শালকুমারহাটের দুই বিজেপি নেতার মান ভাঙালেন প্রার্থী

42

শালকুমারহাট: আলিপুরদুয়ার বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী বদল নিয়ে প্রবীণ নেতাদের মান, অভিমান মেটানোর জন্য সবরকমের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বিজেপি। রবিবার আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের শালকুমারহাটের দুই জেলা স্তরের নেতা হেমন্তকুমার রায় ও লক্ষ্মীকান্ত সরকারের বাড়িতে গিয়ে দীর্ঘ সময় কাটালেন দলীয় প্রার্থী সুমন কাঞ্জিলাল। এখন কোনও মান, অভিমান নেই বলে প্রার্থী সহ বাকি দুই নেতা জানিয়েছেন।

আলিপুরদুয়ার আসনে প্রথমে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে দেশের অর্থনীতিবিদ অশোক লাহিড়ীর নাম ঘোষণা করা হয়। কিন্তু বিজেপির জেলা সভাপতি গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা ওই প্রার্থীকে চেনেন না বলে জানিয়ে দেন। তবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ধমক খেয়ে অশোক লাহিড়ীকে মেনে নেন দলের জেলা নেতারা। পরবর্তীতে বিজেপির তরফে এই কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয় সুমন কাঞ্জিলালকে। প্রার্থী নিয়ে দলের এই হঠকারি সিদ্ধান্ত ও জেলা স্তরের নেতাদের ভূমিকা বিজেপির প্রবীণ নেতাদের অনেকেই মেনে নিতে পারছেন না।

- Advertisement -

গত শনিবার বিজেপির জেলা কমিটির সদস্য শালকুমারহাটের লক্ষ্মীকান্ত সরকারের বাড়িতে গিয়ে আধ ঘণ্টা সময় কাটান কংগ্রেস নেতা তথা সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থী দেবপ্রসাদ রায়। এ নিয়ে ব্যাপক জল্পনা ছড়ায়৷ এদিকে, একই এলাকার আরেক জেলা কমিটির সদস্য তথা প্রবীণ নেতা হেমন্তকুমার রায় নির্দলে প্রার্থী হচ্ছেন বলে দলের ভিতরেই চর্চা শুরু হয়। এরকম হলে শালকুমারহাটের ভোট ব্যাংক বিজেপির পক্ষে নাও যেতে পারে। এই আশঙ্কার কারণেই এদিন শালকুমারহাটে ছুটে আসেন বিজেপি প্রার্থী সুমন কাঞ্জিলাল।

দলের প্রার্থী প্রথমে হেমন্তকুমার রায়ের সঙ্গে দেখা করেন। দীর্ঘ সময় কথা বলে ওই প্রবীণ নেতাকে প্রণাম করে তিনি আশীর্বাদও নেন। তারপর লক্ষ্মীকান্ত সরকারের বাড়িতে যান বিজেপি প্রার্থী। সেখানেও প্রায় তিনশো বিজেপি কর্ম-সমর্থকের সঙ্গে ভোটের প্রচার নিয়ে আলোচনা চলে।

এপ্রসঙ্গে বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক তথা প্রার্থী সুমন কাঞ্জিলাল বলেন, ‘হেমন্তকুমার রায় দলের প্রবীণ নেতা। ওঁনার পরামর্শ নিয়েই এই এলাকায় প্রচার করা হবে। এখানে মান, অভিমানের কিছু নেই।’ বিজেপি নেতার বাড়িতে দেবপ্রসাদ রায়ের যাওয়া প্রসঙ্গে সুমনবাবু বলেন, ‘উনি সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে আমাদের কার্যকর্তার বাড়িতে ঢুকেছিলেন। এই সাক্ষাতের সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। আমাদের কার্যকর্তা বিজেপির সঙ্গেই আছেন।’

এদিন লক্ষ্মীকান্ত সরকারও বলেন, ‘আমার দলের প্রার্থী বাড়িতে এসেছিলেন। আমি বিজেপির আদর্শ মেনেই প্রার্থীর সমর্থনে কাজ করছি।’ হেমন্তকুমার রায় বলেন, ‘আমিও দলের সঙ্গেই আছি। ব্যবধান যেটা ছিল, তা এদিন মিটে গিয়েছে। আর প্রার্থীর সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে আমার কোনও বিরোধ নেই।’