আত্মহত্যার হুমকি কাজে এল না, তপনকে প্রার্থীপদ থেকে সরাল বিজেপি

124

বর্ধমান: প্রার্থীপদ থেকে সরানো হলে বর্ধমানের জেলা বিজেপি পার্টি অফিসের সামনে গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যা করবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তপন বাগদী। কিন্তু তাতেও লাভের লাভ কিছুই হল না। শেষ পর্যন্ত বিজেপি রাজ্য নেতৃত্বই বদলে দিলেন পূর্ব বর্ধমানের গলসি বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী।

পূর্ব ঘোষিত তপন বাগদীকে প্রার্থী পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে বিজেপি নেতৃত্ব সোমবার গলসি বিধানসভার প্রার্থী হিসেবে বিকাশ বিশ্বাসের নাম ঘোষণা করে দেন। সেই কারণে এদিন বর্ধমানে মহকুমা শাসকের দপ্তরে হাজির হয়েও মনোনয়ন দাখিল করতে না পেরে হতাশ হয়েই ফিরে যেতে হল তপন বাগদীকে। দলের এমন সিদ্ধান্তে কার্যত মুষড়ে পড়েছেন তপন বাগদী ও তাঁর অনুগামীরা। বিজেপি নেতৃত্ব গলসি বিধানসভার প্রার্থী হিসেবে এদিন বিকাশ বিশ্বাসের নাম ঘোষণা করায় উচ্ছ্বসিত গলসির গেরুয়া শিবির।

- Advertisement -

বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, পানাগড়ের আদি বাসিন্দা বিকাশবাবু পেশায় শিক্ষক। তিনি কাঁকশার একটি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। কর্মসূত্রে বর্তমানে তিনি দুর্গাপুরে থাকেন। দীর্ঘদিনের বিজেপি কর্মী বিকাশবাবু বিজেপি শিক্ষক সেলের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। বিকাশবাবুর সঙ্গে এদিন টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এদিনই তিনি জানতে পারেন, দলের রাজ্য নেতৃত্ব গলসি বিধানসভার প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা করেছেন। দল তাঁকে প্রার্থী করায় তিনি খুশি। তবে দল কেন গলসির প্রার্থীপদ থেকে তপন বাগদীর নাম প্রত্যাহার করে নিল সেই বিষয়ে তাঁর কিছুই জানা নেই। একইসঙ্গে তিনি জানান, আগামী ১ মার্চ তিনি বর্ধমান সদরে পৌঁছে মনোনয়ন জমা দেবেন। বিকাশবাবু নিজেই এদিন জানালেন, তপন বাগদীকে সঙ্গে নিয়েই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে তিনি গলসি বিধানসভায় ভোটের লড়াইয়ে নামবেন। এই প্রসঙ্গে বিকাশবাবুর বক্তব্য, ‘নির্বাচনি লড়াইয়ে ব্যক্তি বড় কথা নয়, দলই বড়।’

প্রসঙ্গত, গত শনিবার বর্ধমানে এসে তপন বাগদী সংবাদমাধ্যমকে জানান, বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব গলসি বিধানসভার প্রার্থী হিসাবে তাঁর নাম ঘোষণা করেছেন। কিন্তু প্রার্থী হিসাবে তাঁকে মেনে নিতে পারছেন না জেলা বিজেপি সভাপতি অভিজিৎ তা ও বর্ধমান-দুর্গাপুর লোকসভার সাংসদ সুরিন্দর সিং আলুওয়ালিয়া। জেলা বিজেপি সভাপতি ও সাংসদ প্রার্থীপদ থেকে সরে যাওয়ার জন্য তাঁকে চাপ সৃষ্টি করে চলেছেন বলেও ওইদিন তপন বাগদি অভিযোগ করেন। ওই দিনই তপন বাগদী হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, প্রার্থী পদ থেকে তাঁকে সরানো হলে তিনি বর্ধমানে জেলা বিজেপি পার্টি অফিসের সামনে গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যা করবেন। এত কিছুর পরেও দলের রাজ্য নেতৃত্ব প্রার্থী পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন তপন বাগদী ও তাঁর অনুগামীরা। দলের এমন সিদ্ধান্ত বিষয়ে তপন বাগদী যদিও এদিন সংবাদমাধ্যমকে কোনও প্রতিক্রিয়া দিতে চাননি।