করোনাকালে স্বমহিমায় পুজিত হলেন সম্প্রীতির দেবী বিষহরি মাতা ঠাকুরানী

0
142
- Advertisement -

গাজোল: আজ থেকে প্রায় শ-পাঁচেক বছর আগে গাজোল ব্লকের ময়নাতে শুরু হয়েছিল বিষহরি মাতা ঠাকুরানীর পুজো। সেই সময় এই এলাকা ছিল ঘন জঙ্গলে পরিপূর্ণ। শোনা যায় মারনাই-এর জমিদার শশীভূষণ রায়চৌধুরী এই পুজোর প্রচলন করেছিলেন। পরবর্তীকালে ওই এলাকায় বসবাসকারী রাজবংশী সম্প্রদায়ের হাতে পুজোর ভার অর্পণ করেন তিনি।

সেই থেকে ওই সম্প্রদায়ের মানুষেরা এই পুজোর দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তবে শুধু হিন্দুরাই নয় মুসলমানরা ও পরম শ্রদ্ধা ভরে পুজো করে থাকেন এই দেবীকে। প্রসাদ হিসেবে তাঁরা মাকে নিবেদন করেন হাঁসের ডিম এবং বাতাসা। প্রতিবছর নিয়মনিষ্ঠা সহকারে পাঁচ দিন ধরে চলে পুজো। নিয়ম মেনে ২ রা কার্তিক ছাগ, পায়রা এবং হাঁস বলির মধ্যে দিয়ে শেষ হয় পুজো।
পুজোকে কেন্দ্র করে এলাকায় বসে বিশাল মেলা। প্রতিদিন রাতে পরিবেশিত হয় মনসামঙ্গল উপাখ্যান। কিন্তু এবার করোনা পরিস্থিতির জন্য মেলা বাতিল করা হয়েছে। সামান্য সময়ের জন্য পরিবেশিত হয়েছে মনসামঙ্গল উপাখ্যান। করোনা সম্পর্কিত নিয়মকানুন মেনেই এবার ভক্তরা পুজো দিয়েছেন মায়ের।

এদিন পুজো কমিটির সম্পাদক সুমন্ত সরকার বলেন, ‘বাপ ঠাকুরদার মুখ থেকে তাঁরা শুনে এসেছেন এই পুজোর কথা। কথিত আছে ৫০০ বছরেরও আগে মারনাই-এর জমিদার এই পুজোর প্রচলন করেছিলেন। ঘোড়াতে চেপে তিনি আসতেন পুজো করতে। সেই সময় এই এলাকা ছিল ঘন জঙ্গলে পরিপূর্ণ। এলাকায় বাস করতেন রাজবংশী সম্প্রদায়ের কিছু মানুষ। পরবর্তীকালে তাদের হাতেই এই পুজোর ভার ন্যস্ত করেন জমিদার। সেই থেকে আমরা এই পুজোর দায়িত্ব পালন করে আসছি। তবে এই দেবী খুব জাগ্রত, মনপ্রাণ ঢেলে মায়ের কাছে মানত করলে ভক্তবাঞ্ছা পূর্ণ হয়। তবে প্রথম থেকেই এই পুজো হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের পুজো হিসেবে প্রচলিত হয়ে আসছে। ফলমূল মিষ্টি মিষ্টান্নর সাথে এই পুজোর অন্যতম ভোগ হাঁসের ডিম এবং বাতাসা।‘

মূলত মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষজনেরা ভোগ হিসেবে মাকে হাঁসের ডিম নিবেদন করেন। হিন্দু সম্প্রদায়ের কিছু মানুষও ভোগ হিসেবে হাঁসের ডিম দেন। এছাড়াও যাদের মনষ্কামনা পূর্ণ হয় তারা অনেকে এই মন্দিরে মনসা মূর্তি দান করেন। সেইসব মূর্তিরও পুজো হয়। এবার ২১১ টি মূর্তির পুজো হচ্ছে এখানে। প্রতিবছর নিয়ম-নীতি মেনে পাঁচ দিন ধরে পূজো হয়। ২ রা কার্তিক বলি শেষে শেষ হয় মায়ের পুজো।

তবে এবার করোনা পরিস্থিতির জন্য ভিড় অনেকটাই কম। সরকারি নির্দেশে বাতিল করা হয়েছে মেলা। প্রচলিত রীতিনীতি মেনে সামান্য সময়ের জন্য অনুষ্ঠিত হয়েছে মনসামঙ্গল উপাখ্যান। সমস্ত সরকারি বিধিনিষেধ মেনে শুধুমাত্র পুজোই এবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সোমবার বলিদান পর্ব শেষে মায়ের পুজো শেষ হবে।

- Advertisement -