তৃণমূল কর্মীকে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ বিজেপির বিরুদ্ধে, উত্তপ্ত মেমারি

146
সংগৃহীত

বর্ধমান: লাঠি ও শাবল দিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে এক তৃণমূল কর্মীকে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠল বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার রাত থেকে উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে পূর্ব বর্ধমানের মেমারি পৌরসভা এলাকা। রক্তাক্ত অবস্থায় তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী দেবাশীষ মালাকারকে উদ্ধার করে রাতেই ভর্তি করা হয়েছে মেমারি হাসপাতালে। আক্রান্ত তৃণমূল কর্মীর মা সুন্দরী মালাকার শুক্রবার মারধরের ঘটনায় জড়িত চারজনের নামে মেমারি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। যদিও অভিযুক্তদের কেউ এখনও গ্রেপ্তার বা আটক হয়নি। মেমারির বিজেপি নেতৃত্ব অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে ঘটনার জন্য তৃণমূলের ঘাড়েই দোষ চাপিয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আক্রান্ত দেবাশীষ মালাকারের বাড়ি মেমারি থানার আমাদপুর পঞ্চায়েতের গোপিনাথপুর গ্রামে। বৃহস্পতিবার রাতে আক্রান্তের মা সুন্দরী মালাকার পুলিশকে জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাত ১০টা নাগাদ পাওয়ার হাউস পাড়ার রাস্তা দিয়ে হেঁটে তাঁর ছেলে দেবাশীষ বাড়ি ফিরছিল। দিঘিরপাড় এলাকার নেতাজী সংঘ ক্লাবের কাছে চার দুষ্কৃতী সনৎ বিশ্বাস, রাজা ধারা, স্বপন মজুমদার ও বিশ্বজিৎ মজুমদার তাঁর ছেলের পথ আটকায়। দুষ্কৃতীদের তিন জন মেমারির বিবেকান্দপল্লী এবং একজন দিঘিরপাড় এলাকার বাসিন্দা।

- Advertisement -

সুন্দরীদেবী জানিয়েছেন, ওই চার দুষ্কৃতী হত্যার উদ্দেশ্যে রড ও লাঠি দিয়ে তাঁর ছেলে দেবাশীষকে নির্মমভাবে পেটায়। রডে করে মেরে দেবাশীষের মাথাও ফাটিয়ে দেয়। মারধরে গুরুতর জখম হয়ে দেবাশীয় সংজ্ঞা হারিয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়ে। দেবাশীষ মারা গিয়েছে মনে করে তার কাছে থাকা সমস্ত কিছু লুট করে নিয়ে দুষ্কৃতীরা পালিয়ে যায়।

খবর পেয়ে মেমারি পৌরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিদায়ী কাউন্সিলার রঞ্জিত বাগ ও মেমারি শহর তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা প্রশুন দাস এবং মেমারি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছায়। তারাই রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে কাতরাতে থাকা দেবাশীষকে উদ্ধার করে মেমারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। এখনও সেখানেই দেবাশীষ চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে সুন্দরীদেবী জানিয়েছেন। মেমারি থানার এক পুলিশ অফিসার বলেন, ‘অভিযোগ জমা পড়েছে। তদন্ত শুরু হয়েছে। যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

দেবাশীষ এদিন জানিয়েছেন, তিনি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদর্শ মেনে চলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকৃতই যে বাংলার উন্নয়ন করেছেন সেই বিষয়টি সবার কাছেই তিনি তুলে ধরেন। সেই কারণেই বিজেপি ভক্ত চার দুষ্কৃতী মিলে তাঁকে হত্যা করতে চেয়ে লাঠি, রড দিয়ে পিটিয়েছে। বরাত জোরে প্রাণে বেঁচে গেলেও দুষ্কৃতীরা তাঁকে মারাত্মক ভাবে জখম করে দিয়েছে বলে দেবাশীষ জানিয়েছে।

মেমারি পৌরসভার বিদায়ী তৃণমূল কাউন্সিলার রঞ্জিত বাগ ও তৃণমূল নেতা প্রশুন দাস জানিয়েছেন, আক্রমণকারীরা সকলেই বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতী হিসাবেই এলাকায় পরিচিত। তারা বিধানসভা ভোটের আগে মেমারিতে সন্ত্রাসের আবহ তৈরি করতে চাইছে। ওই দুষ্কৃতীদের উদ্দেশ্যই ছিল তৃণমূল কর্মী দেবাশীষ মালাকারকে খুন করে দেওয়া। বরাত জোরে সে প্রাণে বেঁচে গিয়েছে। থানায় এই বিষয়ে অভিযোগ দায়ের হয়েছেন। পুলিশ দ্রুত চার অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার না করলে ওদের ‘শবক’ শেখাতে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরাই পালটা ময়দানে নামবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মেমারির তৃণমূল নেতৃত্ব। দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তাদের দাবিতে শহর তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি সৌরভ সাঁতরার নেতৃত্বে এদিন বিকালে মেমারি শহরে প্রতিবাদ মিছিল ও পথসভাও করা হয়।

আক্রান্ত ও তৃণমূল নেতৃত্বের আনা অভিযোগ যদিও মানতে চাননি বিজেপি যুব মোর্চার মেমারি নগর মণ্ডলের সভাপতি আজিজুর রহমান। পালটা অভিযোগে তিনি জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাতে মেমারি পৌরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের দিঘিরপাড় আদিবাসী পাড়ার বিজেপি সমর্থক বাসিন্দারা সরস্বতী ঠাকুর বিসর্জন করতে বেরিয়েছিল। তৃণমূল কর্মী দেবাশীষ মালাকার তাদের দেখে কটুক্তি করলে অশান্তি বাঁধে। সমস্ত আক্রোশ গিয়ে পড়ে দেবাশীষের উপর। এরপর রাতে ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিদায়ী কাউন্সিলার রঞ্জিত বাগ ও শহরের তৃণমূল কংগ্রেস নেতা প্রশুন দাস দলবল নিয়ে ওই এলাকায় গিয়ে অশান্তি বাঁধিয়ে এসেছে। তারজন্য এদিন বিজেপির পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ জানানো হয়েছে বলে বিজেপি নেতা আজিজুর রহমান জানিয়েছেন।