নবান্ন উপলক্ষ্যে বিষহরি পুজো রায়গঞ্জে

67

রায়গঞ্জ: নবান্ন উৎসবে মেতেছে গ্রাম বাংলার পরিবারগুলি। গত বছর করোনার কারণে নবান্নকে কেন্দ্র করে মনসা পুজো নিয়ে ব্যস্ততা চোখে না পড়লেও এবছর ঐতিহ্য ও রীতি মেনে গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ পরিবারে শুক্রবার সকাল থেকে পুজোর ব্যস্ততা চোখে পড়ল। রায়গঞ্জের শেরপুর, বিরঘই, বরুয়া, মাড়াইকুড়ায় চোখে পড়ে উৎসবের আমেজ। ধর্মডাঙ্গি, মহাদেবপুর, শাকধুয়া, উত্তর রুপাহার সহ বিভিন্ন জায়গায় এদিন বিষহরি পুজো হয়। পুজোকে কেন্দ্র করে বলিপ্রথা এখনও প্রচলিত রয়েছে। তবে বলিপ্রথা বন্ধ করে পুরোনো ঐতিহ্যকে ধরে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন পশুপ্রেমী সংস্থার সদস্যরা।

প্রতি নবান্নতে মনসা পুজো ও মনসা গান সেখানকার রাজবংশী সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি। ঘরে ঘরে নতুন ফসল আসার পর সাপের আগমণ ঘটে। তাই সর্প দংশনের হাত থেকে রক্ষা পেতে, প্রজনন ও ঐশ্বর্য লাভের উদ্দেশ্যে বিষহরি পুজোয় মাতেন এলাকাবাসী। আবার অনেকে বলেন, শ্রাবণ মাসে মনসা পুজোর সময় হাতে সেভাবে টাকা থাকে না। তাই সেইসময় নামেমাত্র পুজো সারতে হয়। অগ্রহায়ণ মাসে নতুন ফসল উঠলে প্রত্যেকের হাতে টাকা আসায় তাঁরা মনসা পুজোয় মেতে উঠেন। পুজোর পর প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। পাশাপাশি এদিন বিরঘই অঞ্চলে রাসপূর্ণিমা উপলক্ষ্যে বসেছে মেলা ও নাম সংকীর্তনের আসর। উত্তর রুপাহারের আর এক রাসমেলার উদ্যোক্তা বাবলু দাস জানান, প্রায় ৫২ বছর ধরে রাসপূর্ণিমা উপলক্ষ্যে এখানে মেলা বসছে।

- Advertisement -