পায়রা-বাদুড়ের জন্য নিজের ঘর ছেড়ে দিয়েছেন পাখিপ্রেমিক পুলিন রায়

85

শান্ত বর্মন, জটেশ্বর: পেশা ছিল শিক্ষকতার। কিন্তু ছাত্র পড়ানোর পাট চুকিয়ে অবসর সময়ে দিন কাটছিল না পুলিন রায়। অবসরে জীবনে কি করবেন সেই ভাবনায় নিজেকে ডুবিয়ে রাখতেন সবসময়। শুরু হয় নতুন  ভাবনার। বাড়িতেই থাকা পায়রা ও বাদুড়কে নিয়ে শুরু করেন পথচলা। সারাদিন অন্যান্য কাজের ফাঁকে পায়রাদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে আনন্দ পান পুলিনবাবু। যার ফলে নিজের বাড়ির আস্ত দুই তলার ঘরকে পায়রা ও বাদুরের বাসস্থান করে দিয়েছেন। নিজে অন্য একটি ঘরে বসবাস করছেন তিনি, ২০১২ সালে প্রমোদ নগর উচ্চবিদ্যালয় থেকে অবসর নেন বাংলার শিক্ষক পুলিন রায়। অবসর জীবনে নিজেকে পাখী প্রেমিক হিসেবে মানুষ হিসেবে। ওই শিক্ষকের একমাত্র দোতলা ঘরের চিলেকোঠায় থাকা পায়রা নিয়ে শুরু করেন  নতুন জীবন। পায়রা কে ভালোবেসে লালন পালন শুরু করেন ২০১২ সাল থেকেই। সম্প্রতি ওই দোতলা ঘরের আনাচে কানাচে দেখা মেলে শুধুই বাদুর আর পায়রার।

পুলিন বাবুর পরিবারের তরফে জানাগেছে পায়রা লালন পালন করতে শুরু করায় দোতলা ঘরের দখল নেয় বন্য বাদুরও দোতলার চিলেকোঠায় বংশবৃদ্ধি ঘটতে থাকে বাদুরের সঙ্গে পায়রারও। ধীরে ধীরে গোটা দোতলা ঘরটিই দখল নেয় বাদুর ও পায়রা।কিন্তু কখনও সেই বাদুর কিংবা পায়রা কে তাড়িয়ে দেননি তিনি। উল্টে তাদের ভালোবেসে দুবেলা নিয়ম করে খেতে দেন ওই শিক্ষক। যার ফলে পায়রার ঝাঁকও তাদের মনিবকে ছেড়ে যান নি কখনও। বাধ্য হয়েই আস্ত দোতালা কাঠের ঘর পায়রা ও বাদুরের জন্যেই ছেড়ে দিয়েছেন পুলিন বাবু। যার ফলস্বরুপ অবসর জীবনে নিজের অজান্তে হয়ে উঠেছেন একজন পাখিপ্রেমী হিসেবে। পুলিন রায় বলেন, ‘সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পাখিরা আমার আপন হয়ে গেছে, তাতে আমার কোন আপত্তি নেই তাদের যতদিন ইচ্ছে ওরা থাকুক।ওদের সঙ্গে নিয়েই কাটুক জীবনের বাকি কটা দিন।’

- Advertisement -