বাড়ির ছাদে আবহাওয়া অফিস বানিয়েছেন বিশ্বজিৎ

রাহুল দেব, রায়গঞ্জ : আবহাওয়ার খুঁটিনাটি নিয়ে প্রবল আগ্রহ ছিলই। আর সেই আগ্রহ থেকেই বাড়ির ছাদে আস্ত আবহাওয়া অফিস তৈরি করে ফেলেছেন ভূগোলের শিক্ষক বিশ্বজিৎ রায়।

রায়গঞ্জের মোহনবাটি এলাকায় থাকেন বিশ্বজিৎবাবু। ১৯৯৬ সাল থেকে রায়গঞ্জ মোহনবাটি উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। অনেক বছর ধরে পরিবেশ ও আবহাওয়া সংক্রান্ত বিভিন্ন যন্ত্রপাতি বানিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা করে চলেছেন। নিজের বাড়ির ছাদের এক পাশে তৈরি করে ফেলেছেন আস্ত একটা আবহাওয়া অফিস। সেখানে রয়েছে বায়ুর দিক মাপার জন্য বাতপতাকা, বায়ুর গতিবেগ মাপার জন্য অ্যানিমোমিটার, বৃষ্টিপাত মাপার জন্য রেইন গজ, বায়ুর আর্দ্রতা মাপার জন্য হাইগ্রোমিটার, আকাশ পর্যবেক্ষণের জন্য অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল টেলিস্কোপ। তবে এই সবগুলো যন্ত্রই তিনি নতুনভাবে নিজের মতো করে বানিয়েছেন। তাঁর এই প্রয়াসকে সাধুবাদ জানিয়েছেন দক্ষিণ দিনাজপুরের মাঝিয়ান আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের নোডাল অফিসার জ্যোতির্ময় কারফর্মা। তিনি বলেন, উনি চাইলে আমরা সহযোগিতা করতে রাজি আছি। এর ফলে মানুষের কাছে আবহাওয়া সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য আরও নিখুঁতভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

- Advertisement -

বিশ্বজিৎবাবু জানান, বাতাস কোন দিক থেকে কোন দিকে প্রবাহিত হচ্ছে, তা বাতপতাকা দিয়ে নিখুঁতভাবে বোঝা যাবে। বাতাসের গতিবেগ মাপার জন্য বোল্ট থ্রেড অ্যানিমোমিটার বানিয়েছি। এই অ্যানিমোমিটারের মধ্যে চারটি প্লেট একটি বড় আকারের নাটবল্টুর মধ্যে সেট করা আছে। বাতাস প্রবাহিত হলে প্লেটগুলি ঘোরার সঙ্গে সঙ্গে নাটবল্টুর ভিতরের দিকে অগ্রসর হয়। এর ফলে সেখানে প্যাঁচের কত পরিবর্তন হচ্ছে, সেটা গুনেই বাযুর গতিবেগ বের করা সম্ভব। বৃষ্টির পরিমাণ মাপার জন্য তিনশো মিলিমিটারের রেইন গজও বানিয়েছি। হাইগ্রোমিটার যন্ত্রটির এমনভাবে আধুনিকীকরণ করেছি, যা থেকে খুব সহজেই বাযুর আর্দ্রতা পরিমাপ সম্ভব। রয়েছে একটি টেলিস্কোপ। রাতে আকাশ দেখার কাজে ব্যবহার করি। তিনি আরও বলেন, ছোটবেলা থেকেই আকাশ আমাকে ভীষণ টানে। রামাতোষ সরকার ছিলেন বিড়লা প্ল্যানেটেরিয়ামের এক সময়ে ডিরেক্টর। তাঁর লেখা বই পড়ে এসবের প্রতি আমার আগ্রহ আরও বাড়ে। স্কুলের ছাত্রদেরও প্র‌্যাকটিক্যাল করানোর সময় এই বিষয়গুলো আমি শেখাই। আমার এসব বানানো দেখে ছাত্ররা অনুপ্রাণিত হয়। ছাত্ররাও নিজেদের মতো করে বিভিন্ন ব্যবহারিক যন্ত্রপাতি বানিয়েছে। তবে পরিবারের সহযোগিতা না পেলে আমি এসব করতে পারতাম না।

বিশ্বজিৎবাবুর স্ত্রী চিরঞ্জিতা ঘোষ সংগীতশিল্পী এবং মেয়ে স্বয়ংপ্রভা রায় শহরের একটি স্কুলের একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী। বাড়িতে যতক্ষণ থাকেন, ততক্ষণ আবহাওয়া সংক্রান্ত বিভিন্ন যন্ত্রপাতি বানানোর কাজে অথবা বাঁশি, তবলা এসবেই মজে থাকেন বিশ্বজিৎবাবু, এমনটাই দাবি তাঁর পরিবারের। তবে এই কাজে সহযোগিতা করার জন্য বিশ্বজিৎবাবু রায়গঞ্জের হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ার্স অ্যান্ড ট্রেকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এইচএমটিএ) চন্দ্রনারায়ণ সাহা ও তাপস জোয়ারদারের নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ঐ সংস্থা আমার পরিবেশ ও আবহাওয়া সংক্রান্ত কাজে নানাভাবে আমাকে সহযোগিতা করেছে। বিশ্বজিৎবাবুর এই কর্মকাণ্ডকে সাধুবাদ জানিয়ে জ্যোতির্ময় কারফর্মা বলেন, আবহাওয়ার পূর্বাভাস তখনই সফল হবে, যখন তথ্য সঠিক ও নির্ভুল হয়। বিশ্বজিৎবাবুর এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।