একা আস্ত একটা সংগ্রহশালা গড়ে তুলেছেন বিমলবাবু

240

রায়গঞ্জ : জীবনের অধিকাংশ সময় কেটেছে জলে। শুধু ভারতবর্ষে নয়, সাত সমুদ্র পাড়ি দিয়েছেন চাকরি জীবনের ৪০বছরে। কর্মসূত্রে বিশ্বের প্রায় ৫০টির বেশি দেশ ঘুরেছেন। বিভিন্ন দেশের ঘুরে বেড়ানোর অভিজ্ঞতা যেমন রয়েছে, তেমনই যেখানে যা ভালো লেগেছে সেইসব সংগ্রহ করে বাড়িতে নিয়ে এসেছেন রায়গঞ্জ শহরের বীরনগরের তথা মার্চেন্ট নেভির অবসরপ্রাপ্ত কর্মী বিমলকুমার সাহা। নিজের কর্মক্ষেত্রে যেসব জিনিস তিনি ব্যবহার করতেন, সেইগুলি তিনি সংগ্রহ করে নিজের ঝুলিতে ঢুকিয়ে নিতেন। বাড়ি ফেরার সময় সযত্নে সেগুলি বাড়িতে নিয়ে আসতেন। চাকরি জীবনের প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত প্রতিটি ব্যবহৃত জিনিস এখন বিমলবাবুর বাড়ির সংগ্রহশালায স্থান পেয়েছে। বাড়িতে নিয়ে আসা জিনিসের সংখ্যাও এত হয়ে যায় যে তিনি সেগুলি সাজিয়ে তিনি একটি সংগ্রহশালা তৈরি করে ফেলেছেন। বিমলবাবুর সংগ্রহশালায় সাত সমুদ্রের জলও রয়েছে। জল-ভরতি বোতলে লাগানো রয়েছে স্টিকার। স্টিকারে বিশদ বিবরণ রয়েছে।

তাঁর এই সংগ্রহশালায় দুষ্প্রাপ্য অনেক সামগ্রী থাকলেও জনসাধারণের জন্য তিনি তা খুলে দেননি। ১৯৫৩ সালে নেভিতে যোগ দেন। এরপর কর্মসূত্রে বিভিন্ন দেশে ঘুরে বেড়ান। নীল আর্মস্ট্রং যখন প্রথম চাঁদে পা রাখেন সেসময় বিমলবাবু জার্মানিতে ছিলেন। জার্মানির এক পত্রিকায় প্রকাশিত সেই ছবি সযত্নে ফ্রেমে বাঁধিয়ে রেখেছেন তিনি। কর্মসূত্রে জার্মানিতে তিনি যখন ছিলেন, সেই সময় কেরোসিনের ওভেনে রান্না করতেন। সেই ওভেনও তিনি নিয়ে এসেছিলেন। দেশ-বিদেশের ডাকটিকিট, জার্মানির বিখ্যাত রঙিন ছাতা, সোনি কোম্পানির রেডিও, চশমা, বিভিন্ন দেশের হরলিক্সের বোতল, নিভিয়া কোম্পানির প্রসাধনী এবং বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত খবরের কাগজ কাটিং করে সংগ্রহশালায় রেখেছেন। রাজ্যের প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম দেখা করার ফ্রেমবন্দি ছবি তাঁর সংগ্রহশালায় গেলে দেখা যাবে। ৮৪ বছর বয়সি বিমলবাবু কোথায় কোন জিনিস তিনি ব্যবহার করেছেন, তা মনে রেখেছেন। বাড়িতে এই সংগ্রহশালা গড়তে সাহায্য করেছেন তাঁর ছেলে-মেয়ে। তাঁর ইচ্ছা মৃত্যুর পরেও যেন এভাবেই থাকে সংগ্রহশালাটি। বিমলবাবু বলেন, ‘দীর্ঘ ৪০ বছরের কর্মজীবনে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন জায়গায় যেতে হয়েছে। যেখানে যে জিনিস পছন্দ হত, তা সংগ্রহ করে নিয়ে রেখে দিতাম। বাড়ি ফেরার সময় সেগুলি নিয়ে আসতাম। এত জিনিস জমে যাবে ভাবতে পারিনি। তাই ছেলেমেয়ের ইচ্ছায় বাড়িতে সংগ্রহশালা করে ফেলেছি। আমার বাড়িতে যাঁরা ঘুরতে আসেন তাঁরাই সংগ্রহশালা  দেখে খুশি হন। এটাই আমার কাছে বড় পাওনা।’

- Advertisement -

তথ্য ও ছবি – দীপঙ্কর মিত্র