অনুুপ্রেরণার বার্তা দেয় বিশেষভাবে সক্ষম এই ১০ কৃতি ছাত্রছাত্রী

512

সুনীল রায়, বীরপাড়া: শ্রবণশক্তি হারালেও চোখে রয়েছে অন্তহীন স্বপ্ন। অদ্যম ইচ্ছেশক্তি দিয়ে জয় করে নিতে চায় তাদের নিজেদের স্বপ্নকে। মেধাতালিকায় না থাকলেও চলতি বছরের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে উর্ত্তীর্ণ দশ ছাত্রছাত্রী অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছে অনেককেই।

মাধ্যমিকে দেশবন্ধুনগর হাইস্কুলের দিলীপ পেয়েছে ৩৬০। গোঁসাইরহাট রাজারামমোহন হাইস্কুলের বৈদ্যনাথ রায় ৩৫৬। ধুপগুড়ি হাইস্কুলের জিয়ারুল আলম ৩৩৮। বিরবীরসা মুন্ডা হাইস্কুলের বাবলি বেগম ৩১৬ ও ময়নাগুড়ি রোড হাইস্কুলের অন্তরা দত্ত ২৫৭ নম্বর পেয়েছে।

- Advertisement -

অন্যদিকে উচ্চমাধ্যমিকে বেগম রাবেয়া খাতুন হাইস্কুলের ফেরদৌসী বেগম ২৪৪। গয়েরকাটা হাইস্কুলের বাপ্পা শৈব ২১৩। ধাপিদেবী বালিকা বিদ্যালয়ের তানিয়া রায় ২০২। খগেনহাট নাথুনী সিং হাইস্কুলের জলেশ্বর রায় ২১৩ ও আকরাম আলী ২২৭।

যাদের কথা বলা হচ্ছে তারা প্রত্যেকেই বিশেষভাবে ক্ষমতাসম্পন্ন। কিন্তু এই প্রতিবন্ধকতাকে তারা জয় করে ফেলেছে ছোট থেকেই। এই ১০ জনের পাশে দাঁড়িয়েছে খগেনহাট ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন নামে একটি সংস্থা। ওই সংস্থার উদ্যোগে ও বাড়ির উৎসাহে প্রত্যেকেই ছোটো থেকে সাধারণ স্কুলেই পড়াশুনা করে এসেছে।

এরা কিন্তু কেউই সচ্ছল পরিবারের সন্তান নয়। এদের বাবা মায়েরা কেউ দিন মজুর করেন। কেউবা গাড়ির চালক। আবার কেউবা সামান্য জমিতে চাষবাস করেন। তাই সন্তানদের এই সাফল্যে গর্বিত তাঁদের বাবা মায়েরাও। খগেনহাট ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের সম্পাদক লক্ষিকান্ত রায় বলেন, আজ আমরা গর্বিত। আমাদের প্রচেষ্টা সফল হয়েছে।

লক্ষিবাবু বলেন প্রথমে যখন এই পড়ুয়ার বাবা মায়েদের কাছে স্কুলে ভর্তির জন্য বলেছিলাম, সেসময় কেউ রাজি ছিলেন না। অভিভাবকদের ধারণা ছিল। তারা কোনো দিন আর পাঁচটা ছেলে মেয়েদের মতো হবে না। তাই অনেক বুঝিয়ে সুজিয়ে একপ্রকার জোর করেই এদের নিজনিজ এলাকার স্কুলে ভর্তি করে দিয়েছিলাম।

শিক্ষাকর্মীরা তাদের বাড়ি ও বিদ্যালয়ে গিয়ে ভারতীয় ইশারা ভাষার টিএলএম এর মাধ্যমে সহজে পাঠ্য পুস্তক এর বিষয়ে বোঝানো যায় সেই বিষয়ের ওপর তাদের পড়ানো হয়েছে। তাদের বিদ্যালয় শিক্ষক শিক্ষিকারা তাদেরকে ভালো গাইড করেছে। তবে তাদের যেন ভর্তির ক্ষেত্রে কোনো বাঁধা না হয়ে দাঁড়ায় তার জন্য তাদের সবরকমের সাহায্য করা হবে বলে লক্ষিবাবু জানান।