আলো আর বাজির দূষণে পাখি কমছে শিলিগুড়ির আকাশে

448

শিলিগুড়ি : অত্যাধুনিক আলোর তীব্রতা এবং আতশবাজির মাত্রাতিরিক্ত দূষণে দীপাবলিতে শিলিগুড়ির আকাশে পাখির দেখা মিলছে না। শান্তির নীড় খুঁজতে শহর ছাড়িয়ে গ্রামের পথ ধরেছে পাখির দল। প্রশ্ন উঠছে, উত্সব শেষে তারা ফিরে আসবে কি? ফেরার কিছুটা সম্ভাবনা থাকলেও পরিস্থিতির পরিবর্তন অত্যন্ত প্রয়োজন হযে পড়েছে। অন্যথায় শহরে পাখির ডাক আর শোনা যাবে না বলে মনে করছেন বার্ড ওয়াচার-পরিবেশপ্রেমীরা। তাঁরা পরিবেশরক্ষায় রাজনৈতিক জনজাগরণ প্রয়োজন বলেও মনে করেন।

এখন জন অরণ্যে পাখির দেখা পাওয়া দুষ্কর। নগরায়ণের ধাক্কায় গাছের সংখ্যা যেমন কমেছে, তেমনই হারিয়ে গিয়েছে শালিক, টিয়া, ময়নারা। শীতের শুরুতে যেমন পাড়ায় পাড়ায় বেনেবউয়ের ডাক বা চড়াইয়ের কিচিরমিচির শোনা যাচ্ছে না, তেমনই আলোর উত্সবে দেখা মিলছে না পায়রা বা কাকেরও। সব প্রজাতির পাখিই যেন শহরের আস্তানা ছেড়ে উড়ে গিয়েছে। এর কারণ হিসেবে জানা গিয়েছে, দীপাবলি উপলক্ষ্যে কালীপুজোর মণ্ডপ থেকে বাড়ির দেয়াল- এলইডি আলোর ব্যবহার সর্বত্রই। এই আলোর তীব্রতা এতটাই বেশি যে তা পাখির পক্ষে ক্ষতিকর। পাশাপাশি এই সময় শহরে দেদারে নিষিদ্ধ শব্দবাজির সঙ্গে আতশবাজি ব্যবহৃত হওযায় বাযুদূষণও বেড়ে যায়। ফলে জীবনসংশয দেখা দেওয়ায় পাখির দল শহর ছেড়ে গ্রামে চলে গিযেে বলে পক্ষী বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। শিলিগুড়ির প্রবীণ বার্ড ওয়াচার অমিত মুন্সির বক্তব্য, গাছের সংখ্যা কমে যাওয়ার পাশাপাশি কাঁচা নর্দমার পরিবর্তে সর্বত্র কংক্রিটের ড্রেন হওয়ায় খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে। ফলে অনেকদিন ধরেই শহরে পাখির সংখ্যা কমে যাচ্ছে। কিন্তু দু-তিনদিন ধরে একদম পাখির দেখা না মেলার কারণ আলোর ঝলকানি ও বায়ুদূষণ। এ ব্যাপারে নকশালবাড়ি গ্রামীণ হাসপাতালের হেলথ কাউন্সিলার ও বার্ড ওয়াচার অন্তরা পাল বলেন, সকালে ধোঁয়ার লেয়ার দেখলেই বোঝা যায় এখন শহরে দূষণ কতটা বেড়েছে। এখানে অ্যান্টি ক্র‌্যাকার র‌্যালি হয়েছে, নানাভাবে সচেতনতার বার্তা দেওযা হচ্ছে। কিন্তু অস্বাভাবিক বাজি পোড়ানোর প্রবণতা কিছুতেই বন্ধ করা যাচ্ছে না। পাখি থাকবে কী করে? বার্ড ওয়াচার পার্থ মুখোপাধ্যায়ও মনে করেন শব্দবাজির ভযে শহর থেকে পাখির দল গ্রামে আশ্রয় নিয়েছে। তাঁর মতে, এমন চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে পাখি দেখা পাওয়া দুষ্কর হয়ে দাঁড়াবে। তবে এই প্রবণতা বন্ধের জন্য রাজনৈতিক জনজাগরণ প্রয়োজন বলে বিশিষ্ট পক্ষী বিশেষজ্ঞ অরবিন্দ দেবনাথ মনে করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে সব কিছুই রাজনৈতিক নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। তাই দূষণরোধ এবং পক্ষীকুলকে বাঁচানোর ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলির এগিয়ে আসা অত্যন্ত প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।

- Advertisement -