মাঠ দখল করে পার্টি অফিস বানানোর অভিযোগ বিজেপির বিরুদ্ধে, গ্রেপ্তার ৪

216

দুর্গাপুর: খেলার মাঠ দখল করে পার্টি অফিস বানানোকে ঘিরে উত্তপ্ত পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুর পুরনিগমের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের ধুন্দরা প্লট এলাকা। অভিযোগ, স্থানীয় কিছু বিজেপি কর্মী ওই এলাকার একটি খেলার মাঠ দখল করে পার্টি অফিস তৈরি করছিল। অনেকবার তাঁদের সেই কাজ বন্ধ করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু বিজেপি কর্মীরা সেই কথা শোনেনি বলে অভিযোগ।

বড়দিনের রাতে সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় গোটা এলাকা। দুষ্কৃতীরা বেশ কিছু ঘরে ঢুকে ভাঙচুর চালিয়েছে বলে অভিযোগ। একই সঙ্গে অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় একটি ক্লাবেও ভাঙচুর করা হয়েছে। ভাঙচুর করা হয় বেশ কয়েকটি বাইক ও টোটো। কেনও খেলার মাঠ দখল করে পার্টি অফিস তৈরি করা হবে এই নিয়ে ধুন্দরা প্লটের স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে বিজেপি কর্মীদের একাংশের সংঘর্ষ বেধে যায়। সেই ঘটনায় দু’পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন বলে জানা গিয়েছে।

- Advertisement -

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। নামানো হয় কমব্যাট ফোর্সও। পরে চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শুক্রবার রাতের এই ঘটনার জেরে শনিবার সকালে দুর্গাপুরের রাজনীতির পারদ নিমেষেই চড়ে যায়।

ওয়ার্ড কাউন্সিলর তথা জেলা মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী অসীমা চক্রবর্তীর অভিযোগ, ‘শুধু পেশি শক্তি জাহির করতেই বিজেপি নেতৃত্ব বহিরাগত দুষ্কৃতীদের সঙ্গে নিয়ে অহেতুক অশান্তি তৈরি করার চেষ্টা করছে এলাকায়। আর যার ফল ভোগ করতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। খেলার মাঠ জোর করে দখল করে বিজেপি পার্টি অফিস বানাচ্ছে। এটারই প্রতিবাদ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আর সেই রাগে গোটা এলাকায় দুষ্কৃতীদের নিয়ে তাণ্ডব চালাল গেরুয়া শিবির।’

যদিও বিজেপির বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দলের পশ্চিম বর্ধমান জেলা সভাপতি লক্ষ্মণ ঘোড়ুই। তাঁর পালটা অভিযোগ, ‘নিজেদের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বকে আমাদের ওপর চাপিয়ে দিয়ে চাইছে তৃণমূল কংগ্রেস। আর যখন ওরা দেখছে এবারের নির্বাচনে পরাজয় নিশ্চিত, তখন শুধু শুধু বিজেপির ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য এইসব করছে তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব।’

এর আগেও দুর্গাপুরের ধুন্দরা প্লটের এই খেলার মাঠ দখল করে পার্টি অফিস তৈরিকে কেন্দ্র করে অশান্ত হয়ে উঠেছিল এলাকা। সেই সময় পুলিশ এসে গোটা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছিল। কিন্তু শুক্রবার রাতে আবার একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অশান্তি শুরু হয়। আর সেই ঘটনা শেষ পর্যন্ত রাজনীতির মোড়কে চলে আসে। নতুন করে আবার যাতে অশান্তি ছড়িয়ে না পড়ে তারজন্য বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকায় উত্তেজনাও রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, কী কারণে এই ঘটনা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।