অশোক ঘোষের জন্মদিনে চিনা দ্রব্য বর্জন নিয়ে বিমানের সাফাই

297
ছবি: সংগৃহীত।

কলকাতা: ফরওয়ার্ড ব্লকের প্রয়াত রাজ্য সম্পাদক অশোক ঘোষের ৯৮তম জন্মদিন চিনা দ্রব্য বর্জনের  ব্যাপারে কেন্দ্রকে বিঁধলেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু।

বিমান বসু বলেন, চিনা দ্রব্য ব্যবহার করা বা বর্জন করার ব্যাপারে সোচ্চার হওয়া অথবা চুপ থাকা নিয়ে বামেদের কোনও দায় নেই। সেই দায় নিতে হবে কেন্দ্রীয় সরকারকে। কারণ চিনা দ্রব্য এদেশে আসার ব্যাপারে যে চুক্তি হয়েছে, সেই চুক্তি বামেরা করেনি, করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। শুধু তাই নয়, চিনা দ্রব্য দেশের বাজারে আসছে কেন, তার জবাব কেন্দ্রীয় সরকারকেই দিতে হবে।

- Advertisement -

বৃহস্পতিবার ছিল ফরওয়ার্ড ব্লকের প্রয়াত রাজ্য সম্পাদক অশোক ঘোষের ৯৮ তম জন্মদিন। সেই অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে চিনা দ্রব্য বর্জনের ব্যাপারে ব্যাপারে বামপন্থীরা কেন মুখ খুলছেন না বলে বিজেপির পক্ষ থেকে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, সে ব্যাপারে করা প্রশ্নের উত্তরে উপরোক্ত মন্তব্য করেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু।

সেই সঙ্গে তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আত্মনির্ভর ভারতের কথা বলছেন, আর রেল-কয়লা সহ সমস্ত রাষ্ট্রায়ত্ত সম্পত্তিকে বিক্রি করে দিয়ে আত্মহননের পথেই এগোচ্ছেন। এর থেকে বড় দ্বিচারিতা আর কিছু হতে পারে না।

ওই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র বলেন, জাতীয় সম্পদ বিক্রি করে দিয়ে দেশ কতটা আত্মনির্ভর হবে তা আমার জানা নেই। শুধু তাই নয় কেন্দ্রীয় সরকার যেভাবে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢ়ড়াকে বাংলো ছাড়ার যে নোটিশ দিয়েছে, সেটাকে প্রতিহিংসার রাজনীতি বলেই তিনি মনে করেন।

অপরদিকে মানুষ বামেদের সঙ্গে কংগ্রেসের জোটকে ভালো চোখে দেখছেন না বলে জানান বিধায়ক তথা প্রদেশ কংগ্রেসের কার্যকরী সভাপতি নেপাল মাহাতো। তাঁর দাবি, বাম কংগ্রেসের এই জোটকে সাধারণ মানুষ মেনে নেবেন না।

এ ব্যাপারে করা প্রশ্নের উত্তরে সোমেনবাবু জানান, নেপালবাবু কী বলেছেন না বলেছেন, তা তার জানা নেই। তবে বামেদের সঙ্গে মতাদর্শের পার্থক্য হলেও বৃহত্তর স্বার্থে তাঁরা এই জোট করতে চান। তিনি বলেন, রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিহিংসাপরায়ণ নীতির বিরুদ্ধে তাঁদের এই জোট।

উল্লেখ্য, এদিন অশোকবাবুর জন্মদিন উপলক্ষে ফরওয়ার্ড ব্লকের রাজ্য দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সোমেন মিত্র ও বিমান বসু ছাড়াও হাজির হন অধ্যাপক প্রদীপ ভট্টাচার্য, অমিতাভ চক্রবর্তী, লিবারেশন-এর রাজ্য সম্পাদক পার্থ ঘোষ সহ বিভিন্ন বামপন্থী দলের নেতারা।