সুমন কাঞ্জিলাল, আলিপুরদুয়ার, ১৪ মার্চঃ গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার প্রাক্তন সুপ্রিমো বিমল গুরুংকে সামনে রেখেই আলিপুরদুয়ার লোকসভা কেন্দ্রের চা বলয়ে ভোট করতে চলেছে বিজেপি। চা বাগান এলাকায় নেপালি সম্প্রদায়ে ভোটব্যাংক নিজেদের দখলে রাখতে এবারও যে বিমল গুরুংই বিজেপির ভরসা সেকথা জানিয়ে দিয়েছেন বিজেপির জেলা নেতারা। রাজ্য পুলিশের গ্রেফতারি এড়াতে দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপন করে থাকলেও মোর্চার একসময়ের সুপ্রিমো বিমল গুরুংয়ের নামের ম্যাজিক এবারও কাজ করবে বলে তাঁরা আশাবাদী।

বিজেপির জেলা সভাপতি গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা বলেন, এখনও দার্জিলিং থেকে শুরু করে তরাই ও ডুয়ার্সে মোর্চার সদস্য-সমর্থকদের মধ্যে বিমল গুরুংয়ে নামটাই যথেষ্ট। ২০১৪ সালের লোকসভা এবং ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর নেতত্বে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার য়ে সমর্থন বিজেপি পেয়েছিল এবারও লোকসভা নির্বাচনে তা বহাল থাকবে। গঙ্গাপ্রসাদ বলেন, গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা বিজেপির জোটসঙ্গী ছিল, আছে ও থাকবে। মোর্চা মানেই বিমল গুরুংপন্থী। বিনয় তামাং বর্তমানে নিজেকে মোর্চার সুপ্রিমো বলে ঘোষণা করলেও বিনয়পন্থী বলে পাহাড় থেকে সমতলে কোথাও কেউ নেই। বিজেপির জেলা সভাপতি আরও বলেন, রাজ্য সরকার গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার দখল নিতে রাষ্ট্রদ্রোহিতা সহ একাধিক মিথ্যা মামলায় বিমল গুরুংকে ফাঁসিয়ে দিয়েছে। দার্জিলিংয়ে যেভাবে মোর্চার নেতাদের ভয় দেখিয়ে তণমূল কংগ্রেসের দিকে টানা হয়েছে, একইভাবে আলিপুরদুয়ার তথা ডুয়ার্সেও মোর্চার নেতাদের মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তণমূল কংগ্রেসে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়েছে। তরাই ও ডুয়ার্সে মামলার ভয়ে মোর্চার অধিকাংশ নেতারা শাসকদলে নাম লেখাতে বাধ্য হলেও মোর্চার সিংহভাগ সাধারণ সদস্য ও সমর্থক বিমল গুরুংয়ে পাশেই আছেন। রাজনৈতিকভাবে ডুয়ার্সের চা বাগিচা বলয়ে মোর্চার সদস্য ও সমর্থকরা বিজেপির উপরেই আস্থা রেখেছে। গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা নিয়ে বা তাদের সমর্থকদের নিয়ে আমাদের কোনো চিন্তা নেই।

২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে বিমল গুরুংয়ে নেতত্বাধীন মোর্চার সঙ্গে জোট করে আলিপুরদুয়ারে ভালো ফল করেছিল বিজেপি। বিজেপি প্রার্থী বীরেন্দ্র বরা ওরাওঁ আলিপুরদুয়ার লোকসভা কেন্দ্রে ২৭.৩০ শতাংশ ভোট পেয়ে রীতিমতো তৃণমূল কংগ্রেস ও বামফ্রন্টের সঙ্গে টক্কর দিয়েছিলেন। তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী দশরথ তিরকি বিজেপি প্রার্থীর তুলনায় মাত্র ২.১৬ শতাংশ বেশি ভোট জিতেছিলেন। ওই লোকসভা ভোটেই বিজেপি প্রথম চা বলয়ে ভোটব্যাংকে থাবা বসায়। ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটের এই ধারা বজায় ছিল ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটেও। মাদারিহাট বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী মনোজ টিগ্গার সমর্থনে প্রচার করতে আসা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনসভায় উপস্থিত ছিলেন মোর্চা সুপ্রিমো বিমল গুরুং। মাদারিহাট বিধানসভা কেন্দ্রটি বিজেপি দখল করে। চা বাগান অধ্যুষিত কালচিনি বিধানসভা কেন্দ্রেও ভালো ভোট পায় বিজেপি। তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী মাত্র ১৫১১ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন। কুমারগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রেও ভালো ভোট পায় বিজেপি। এহেন পরিস্থিতিতে আসন্ন লোকসভা ভোটে এবার আত্মগোপন করে থাকা প্রাক্তন মোর্চা সুপ্রিমো বিমল গুরুংয়ে সরাসরি সমর্থন বিজেপি না পেলেও তাঁরা যে এবারও চা বাগান এলাকায় ভোট প্রচারে বিমল গুরুংয়ে নাম করে মোর্চা সদস্য ও সমর্থকদের ভোট চাইবে, তা পরিষ্কার। এমনকি লোকসভা ভোটের আগে বিমলের বিরুদ্ধে করা রাজ্য সরকারের একাধিক মামলায় স্টে অর্ডার সুপ্রিমকোর্ট থেকে নেওয়ার বিষয়ে বিজেপি নেতত্ব উদ্যোগী হয়ে উঠেছে বলে বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে। যদিও আত্মগোপনকারী গুরুংকে কোনোরকম গুরুত্ব দিতে রাজি নয় তণমূল কংগ্রেস। আলিপুরদুয়ার জেলা তণমূল কংগ্রেস সভাপতি তথা শিলিগুড়ি-তরাই-ডুয়ার্স গোর্খা কালচারাল কমিউনিটির চেয়ারম্যান মোহন শর্মা বলেন, আমরা বিজেপির এই প্রচারে কোনো গুরুত্ব দিচ্ছি না। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাহাড় ও সমতলে যে উন্নয়ন করেছেন, বিভিন্ন সম্প্রদায়ে উন্নয়নে ডেভেলপমেন্ট বোর্ড তৈরি করে দিয়েছেন, সেই সমস্ত কাজের নিরিখেই মানুষ তণমূল কংগ্রেসকে ভোট দেবে।