মাদারিহাটে উন্নয়নের কৃতিত্ব নিয়ে দড়ি টানাটানি

114

মোস্তাক মোরশেদ হোসেন, রাঙ্গালিবাজনা : বিধানসভা নির্বাচনের আগে আলিপুরদুয়ার জেলার মাদারিহাট বিধানসভা কেন্দ্রে উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে ময়দানে নেমে পড়েছে তৃণমূল ও বিজেপি। তবে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের কৃতিত্ব নিজেদের ঝুলিতে টানতে দড়ি টানাটানি শুরু হয়েছে দুই দলের মধ্যে।
বিভিন্ন রাস্তা, বীরপাড়ায় নির্মীয়মাণ দমকলকেন্দ্রের মতো প্রকল্পগুলি নিয়ে নিজেদের কৃতিত্ব দাবি করে ইতিমধ্যে নির্বাচনের প্রচারে নেমেছেন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, মাদারিহাটের বিজেপি বিধায়ক মনোজ টিগ্গা ও আলিপুরদুয়ারের সাংসদ জন বারলা প্রতিশ্রুতি দেওয়া ছাড়া কোনও উন্নয়নমূলক কাজ করেননি। তবে বিজেপি বিধায়ক মনোজ টিগ্গার বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো মেনে অনেক প্রকল্পের জন্যই রাজ্য সরকারকে টাকা দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় সরকারের টাকায় বিভিন্ন প্রকল্প নিজেদের নামে চালিয়ে দিচ্ছে। এমনকি রাজ্য সরকারের উদ্যোগে ১৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে বীরপাড়া থেকে লঙ্কাপাড়া পর্যন্ত দীর্ঘ ১৮ কিমি রাস্তাটি পুনর্নির্মাণের পেছনে তাঁর অবদান রয়েছে বলে দাবি করেন বিধায়ক। তিনি বলেন, আমার অনুরোধেই কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্য সরকারকে রাস্তাটি পুনর্নির্মাণের টাকা দিয়েছে। বীরপাড়া লঙ্কাপাড়া রোড, দমকলকেন্দ্র সবই বিজেপির কৃতিত্ব।
তৃণমূলের আলিপুরদুয়ার জেলা কমিটির সম্পাদক তথা মাদারিহাট বীরপাড়া পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ রশিদুল আলম বলেন, বিধায়কের এমন মিথ্যাচারে অবাক হচ্ছি। বীরপাড়া-লঙ্কাপাড়া রোড থেকে শুরু করে বীরপাড়ায় নির্মীয়মাণ দমকলকেন্দ্র, এলাকায়  ৬-৭টি বড় পাকা রাস্তা, অসংখ্য ছোট কংক্রিটের রাস্তা, বেশ কিছু পানীয় জলের প্রকল্প তৈরি হয়েছে রাজ্য সরকারের টাকায়। কেন্দ্রীয় সরকার বীরপাড়ার লেভেল ক্রসিংয়ে আজও ওভারব্রিজ তৈরি করতে পারেনি। ডলোমাইট ওঠানো-নামানোর জায়গাটি স্থানান্তরিত হয়নি আজও। এমনকি বিধায়ক ও সাংসদ এলাকার উন্নয়ন বাবদ কোটি কোটি টাকা পেলেও কাজ করতে ব্যর্থ। বিধায়ক মনোজ টিগ্গার পালটা বক্তব্য, বীরপাড়ায় ওভারব্রিজ তৈরির জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ৫০ শতাংশ টাকা দিলেও বাকি ৫০ শতাংশ টাকা দিতে চাইছে না রাজ্য সরকার। ডলোমাইট ওঠানো-নামানোর  জায়গাটি হরিপুরে স্থানান্তর করার কাজ আটকে থাকার কারণ, হাতে খাসজমি থাকা সত্ত্বেও রাজ্য সরকার সেই জমি রেলের হাতে তুলে দিচ্ছে না বলে তাঁর দাবি। রশিদুল আলম বলেন, এতদিন কাজ না করে ভোটের আগে মিথ্যে প্রচার করছেন বিধায়ক। বীরপাড়ায় দমকলকেন্দ্র, বীরপাড়া লঙ্কাপাড়া রোড সবই হয়েছে রাজ্য সরকারের টাকায়। আমাদের কাছে প্রামাণ্য নথি রয়েছে। এ ধরনের নথি বিধায়কের কাছে থাকলে তিনি তা পেশ করুন।