পুরোহিত সংকটে পাঁচালি পড়েই বিশ্বকর্মা পুজো

516

সুভাষ বর্মন, ফালাকাটা: লাগাতার বৃষ্টির জেরে ফালাকাটা জাতীয় সড়কে চরতোর্ষা ডাইভারশন ভেঙে গিয়েছে। এজন্য চারদিন থেকেই ফালাকাটার এক প্রান্তের সঙ্গে অপর প্রান্তের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। এর প্রভাব পড়ল বিশ্বকর্মা পুজোয়। যাতায়াত বন্ধ থাকায় বৃহস্পতিবার পুরোহিতরা সমস্যায় পড়েন। এদিকে পুরোহিত সংকটের জেরে ফালাকাটা ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের কিছু এলাকায় পাঁচালি পড়েই বিশ্বকর্মা পুজো করেন উদ্যোক্তারা।

অনেক বাড়িতেও এদিন পুরোহিত ছাড়া পুজো হয়। এই বেহাল যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে প্রতিমার বিক্রি কম হওয়ায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন মৃৎশিল্পীরাও। একদিকে করোনার ধাক্কা অন্যদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বিশ্বকর্মা পুজোর আয়োজন এদিন অনেকটাই ফিঁকে হয়ে যায়।

- Advertisement -

গত রবিবার ভারী বৃষ্টির কারণে নির্মীয়মাণ ফালাকাটা-সলসলাবাড়ি মহাসড়কের চরতোর্ষা ডাইভারশন জলে ডুবে গিয়েছে। এজন্য গত সোমবার থেকে সড়কপথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে ফালাকাটা ও আলিপুরদুয়ারে। ইতিমধ্যে জলের ধাক্কায় ভেঙে গিয়েছে ডাইভারশনের একাংশ। ভেঙেছে অ্যাপ্রোচ রাস্তাও। জল না কমায় ডাইভারশন সারাই হচ্ছে না। এই কারণে সব থেকে বেশি সমস্যায় পড়েছেন ফালাকাটা-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের উত্তর কালীপুর, দক্ষিণ কালীপুর, বংশিধরপুর সহ মেজবিল, যোগেন্দ্রনগর, পূর্ব কাঁঠালবাড়ি, পশ্চিম কাঁঠালবাড়ি এলাকার কয়েক হাজার মানুষ।

এইসব এলাকার বাসিন্দারা কোনওভাবেই ফালাকাটা শহরে যেতে পারছেন না। যাতায়াতের বিকল্প ব্যবস্থাও নেই। এজন্য মৃৎশিল্পীরা বিপাকে পড়েছেন। কালীপুরের মৃৎশিল্পী যতীন পাল বলেন, ‘এবার বিশ্বকর্মার অনেক প্রতিমা বিক্রি হয়নি। কারণ, ডাইভারশন ভেঙে থাকায় অনেকে প্রতিমা নিতে আসতে পারেননি।’ এজন্য আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন মৃৎশিল্পীরা। পুজোর দিনও পুরোহিত ও পুজোর উদ্যোক্তারা সমস্যায় পড়েন।

রাইচেঙ্গার বেশ কয়েকজন পুরোহিত কালীপুর এলাকায় যজমানির পুজো করেন। পুরোহিত নিখিল চক্রবর্তী বলেন, ‘ডাইভারশনের অপর প্রান্তে বহু বাড়িতে পুজো করি। যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় এদিন আর যেতে পারিনি। করোনার পাশাপাশি এই ধাক্কায় সবার ক্ষতি হল।’ এদিকে পুরোহিত সংকটের জেরে পাঁচালি পড়েই বিশ্বকর্মা পুজো করতে হয় অনেককে। উত্তর কালীপুরের বাবুপাড়ার বাচ্চু অধিকারির কয়েকটি গাড়ি থাকায় বাড়িতেই পুজোর আয়োজন ছিল। বাচ্চুবাবু বলেন, ‘ডাইভারশন ভেঙে থাকায় পুরোহিত আসতে পারেননি। বাধ্য হয়ে আমার মা পাঁচালি পড়েই পুজো করেন।’ আরও অনেক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানেও পাঁচালি পড়ে পুজো সম্পন্ন হয়েছে। এদিকে চরতোর্ষা ডাইভারশন প্রসঙ্গে মহাসড়ক নির্মাণকারী সংস্থার আলিপুরদুয়ার জেলার প্রশাসনিক প্রধান মেহেবুব রহমান এদিনও বলেন, ‘জল কমলেই দ্রুত ওই ডাইভারশন মেরামত করা হবে।’