কোচবিহারে তৃণমূলের কোন্দল থামাতে পারছেন না বিনয়

133

গৌরহরি দাস, কোচবিহার : কোচবিহারে তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দল থামার কোনও লক্ষণ নেই, বরং দিনদিন তা বাড়ছে। গত লোকসভা ভোটে কোচবিহারে তৃণমূলের ভরাডুবির পেছনে দলের গোষ্ঠীকোন্দল মূল কারণ ছিল বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষণে বারবার উঠে এসেছে, যে কারণে নির্বাচনের পর কোচবিহারে দলের জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ ঘোষকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তাঁর জায়গায় নিয়ে আসা হয় মাথাভাঙ্গার বিধায়ক বিনয়কৃষ্ণ বর্মনকে। এক বছর হতে চলল তিনি জেলা সভাপতি হয়েছেন, তা সত্ত্বেও কোন্দলে রাশ টানা সম্ভব হয়নি। আগামী বছরই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা। তার আগে দলের গোষ্ঠীকোন্দল পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে ওঠায় দলের নীচুতলায় অস্বস্তি বাড়তে শুরু করেছে। যদিও দলে কোনও গোষ্ঠীকোন্দল নেই বলে সংবাদমাধ্যমের কাছে দাবি করেছেন বিনয়বাবু। মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, আমি দলের একজন কর্মী। কোনও গোষ্ঠীবাজির মধ্যে আমি নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ে নির্দেশে শুধু মানুষের জন্য কাজ করে যেতে চাই।

কোচবিহার জেলায় নয়টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে একমাত্র কোচবিহার উত্তর বিধানসভা ছাড়া বাকি আটটিই তৃণমূলের দখলে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতেও আগামী বিধানসভা নির্বাচনে কোচবিহারে দলের ভালো ফল হবে কি না তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন জেলা নেতত্ব। দলের নীচুতলার কর্মীরা মনে করছেন, যেভাবে দিনকে দিন কোন্দল বাড়ছে তা কোচবিহারের মানুষ ভালোভাবে নিচ্ছেন না। উদাহরণ হিসাবে তাঁরা বলছেন, গত লোকসভা নির্বাচনে খাতায়-কলমে বিজেপির থেকে তৃণমূল কয়েক মাইল এগিয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত হারতে হয়েছে। এর পেছনে মূল কারণ দলের গোষ্ঠীকোন্দল। বিনয়কৃষ্ণ বর্মনকে দল পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার পর করোনা পরিস্থিতির কারণে মাঝে কিছুদিন চুপচাপ থাকলেও লকডাউনের রাশ আলগা হতেই ফের দলের গোষ্ঠীকোন্দল মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। পার্থপ্রতিম রায়কে কোচবিহার উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের দায়িত্ব দেওয়ার পর থেকেই সেখানে গত বিধানসভা নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী তথা কোচবিহার-২ ব্লকের প্রাক্তন সভাপতি পরিমল বর্মনের সঙ্গে তাঁর ঠান্ডা লড়াই শুরু হয়েছে। ত্রাণ দেওয়া থেকে শুরু করে রক্তদান শিবির- সব কিছুতেই বিধানসভা কেন্দ্রটিতে দুজনের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছে। একইদিনে কেন্দ্রটিতে দুজনকে আলাদা কর্মসূচি করতে দেখা গিয়েছে। দুজনের মধ্যে যেভাবে ঠান্ডা লড়াই চলছে তাতে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে উভয় গোষ্ঠীর যে কেউ প্রার্থী হলে অন্য গোষ্ঠী থেকে বিরুদ্ধ ভোট দেওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।অন্যদিকে, রবীন্দ্রনাথ ঘোষ ও পার্থপ্রতিম রায়ের বিরোধ কারোরই অজানা নয়। রাজ্য নেতৃত্ব সকলকে একসঙ্গে কাজ করার কথা বারবার বললেও গত এক বছরেও এই দুই হেভিওয়েট নেতার মধ্যে সম্পর্কের এতটুকু উন্নতি হয়নি। পার্থর সঙ্গে এখনও মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষের কথা নেই।

- Advertisement -

দলের জেলা সভাপতি বিনয়কৃষ্ণ বর্মনের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঘোষের সম্পর্ক খুব খারাপ না হলেও ভালো ছিল সেটাও বলা যাবে না। এই অবস্থায় গত মঙ্গলবার নাটাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের জিরানপুর অঞ্চলে তৃণমূলের মূল ও যুব সংগঠনের সভাপতি পরিবর্তন করা নিয়ে রবি ও বিনয়ের মধ্যে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে। এমনকি এই ঘটনাকে কেন্দ্র রবি ঘোষের বিরুদ্ধে পার্থও তোপ দেগেছেন। তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি বিষ্ণুব্রত বর্মনও জানিয়েছেন, অঞ্চলের যুব সভাপতি পরিবর্তন করার বিষয়টি তিনি জানেন না।

কোন্দলের শেষ এখানেই নয়। বিনয়কৃষ্ণ বর্মনের সঙ্গে শীতলকুচির বিধায়ক হিতেন বর্মনের সম্পর্কও খুব ভালো নয়। দলের নেত্রী কল্যাণী পোদ্দারের সঙ্গেও বিনয়ের সাপে-নেউলে সম্পর্ক। পাশাপাশি হিতেন বর্মনের সঙ্গে দলের নেতা সায়ের আলি মিয়াঁ ও নজরুল হকের বিরোধ রয়েছে। দিনহাটাতেও বিধায়ক উদয়ন গুহর সঙ্গে দিনহাটা-২ ব্লকের দলের প্রাক্তন সভাপতি মীর হুমাযুন কবীরের সম্পর্ক অনেকটা আদায়-কাঁচকলায়। মেখলিগঞ্জেও দলের হেভিওয়েট নেতাদের নিজেদের মধ্যে যথেষ্ট কোন্দল রয়েছে। অপরদিকে, দলের প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠনের সভাপতি দেবাশিস করের সঙ্গেও কল্যাণী পোদ্দারের সম্পর্ক খারাপ। সবমিলিয়ে দলের মধ্যে য়ে গোষ্ঠীকোন্দল ভয়াবহ তা পরিষ্কার। অপরদিকে, দলের বর্ষীয়ান নেতা তথা বিধায়ক মিহির গোস্বামীর সঙ্গেও রবিবাবুর সম্পর্ক কোনওদিনই ভালো ছিল না।