মঙ্গলকোটে তৃণমূলের বুথ সভাপতিকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ বিজেপির বিরুদ্ধে

130

বর্ধমান: নির্মমভাবে পিটিয়ে তৃণমূলের বুথ সভাপতিকে খুনের অভিযোগ ওঠল বিজেপিকর্মীদের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে, মারধোরের ঘটনায় গুরুতর জখম হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও এক তৃণমূল নেতা। মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোট থানার নিগনে। মৃত তৃণমূলের বুথ সভাপতির নাম সঞ্জিত ঘোষ(৩৯)। নিগন গ্রামেই তার বাড়ি। চিকিৎসাধীন গুরুতর জখম তৃণমূল নেতার নাম ইব্রাহিম খান। এদিকে, তৃণমূলের তরফে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে গোষ্ঠী দ্বন্দ্বের তত্ত্ব তুলে ধরা হয়েছে বিজেপির তরফে। এই ঘটনার জেরে মঙ্গলকোটে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিগন এলাকার মোতায়েন বিশাল পুলিশ বাহিনী।

মঙ্গলকোটের নিগন অঞ্চল তৃণমূলের সভাপতি ধ্রুব ভট্টাচার্য্য জানিয়েছেন, প্রজাতন্ত্র দিবসে দলের নিগন অঞ্চলের কর্মীরা দলীয় কার্যালয়ে একটি আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন। আলোচনা শেষে দুপুরে সবাই নিজেদের বাড়ির দিকে রওনা হন। সঞ্জিত ঘোষ যখন বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছোন তখন ৭-৮ জন বিজেপি কর্মী তার পথ আটকায়। লাঠি ও রড দিয়ে বিজেপি কর্মীরা তাকে নির্মমভাবে পেটায়। মাথা সহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গুরুতর আঘাত লাগায় জ্ঞান হারিয়ে রক্তাত অবস্থার মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। এরপরেও বিজেপিকর্মীরা তাঁকে মারধোর করে। ঘটনার কিছু সময় বাদেই ওই পথ ধরে যাচ্ছিলেন মঙ্গলকোটের তৃণমূলের সংখ্যালঘু সেলের সভাপতি ইব্রাহিম খান। সঞ্জিতকে মারধোর করার ঘটনায় প্রতিবাদ করেন ইব্রাহিম খান। তখন তাকেও ওই বিজেপি কর্মীরা মারধোর করে।

- Advertisement -

ধ্রুববাবু বলেন, ‘এই ঘটনার খবর পেয়ে দলের অন্য সকল কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে জখম দু’জনকে উদ্ধার করে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান। শারীরিক অবস্থা সংকটজনক থাকায় সঞ্জিতকে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানেই মারা যান সঞ্জিত ঘোষ। ইব্রাহিম খান কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে মঙ্গলকোট ব্লক তৃণমূল নেতৃত্ব জানিয়েছেন।’

এবিষয়ে মঙ্গলকোট বিধানসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল বলেন, ‘সোমবার বিজেপির সৌমিত্র খাঁ মঙ্গলকোটে সভা করেন। সেই সভায় সৌমিত্র খাঁ উত্তেজনামূলক কথা বলেন। এরপরেই বিজেপিকর্মীর বিধানসভা ভোটের আগে মঙ্গলকোট অশান্ত করার পরিকল্পনা করে। সেই অনুযায়ি বিজেপিকর্মীরা এদিন তৃণমূলকর্মী সঞ্জিত ঘোষকে পিটিয়ে মেরেছে।’ অনুব্রত অন্ডল এদিন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ’বিজেপি যদি ভেবে থাকে খুন জখম করে তৃণমূল রুখবে, তাহলে বজেপি মুর্খের সর্গে বাস করছে। প্রয়োজন পাল্টা মার শুরু হবে।’

যদিও জেলা বিজেপি সভাপতি কৃষ্ণ ঘোষ দাবি করেছেন, সঞ্জিত ঘোষ একজন সমাজবিরোধী, দুষ্কৃতি। নিগন এলাকার মানুষজনের উপরে ওই ব্যক্তি অত্যাচার চালাত। সঞ্জিত ঘোষের মৃত্যুর কারণ তৃণমূলের গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব। উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ঘটনার সঙ্গে বিজেপির নাম জড়ানো হচ্ছে।