ইউরোপের পরিযায়ীরা ডানা মেলছে গজলডোবায়

219

গজলডোবা : সুদূর ইউরোপ থেকে কয়েক হাজার মাইল পেরিযে আসা নতুন এক ছোট্ট প্রজাতির পরিযায়ী পাখির প্রথমবার দেখা মিলল গজলডোবার তিস্তা জলাশয়ে। লেসার স্যান্ড ক্লোভার নামে ছোট্ট প্রজাতির এই পরিযায়ী পাখিটিকে এবারই প্রথম গণনায দেখা গিয়েছে বলে Aহিমালয়ান নেচার অ্যান্ড অ্যাডভেঞ্চার ফাউন্ডেশনের মুখপাত্র অনিমেষ বসু জানিয়েছেন।

রাজ্যের বন দপ্তরের উদ্যোগে এবং ন্যাফ ও অন্য আরও কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সহযোগিতায় গত ১১ জানুযারি গজলডোবার তিস্তা জলাভূমিতে বার্ষিক পরিযাযী পাখি গণনা চলে। রাজ্যের বন্যপ্রাণ দপ্তরের প্রধান মুখ্য বনপাল বিনোদকুমার যাদব ও অন্য বনাধিকারিকদের নেতৃত্বে সাতটি দল এই গণনায় অংশ নিয়েছিল। ঘন কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কম থাকায় গণনাকারীদের প্রচণ্ড অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়েছে বলে অনিমেষ বসু জানিয়েছেন। তবু গজলডোবায় এবার সাত হাজারের বেশি পরিযায়ী পাখি রেকর্ড করা হয়েছে। প্রজাতির বিচারে সংখ্যাটি ৬২। পরিযায়ী পাখির মধ্যে তিনটি ফ্যালকেটেড ডাক, নর্দার্ন পিনটেল, ইউরেশিয়ান ওয়াইজেন, নর্দার্ন শোভেলার গ্যাড ওয়াল, স্পেসিফিক গোল্ডেন ক্লোভার ছাড়াও আরও বহু প্রজাতির পাখি এবারও গজলডোবায় দেখা গিয়েছে।পাশাপাশি ফুলবাড়ি ব্যারেজে অন্যান্যবারের তুলনায় পাখি ও প্রজাতি দুটোর সংখ্যাই বৃদ্ধি পেয়েছে।

- Advertisement -

গজলডোবার পাখিবিতান নিয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন, রাজ্যের প্রধান মুখ্য বনপাল (বন্যপ্রাণ) বিনোদকুমার যাদব। তিনি বলেন, ‘গজলডোবায় পরিযায়ী পাখি নিয়ে সচেতনতা প্রচারের পাশাপাশি স্থানীয় মাঝিদের বিশেষ প্রশিক্ষণের বন্দোবস্ত করা হবে। পর্যটন দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে পাখিবিতানকে আরও সুন্দর করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী ২ ফেব্রুযারি আন্তর্জাতিক জলাভূমি দিবস পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে পাখি গণনা চলবে বলে তিনি জানান। বন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৪ জানুযারি থেকে ১৯ জানুযারি পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের জলঢাকা, মূর্তি, গরুমারা, জলদাপাড়া, নারারথলি, তোর্ষা নদীর চর, রসিকবিল প্রভৃতি জলাভূমিতে পাখি গণনা চলবে। গজলডোবার পাখি গণনায় অনিমেষ বসু ছাড়াও কলকাতার প্রকৃতি সংসদের সহ সম্পাদক অপূর্ব চক্রবর্তী, দার্জিলিং গভর্নমেন্ট কলেজের অধ্যাপক ডঃ প্রান্তিক হাজরা অংশ নিয়েছিলেন।

অনিমেষবাবু বলেন, ‘স্থানীয় এলাকায় লাগাতার প্রচার চালিয়ে গজলডোবার জলাশয়গুলোর ১০ বর্গ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পাখি বিতানকে পরিযায়ীদের জন্য নিরাপদ শীতকালীন আবাসস্থলে পরিণত করা গিয়েছে। শুধুমাত্র পাখির টানেই বহু মানুষ প্রতিদিন গজলডোবায় ছুটে আসছেন। এর ফলে একদিকে যেমন এখানকার মাঝিদের আয় বাড়ছে তেমনই উপকৃত হচ্ছেন স্থানীয় ব্যবসাযীরা।

তথ্য ও ছবি- অনুপ সাহা