কেন্দ্রীয় প্রকল্পের নামে টাকা আত্মসাতে অভিযুক্ত বিজেপি

অমিতকুমার রায়, মানিকগঞ্জ : জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের দক্ষিণ বেরুবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় কৃষকদের সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে টাকা হাতানোর অভিযোগ উঠল। অভিযোগের তির বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বের একাংশের বিরুদ্ধে। বিষয়টি সামনে আসতেই দলের অভ্যন্তরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। পরিস্থিতি ঘোরালো হতেই মুখ বাঁচাতে মণ্ডল কমিটির পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার আবেদন জানান স্থানীয় এক নেতা। ঘটনায় অস্বস্তিতে পড়েছে গেরুয়া শিবির।

কেন্দ্রীয় সরকার কৃষকদের জন্য প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মাননিধি নামে একটি প্রকল্প ঘোষণা করে। এই প্রকল্পের আওতাধীন কৃষকরা প্রতি বছর ছহাজার টাকা করে পান। বিজেপির অভিযোগ, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অসহযোগিতার জন্য এই প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত রাজ্যের গরিব কৃষকরা। অথচ এই প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে অনলাইনের মাধ্যমে ফর্ম ফিলআপ করা হচ্ছে। আর এর জন্য দক্ষিণ বেরুবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার কৃষকদের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সহ অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে বিজেপি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে। ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের বুড়িজোত কীর্তনিয়াপাড়ার বাসিন্দা মনোরঞ্জন অধিকারী, মোহন্তপাড়ার বাসিন্দা সুধামোহন রায়দের অভিযোগ, বিজেপির সদর দক্ষিণ মণ্ডল কমিটির কোষাধ্যক্ষ অমলকুমার রায়ের নির্দেশে বিজেপি কর্মী জগদীশ রায় প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মাননিধি প্রকল্পে নথিভুক্ত করার জন্য কাগজপত্র সহ অর্থ নিয়েছেন। জগদীশবাবুর বাড়িতেই সব কাজ করা হয়। একই অভিযোগ ভাগ্যনাথ রায়, কার্তিক রায়, জয় সেন, দ্বিগেন রায়, পরিমল রায়, বিমল রায় সহ ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের বহু কৃষকের।

- Advertisement -

বিজেপির শক্তিস্থল প্রমুখ গোকুল মোহন্ত বলেন, দেশের প্রায় ২৮টি রাজ্যের কৃষকরা এই প্রকল্পের মাধ্যমে উপকৃত। পশ্চিমবঙ্গে প্রকল্পটি চালু করতে দেওয়া হয়নি। বিষয়টি অবগত থাকার পরেও মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে কৃষকদের কেন আবেদন করতে বলা হল তা বুঝতে পারছি না। আবেদনের জন্য জগদীশবাবুর বাসভবন ছাড়াও মানিকগঞ্জ বাজারের একটি সাইবার ক্যাফের সাহায্য নেওয়া হয়। আবেদনের নামে অর্থও সংগ্রহ করা হয়। এর জন্য কিছু কৃষককে আবেদনের রিসিভ কপি দেওয়া হয় বলে জানান তিনি। গর্তেশ্বরীর বিজেপি কর্মী বিমল রায়ের অভিযোগ, কৃষকদের প্রভাবিত করার জন্য প্রথম দিকে দলের নির্দেশে আবেদন করা হচ্ছে বলা হয়। কিন্তু চাপে পড়তেই ওই দুই নেতা নিজস্ব উদ্যোগে আবেদন করছেন বলে সাফাই দেন। এই ঘটনায় এলাকার প্রায় হাজারখানেক কৃষককে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে প্রতারণা করা হয়। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে।

দলীয় সূত্রে খবর, চাপে পড়ে মুখ বাঁচাতে সদর দক্ষিণ মণ্ডলের কোষাধ্যক্ষ অমলকুমার রায় পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন। যদিও মণ্ডল কমিটির সভাপতি সুভাষ রায় জানান, সেই আবেদন গৃহীত হয়নি। আলোচনার মাধ্যমে তা মিটিয়ে নেওয়া হয়। অমলকুমার রায় অভিযোগের কথা স্বীকার করে বলেন, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রের ওই প্রকল্পটি বন্ধ করে রাখা হয়েছে। কিন্তু যেদিন চালু হবে সেদিন দলীয় কৃষকরা যাতে কোনওভাবে বঞ্চিত না হন, তার জন্য আগে থেকেই আবেদন করে রাখা হয়। অভিযুক্ত জগদীশ রায় বলেন, রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা থেকে কৃষকদের বঞ্চিত করছে। কিন্ত কেন্দ্র সরকারের ওই প্রকল্পের পোর্টালে এই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার প্রতিটি মৌজার নাম উল্লেখ রয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই আবেদন করা সম্ভব হয়েছে। এর জন্য এলাকার প্রায় ২০০ কৃষকের কাছ থেকে শুধু আবেদনের খরচ নেওয়া হয়েছে। জলপাইগুড়ি সদর দক্ষিণ মণ্ডল কমিটির সভাপতি সুভাষ রায় জানান, বিষয়টি গোচরে এসেছে। এমনটা হল কেন তা খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে।