অনুব্রতর জেলায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ

553

সিউড়ি: দাতব্য চিকিৎসালয়ে ভয়াবহ বিস্ফোরণ। ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূমের দুবরাজপুর থানার হেতমপুরে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় চিকিৎসালয়ের দরজা, জানালা কয়েকফুট দূরে গিয়ে পড়েছে। গভীর রাতের এই বিস্ফোরণের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। সেখানে মজুত বোমা থেকেই বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে অনুমান পুলিশের। তবে কারা সেখানে বোমা মজুত করল, তা নিয়ে তদন্তে নেমেছে পুলিশ।

হেতমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের চম্পানগরী গ্রামে রয়েছে ওই চিকিৎসালয়টি। ২০০৮ সালে গ্রামের মানুষের দানের জায়গায় পঞ্চায়েতের তরফে একটি দাতব্য চিকিৎসালয় গড়ে তোলা হয়। সেখানে দুটি ঘর নির্মাণ করা হয়। লকডাউনের পর থেকে ওই দাতব্য চিকিৎসালয়ে আসা বন্ধ করে দেন চিকিৎসকরা। ফলে চিকিৎসকের ঘর ছিল বন্ধ। অন্য ঘরের চাবি থাকত স্থানীয় বাসিন্দা শেখ হানিফের কাছে। ফলে ভিতরে বোমা মজুত থাকলে তার সঙ্গে হানিফ যুক্ত থাকতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ।

- Advertisement -

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর দেড়েক আগে ক্ষমতা প্রদর্শনের নামে গ্রামের তৃণমূল নেতা আলিম মোল্লার সঙ্গে পাশের গ্রাম রসুলপুরের বাবলু শেখ ওরফে কায়ুমের মধ্যে বিবাদ বাধে। তাঁরা নিজেদের মধ্যে বোমাবাজি করে এলাকাকে সন্ত্রস্ত করে তুলেছিলেন। বেশ কয়েজন জখম হয়েছিলেন। গ্রেপ্তার হয়েছিলেন দুই তৃণমূল নেতাই। দাতব্য চিকিৎসালয়ের যিনি চাবি রাখতেন সেই হানিফের ঘনিষ্ঠ। ফলে পুলিশের সন্দেহের তালিকায় তিনিও রয়েছেন।

যদিও বাবলু শেখ বলেন, ‘তিনি অন্য গ্রামে থাকেন। অহেতুক আমাকে এবিষয়ে জড়ানো হচ্ছে। আমি সাতেপাঁচে থাকি না।’ স্থানীয় বাসিন্দা জিল্লু রহমান বলেন, ‘দাতব্য চিকিৎসালয়ের পাশেই আমার পুকুর। বোমার শব্দ শুনে ভাবলাম কেউ বোমা ফাটিয়ে পুকুরে মাছ ধরছে। গিয়ে দেখি দাতব্য চিকিৎসালয়ের অর্ধেক অংশ উড়ে গিয়েছে। এরপর কাউকে না বলে বাড়িতে এসে শুয়ে পড়ি।’ এদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান দুবরাজপুর থানার পুলিশ। দূর্গাপুর থেকে বোমা বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে।