হিতেন-সাহের আলির বিরোধ মেটাতে উদ্যোগী তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব

291

মাথাভাঙ্গা: মাথাভাঙ্গা মহকুমার শীতলকুচি বিধানসভা কেন্দ্রে দলের বিধায়ক তথা বিধানসভা কমিটির চেয়ারম্যান হিতেন বর্মনের সঙ্গে সাহের আলি মিয়াঁর বিরোধ মেটাতে উদ্যোগী হল তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সাহের আলি মিয়াঁকে শোকজ করা হলেও দলের রাজ্য কমিটির নির্দেশে শেষ পর্যন্ত তাঁকে সতর্ক করে এবং দলের বিধানসভা কমিটির চেয়ারম্যানের নির্দেশ মেনে দলের কাজ করার সুযোগ দেওয়া হল। পাশাপাশি তাঁর তৈরি করা চারটি অঞ্চল কমিটি অবৈধ হলে মঙ্গলবার সাংবাদিক সম্মেলন করে জানিয়ে দিলেন দলের কোচবিহার জেলা সভাপতি বিনয়কৃষ্ণ বর্মন।

অভিযোগ, সম্প্রতি দলের নির্দেশ অমান্য করে একতরফা শীতলকুচি বিধানসভা এলাকায় লালবাজার, গোলেনাওহাটি, ছোটশালবাড়ি ও শীতলকুচি অঞ্চলে নিজের অনুগামীদের নিয়ে অঞ্চল কমিটি গঠন করেছিলেন দলের বিধানসভা কমিটির সদস্য দাপুটে নেতা সাহের আলি মিয়াঁ। শীতলকুচির বিধায়ক ও দলের বিধানসভা কমিটির চেয়ারম্যান হিতেন বর্মন বিষয়টি নিয়ে দলের কোচবিহার জেলা সভাপতি বিনয়কৃষ্ণ বর্মনের কাছে অভিযোগ জানালে গত ২২ মে সাহের আলি মিয়াঁকে শোকজ করেন জেলা সভাপতি। যথাসময়ে শোকজের উত্তরও দেন সাহের আলি মিয়াঁ। শীতলকুচিতে সাহের আলি মিয়াঁকে নিয়ে শেষ পর্যন্ত দল কি সিদ্ধান্ত নেয় সেদিকে তাকিয়ে ছিল রাজনৈতিক মহল।

- Advertisement -

বিশেষ করে গত লোকসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরবর্তী পর্যায়ে শীতলকুচি ব্লকের অধিকাংশ অঞ্চলে কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়ে তৃণমূল। বেশ কয়েকটি গ্রাম পঞ্চায়েতের দখল নেয় বিজেপি। শুধু তাই নয়, দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সিকেও সে সময়ে শীতলকুচি যেতে গিয়ে জটামারি থেকেই বিজেপি কর্মী সমর্থকদের বাধায় ফিরে যেতে হয়। সেই পরিস্থিতিতে সাহের আলি মিয়াঁর নেতৃত্বে প্রতিরোধ গড়ে ওঠে। সেসময় হিতেন বর্মন ও সাহের আলি মিয়াঁকে নিজেদের তিক্ততা ভুলে একসঙ্গে কর্মসূচিতে অংশ করতে দেখা যায়। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতেই ফের গোষ্ঠী কোন্দল শুরু হয় শীতলকুচিতে। সামনেই বিধানসভা নির্বাচন তাই সাহের আলি মিয়াঁকে নিয়ে দল কি সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকে নজর ছিল দলের কর্মী-সমর্থকদেরও।

মঙ্গলবার মাথাভাঙ্গা শহরে সাংবাদিক সম্মেলন করে দলের কোচবিহার জেলা সভাপতি বিনয়কৃষ্ণ বর্মন জানান, সাহের আলি মিয়াঁ শোকজের যে উত্তর দিয়েছেন তা দলের রাজ্য কমিটিতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। রাজ্য কমিটির সভাপতি সুব্রত বক্সি নির্দেশ দিয়েছেন সাহের আলি মিয়াঁকে দলের কাজ করার সুযোগ দেওয়া হবে তবে তাঁকে দলের বিধানসভা কমিটির চেয়ারম্যান হিতেন বর্মনের নির্দেশ মেনে চলতে হবে তাঁকে অসম্মান করা চলবে না এবং সাহের আলি মিয়াঁ শীতলকুচি ব্লকে যে চারটি অঞ্চল কমিটি গঠন করেছেন তা অবৈধ বলে ঘোষণা করা হল।

এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে হিতেন বর্মন বলেন, ‘দল যা সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটাই চূড়ান্ত।’ শীতলকুচিতে দলের গোষ্ঠী কোন্দল প্রসঙ্গে হিতেনবাবু বলেন, ‘সাহের আলি মিয়াঁর সঙ্গে আমার কোনও সংঘাত নেই। আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি তবে দলের নির্দেশ অমান্য করে তিনি একতরফা অঞ্চল কমিটি ঘোষণা করায় আমাকে অভিযোগ জানাতে হয়েছে।’

অপরদিকে, সাহের আলি মিয়াঁ বলেন, ‘দলের যা সিদ্ধান্ত তা মেনে চলতে হবে।’ তবে তিনি বলেন, ‘লোকসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরবর্তী সময়ে এলাকা দখল করত গত অগাস্ট মাসে অঞ্চল কমিটি গঠন করতে হয়েছিল।’ নতুন করে কোনও কমিটি গঠন করা হয়নি বলেও জানান সাহের আলি মিয়াঁ। দলের বিধানসভা কমিটির চেয়ারম্যান হিতেন বর্মনের নির্দেশ মেনে চলার প্রসঙ্গে সাহের আলি মিয়াঁ বলেন, ‘আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল করি তাই তাঁর নির্দেশ মেনে চলব, কোনও ব্যক্তির নির্দেশ নয়। আর তাই শীতলকুচিতে দলের গোষ্ঠী কোন্দল আদৌ কমবে কিনা, তা নিয়ে সন্দিহান শীতলকুচি তৃণমূলের দলীয় কর্মী-সমর্থকদের অনেকেই।