দুর্গাপুজো নয়, পেটপুজো নিয়ে ভাবছে বন্ধ বীরপাড়া চা বাগান

416

মোস্তাক মোরশেদ হোসেন, বীরপাড়া: ছেলে-মেয়েদের জন্য নতুন জামাকাপড় তো দূরের কথা, পুজোয় যে দু’টো বেলুন বা বাঁশি কিনে দেবেন, তেমন সামর্থ্যও নেই কাঁচা লাইনের বাসিন্দা বন্ধন নায়েকের! উপার্জনের মূল পথই তো বন্ধ এক বছর ধরে। তাই পুজোর আগে জামাকাপড় কেনা তো দূরের কথা, এবছর দেবীর বোধনের দিনটা কবে, সেটাও জানেন না বন্ধন। পুজো নিয়ে ভাবার সাহস নেই বদিবাড়ি লাইনের বাসিন্দা সোনামতি রাউতিয়ারও। বাগান বন্ধ হওয়ার এক বছর হল। আলিপুরদুয়ার জেলার বীরপাড়া চা বাগানের মূল দু’টি ডিভিশনের আড়াই হাজারেরও বেশি শ্রমিক কর্মচারির মুখে তাই পুজোর মুখেও হাসি নেই। নতুন জামা-কাপড় নয়, পুজোর আগে রুজি নিয়েই ভাবছেন তাঁরা!

অথচ, বাগানটা যখন খোলা ছিল, দিনগুলি ছিল অন্যরকম। পুজোর আগে বোনাস পেয়ে কেনাকাটায় হামলে পড়তেন ওই চা বাগানের শ্রমিক কর্মচারীরা। উৎসবে মেতে ওঠা চা বাগানের শ্রমিক মহল্লাগুলি ‘ম’ ‘ম’ করত হাঁড়িয়ার সুবাসে! কিন্তু বাগান বন্ধ হওয়ার পর থেকেই  চিত্রটা পালটে গিয়েছে। এখন কাঁচা চা পাতা তুলে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতে হচ্ছে ওদের। এক কেজি কাঁচা পাতা তুললে মিলছে দশ টাকা। তাই অনেকেই ছুটছেন নদী থেকে বালি-বজরি তুলতে। কিন্তু অনেকের বরাতেই জোটে না সেই কাজ। রুজির সংস্থানে যারা ভিনরাজ্যে পাড়ি দিয়েছিলেন, লকডাউন শুরু হওয়ার পর তাঁরাও ঘরে ফিরেছেন। ফলে আরও বেড়েছে সমস্যা।

- Advertisement -

মূলত সমস্যা শুরু হয়েছিল গত বছরের সেপ্টেম্বর মাস থেকেই। হপ্তার পর হপ্তা মাইনে বকেয়া পড়ছিল শ্রমিকদের। একসময় পথে নেমে আন্দোলন শুরু করেন শ্রমিক কর্মচারীরা। অক্টোবর মাসে কাউকে কিছু না জানিয়েই বাগান থেকে পাততাড়ি গোটায় ডানকান টি কোম্পানি। এরপরই আঁধার নেমে আসে বাগানে। ওই বাগানের জটেশ্বর ডিভিশনের অবস্থা অবশ্য অপেক্ষাকৃত ভালো। শ্রমিকরা কাঁচা পাতা তুলে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করলেও এবছর নিজেরাই বোনাসের ব্যবস্থা করেছেন। কিন্তু বোনাস জোটেনি এনজি ডিভিশন এবং ওজি ডিভিশনের আড়াই হাজারেরও বেশি শ্রমিক কর্মচারির বরাতে।

কর্মহারা শ্রমিক বিসনি টোপ্পো বলেন, পুজো বলতে আমরা এখন একটা পুজো নিয়েই ভাবছি। তা হল পেটপুজো। পলেস্তারা খসে পড়া, দেওয়ালে ফাটল ধরা শ্রমিক আবাসনের বারান্দায় বসে মোটা চালের ভাত দিয়ে গপগপিয়ে ভাত খাচ্ছিল কাঁচা লাইনের বাসিন্দা মীরাজ নায়েকের তিন শিশুসন্তান। ওদের মা সেদিন ডিমের তরকারি রেঁধেছিল। ডিমের ঝোল আর ভাত দেখেই এখন ওদের চোখ চকচক করে ওঠে! মাটন, চিকেন ওদের কাছে এখন স্বপ্নের সমান!