আমপানের ক্ষতিপূরণ নিয়ে উত্তাল বিষ্ণুপুর ও কুলতলী

327

ক্যানিং: আমপানে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠল দক্ষিণ ২৪ পরগনার দক্ষিণ বিষ্ণুপুর এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত ও কুলতলী এলাকা।

স্থানীয় সূত্রে খবর, বিষ্ণুপুর এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান বিপ্রদাস অধিকারী ক্ষতিপূরণের টাকা নিয়ে শুধু স্বজনপোষণই করেননি, সেই টাকা লুট করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতিগ্রস্তরা ক্ষতিপূরণের টাকা চেয়ে ব্যর্থ হয়েছেন। আর সেই কারণেই এদিন পঞ্চায়েত প্রধান যখন প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়েছিলেন, তখন কোন্নগর গ্রামের কাছে ক্ষতিগ্রস্তরা পঞ্চায়েত প্রধানকে ঘেরাও করে। তারপর টানা ২ ঘন্টা ঘেরাও থাকার পর সর্বদলীয় একটি কমিটি গঠন করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ঘেরা মুক্ত হন। শুধু তাই নয়, তাঁরা সেই এলাকার পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছালে বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসীদের কাছে নিরুপায় হয়ে যায় পুলিশ।

- Advertisement -

অপরদিকে, ওই জেলারই কুলতলী বিডিও দপ্তরে আমপানের ক্ষতিপূরণের জন্য দরখাস্ত জমা দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে হুলুস্থুল বেঁধে যায়। কে আগে দরখাস্ত জমা দেবে, এই নিয়ে চলে হুড়োহুড়ি। এর জেরে পদপিষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হন জনা ২০ গ্রামবাসী। তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আমপানের ক্ষতিপূরণে স্বজপোষণ নিয়ে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে পঞ্চায়েত। টাকা দেয় বিডিও। কিন্তু সেই ক্ষতিপূরণ নিয়ে চরম দুনীর্তি চলছে। তিনি আরও বলেন, ক্ষতিপূরণের কোটি কোটি টাকা লুট হচ্ছে। যাঁরা লুট করছে, তাঁরা কোন দলের নেতাকর্মী সেটা দেখার প্রয়োজন নেই। যদি কোনও বিজেপি নেতৃত্ব সেই কাজে যুক্ত থাকে তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। দিলীপের মতে, দুর্নীতি করলে রেহাই পাবে না কেউই। তিনি যে দলেরই নেতা হন না কেন। তবে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দুর্নীতিগ্রস্তদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। কারণ, ওরা জানে ব্যবস্থা নিতে গেলে ওদের সমস্ত পঞ্চায়েতই উঠে যাবে।