পূর্ণেন্দু সরকার, জলপাইগুড়ি : রাজ্যজুড়ে এবার স্থানীয় জীববৈচিত্র‌্যের পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে উদ্যোগী হল পরিবেশ দপ্তর। জীববৈচিত্র‌্যের পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে পিপলস বায়োডাইভার্সিটি রেজিস্টার বা পিবিআর তৈরি করা হবে। পরিবেশ দপ্তরের অধীন রাজ্য বায়োডাইভার্সিটি বোর্ডকে জেলায় জেলায় পিবিআর তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে কোনো সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, এনজিও, টেকনিকাল ইনস্টিটিউশন, পুরসভাও পারবে এই ধরনের পিবিআর তৈরি করতে। তার জন্য অর্থসাহায্য দেবে পরিবেশ দপ্তর। কলকাতা থেকে টেলিফোনে এই খবর দিয়েছেন রাজ্যের পরিবেশমন্ত্রী সৌমেনকুমার মহাপাত্র।

মন্ত্রী জানান, বনজঙ্গলের জীববৈচিত্র‌্য সম্পর্কে জানতে অনেক দপ্তর আছে। বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান আছে। কিন্তু আমরা জানতে চাই, প্রত্যেক জেলায় একেবারে তৃণমূলস্তরে (তা পঞ্চায়েত বা পুরসভা এলাকাও হতে পারে) সেখানকার স্থানীয় জীববৈচিত্র‌্যের কী অবস্থা আছে, কী কী আছে, বর্তমান কী অবস্থা, কী করলে সেখানকার জীববৈচিত্র‌্য সংরক্ষণ করা যাবে। বিভিন্ন জেলায় অনেক জলাশয়, দিঘি, স্বাভাবিক সবুজ বাগান আছে। নদী আছে শহর লাগোয়া গ্রামগঞ্জে। সেগুলির উপর নানাভাবে জনজীবনের চাপ পড়ছে। এমনকি কোথাও প্রচুর গাছ আছে যেখানে পাখি আসে, কিন্তু গাছ কোনো কারণে কাটায় পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। বহু পুকুর, জলাশয়কে আবর্জনায় বুজিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি অনেক জনজাতি আছে যারা প্রকৃতির উপাসক, তাদের এলাকায় তারা স্থানীয় জীব বৈচিত্র‌্য কীভাবে সংরক্ষণ করছে, জঙ্গল থেকে নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে জীববৈচিত্র‌্যের উপর কী প্রভাব পড়ছে- এইসব নিয়ে পিবিআর তৈরি করতে হবে জেলায় জেলায় বলে সৌমেনবাবু জানান।

তবে পুরসভা, গ্রাম পঞ্চায়েত, স্কুল, সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, টেকনিকাল প্রতিষ্ঠান, এমনকি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ছাড়াও ব্যক্তিগত উদ্যোগেও নির্দিষ্ট গাইডলাইন মেনে স্থানীয়স্তরে পিবিআর তৈরি করা যেতে পারে। এই পিবিআর তৈরি করার জন্য ছাপার খরচ, জায়গাটির উপর নজরদারি, সংরক্ষণে প্রচার এবং যাতায়াতবাবদ ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হবে। একটি জেলায় অনেক পিবিআর তৈরি করা হবে। ডিসেম্বরের মধ্যেই পিবিআর জমা নিয়ে স্ক্রুটিনি করে কাজ শুরু করা হবে। এই পিবিআরগুলি মনোনীত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর বা পুরসভা, পঞ্চায়েতের সঙ্গে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে বায়োডাইভার্সিটি বোর্ড আলোচনা করবে। তবে যারা জীববৈচিত্র‌্য নিয়ে কাজ করেছে, যাদের অভিজ্ঞতা আছে তারাই পিবিআর তৈরির জন্য আর্থিক সাহায্য পাবে।

এই বিষয়ে পরিবেশপ্রেমী শ্যামাপ্রাদ পান্ডে জানান, এটা খুব ভালো উদ্যোগ। কিন্তু পিবিআর তৈরির পর উঠে আসা সমস্যাগুলি যাতে দ্রুত মেটানো সম্ভব হয় সেদিকে ব্যবস্থা নিতে হবে। জলপাইগুড়ি সায়েন্স অ্যান্ড নেচার ক্লাবের রাজা রাউত জানান, এই পিবিআর তৈরিতে জীববৈচিত্র‌্যের অনেক বিষয় উঠে আসবে। যেভাবে এখন পরিবেশ ও আবহাওয়ার অনবরত পরিবর্তন হচ্ছে তাতে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে উঠে আসা সমস্যাগুলি দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থা নিতে হবে। পরিবেশমন্ত্রী জানান, এই পিপলস বায়োডাইভার্সিটি রেজিস্টার তৈরি করার কয়েকটি উদ্দেশ্য আছে। যেমন, উঠে আসা স্থানীয় স্তরের জীববৈচিত্র‌্যের রক্ষণাবেক্ষণ ও সংরক্ষণ করা হবে, গবেষণার কাজে আসবে, স্থানীয়স্তরে সাধারণ মানুষকেই নিজের এলাকার জীববৈচিত্র‌্যের সংরক্ষণে সক্রিয়ভাবে শামিল করা ইত্যাদি।