বাড়ি ফিরতে জরিমানা গুনতে হচ্ছে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের, অভিযোগে বিদ্ধ তৃণমূল

128

বর্ধমান: ভোট পরবর্তী হিংসার জেরে ঘরছাড়া বহু বিজেপি কর্মী-সমর্থক। অভিযোগ, তাঁদের ঘরে ফেরার ক্ষেত্রে জরিমানা বাবদ ১০ থেকে ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে, বিধানসভা ভোটের নির্বাচনী প্রচারকালে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার হেলিকপ্টার দেখতে যাওয়ার অপরাধে ১০ হাজার টাকা জরিমানা গুনতে হচ্ছে অনেককেই। এমনই অভিযোগ তুলে মঙ্গলকোটের ঝিলু-২ পঞ্চায়েতের বনপাড়া গ্রামের বিজেপি সমর্থক সান্তনা পাল জেলা প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল নেতৃত্বরা। ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোটের রাজনৈতিক মহলে।

পেশায় মোটরভ্যান চালক বিজেপি সমর্থক সান্তনা পালের অভিযোগ, বিধানসভা ভোটের ফল ঘোষনার পর তৃণমূলের লোকজন তাঁর ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে দেওয়ার পাশাপাশি লুটপাটও চালায়। এমনকি তাঁর মোটরভ্যানটিতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, ‘এই ঘটনার পর আতঙ্কে সপরিবারে বাড়িছাড়া হয়েছিলেন তিনি। সম্প্রতি স্থানীয় এক তৃণমূল নেতা তাঁকে ফোন করেন। অভিযোগ, ওই নেতা ফোন মারফৎ জানিয়েছেন, গ্রামের বাড়িতে ফিরতে হলে ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে। ঘটনায় জেলা প্রশাসনের দ্বারস্থ হন তিনি। এরপর জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বাড়ি পৌঁছোন তিনি। তবে বাড়ি বাসের অনুপযোগী থাকায় সপরিবারে ঠাঁই নিয়েছেন শ্বশুরবাড়িতে।

- Advertisement -

এখানেই শেষ নয়, সান্তনা পালের আরও অভিযোগ, ভোটের ফল ঘোষণার পর বনপাড়া গ্রামের বহু বিজেপি কর্মী-সমর্থক ঘরবাড়ি ছাড়া হয়। সেই সকল বিজেপি কর্মীদের ফোন করে জরিমানা হিসেবে মোটা টাকা দাবি করা হয় বাড়ি ফেরার জন্য। জানা গিয়েছে, বুথ এজেন্টদের ঘরে ফেরার জন্য ৪০-৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করা হচ্ছে। তবে শুধু সান্তনা পাল নন একই অভিযোগ শোনা যায় বনপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রমেশ পাল, সুকান্ত পালের মুখেও। তাঁদের কথায়, গ্রামে ফেরানোর শর্তে এক তৃণমূল নেতাকে ২১ হাজার টাকা দিতে হয়েছে মাথাপিছু। এছাড়াও নির্বাচনে বিজেপির হয়ে প্রচারে যাওয়ার অপরাধে ঘরছাড়া থাকা বনপাড়া গ্রামের এক যুবককে ঘরে ফেরার জন্য ৪০ হাজার টাকা দাবি করা হচ্ছে। বনপাড়া গ্রামের এক মহিলার অভিযোগ, বিধানসভা ভোটের প্রচারে হেলিকপ্টারে চড়ে নতুনহাটে এসেছিলেন জেপি নাড্ডা। তাঁর স্বামী সেই হেলিকপ্টার দেখতে গিয়েছিলেন। সেই অপরাধে তাঁকে দশ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হয়েছে।

এই সমস্ত অভিযোগগুলি উঠছে মূলত বনগ্রামের তৃণমূলের বুথ সভাপতি উজ্জ্বল শেখের বিরুদ্ধে। যদিও তাঁর দাবি, ‘হয়তো ভুল করে দু’ একটা ছেলে ডিস্টার্ব করেছে। আমি তাদের নিষেধ করেছি। তবে তিনি কারও কাছ থেকে টাকা নিইনি।’ অন্যদিকে মঙ্গলকোটের তৃণমূল বিধায়ক তথা ব্লকের সভাপতি অপূর্ব চৌধুরি বলেন, ‘যারা এমন কাজ করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’