কুলিক পক্ষীনিবাসে শুরু পাখি গণনা

145

রায়গঞ্জ: এশিয়া মহাদেশের বৃহত্তম রায়গঞ্জের কুলিক পক্ষীনিবাসে মঙ্গলবার থেকে শুরু হল পরিযায়ী পাখি গণনা। এদিন সকাল ৭টা থেকে পাখি গণনা শুরু হয়। বুধবার পর্যন্ত তা চলবে। বনদপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত পাখি গণনায় উত্তর দিনাজপুর পিপল ফর এনিম্যালস, রায়গঞ্জ পিপল ফর এনিম্যালস, ফোটোগ্রাফি ক্লাব, এইচএমটিএ, হেমতাবাদ জনকল্যাণ সমিতি সহ বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা অংশ নিয়েছেন। প্রথম দিনের পাখি গণনায় উপস্থিত ছিলেন কুলিক পক্ষীনিবাসের রেঞ্জার প্রমিতা লামা, বিট অফিসার বরুণ সাহা, এআরও মধুমিতা পাত্র সহ অন্যরা।

বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, গণনা কর্মীরা প্রথমে প্রতিটা গাছে নম্বর দেবেন। দ্বিতীয় ধাপে প্রতিটি গাছে ক’টা করে পাখির বাসা আছে সেটা গুনবেন। পক্ষীনিবাসে ১১৩৪টি বড় গাছ আছে।

- Advertisement -

২০১৮ সালে পরিযায়ী পাখির সংখ্যা (৯৮,৫৬২) রেকর্ড বৃদ্ধি পেয়েছিল বলে কুলিক এশিয়া মহাদেশের বৃহত্তম পক্ষীনিবাসের স্বীকৃতি পায়। যদিও তার পরের বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালে পাখির সংখ্যা কিছুটা কমে যায়। তবে ২০২০ সালে পাখি সংখ্যা (৯৯,৬৩১) আগের রেকর্ডকে ছাপিয়ে যায়। গণনা কর্মীদের আশা, এবার কুলিক পক্ষীনিবাসে পরিযায়ী পাখির সংখ্যা এক লক্ষ ছাড়িয়ে যাবে।

কুলিক পক্ষীনিবাসের রেঞ্জার প্রমিতা লামা বলেন, ‘এদিন থেকে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মেনে গণনা শুরু হয়েছে। বনকর্মীদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলিও এতে যোগ দিয়েছে। আমাদের আশা, এবছর পাখির সংখ্যা বাড়বে।’

বনকর্মীদের বক্তব্য, দূষণ বেড়ে যাওয়ায় গত কয়েক বছরে পরিযায়ী পাখির সংখ্যা কমে গিয়েছিল। কিন্তু গত বছর লকডাউনের জেরে দূষণ কমায় বদলে যায় পরিস্থিতি। এবছরও কার্যত লকডাউন থাকায় দূষণ সেভাবে হয়নি। ফলে এবার আরও বেশি সংখ্যক পরিযায়ী পাখি আসবে বলে মনে করছেন তাঁরা।

পরিবেশকর্মী গোপাল মিত্র বলেন, ‘এবছর কুলিক পক্ষীনিবাসে পরিযায়ী পাখির সংখ্যা এক লক্ষ ছাড়িয়ে যাবে।’