলাজনিত পরিস্থিতি ঠিক রাখতে দার্জিলিংয়ের বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হচ্ছে। অনীত এদিন বলেন, আমরা শান্তির পক্ষে, পাহাড়ের উন্নয়নের পক্ষে। পাহাড়ের মানুষও সেটাই চায়। কিন্তু চমকি, ধমকি দিয়ে মানুষকে পুনরায় গোর্খাল্যান্ডের জুজু দেখানো হচ্ছে। পাহাড় আবার অশান্ত হোক, আমরা চাই না। বাকিটা পুলিশ নিশ্চয়ই নজরে রাখছে।