গোপনে বিদ্বজ্জনদের কাছে টানতে চাইছে বিজেপি

221

শিলিগুড়ি : শুধুমাত্র সাংগঠনিক শক্তির ওপর ভরসা নয়। ভোটে জিততে গোপনে সমাজের বিদ্বজ্জনদেরও কাছে টানতে চাইছে গেরুয়া শিবির। তাই বিজেপির প্রত্যেকটি জেলা কমিটিকে বিধানসভা ভিত্তিক বিশিষ্টজনদের কমিটি গঠনের নির্দেশ দিল কেন্দ্রীয় কমিটি। শুধু কমিটি গঠনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ২০ জানুয়ারির মধ্যে কমিটির বৈঠক করা এবং বিশিষ্টজনরা কী চাইছেন, তা লিখিত আকারে কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে খবর। যা স্বীকার করে নিয়ে বিজেপির শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আনন্দময় ঘোষ বলেন, আমাদের সঙ্গে সমাজের অনেক বিশিষ্টজনের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে। তাঁদের পাশাপাশি আরও অনেকের সঙ্গেই যোগাযোগ করছি। সকলের মতামতের নিরিখেই নতুন রূপরেখা তৈরি হবে। জলপাইগুড়ির জেলা সভাপতি বাপি গোস্বামী বলেন, সমাজের সব স্তরের মানুষের সঙ্গেই আমাদের সম্পর্ক রয়েছে। আগামীদিনে নতুন করে আরও অনেকের সঙ্গেই সম্পর্ক স্থাপন হবে।

নন্দীগ্রাম আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে অনেক বিদ্বজ্জনকেই পাশে পেয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরবর্তীতে কয়েকজনকে টিকিট দিয়ে যা রাজনৈতিক ক্ষেত্রে পুরোমাত্রায় কাজে লাগিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। অনেকটা সেই পথে হেঁটে অনেক আগেই রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, লকেট চট্টোপাধ্যায়, জয় বন্দ্যোপাধ্যায়দের দলে টেনেছে বিজেপি। সাম্প্রতিককালে ফ্যাশন ডিজাইনার অগ্নিমিত্রা পলের হাতে শোভা পেয়েছে পদ্ম-পতাকা। কিন্তু বাংলা দখলের ক্ষেত্রে এই পরিসরটাকে বড় করতে চাইছে বিজেপি। তাই দলের কেন্দ্রীয় কমিটি বাংলার বিদ্বজ্জনদের গুরুত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশ অনুসারে প্রত্যেকটি বিধানসভায় গোপনে ওই এলাকার বিশিষ্টজনদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হবে। ন্যূনতম ১৫০ জনের একটি কমিটি গঠন করতে হবে এবং আগামী ২০ জানুয়ারির মধ্যে বিধানসভা ভিত্তিক প্রথম বৈঠক করতে হবে। বৈঠকে কে কী মতামত দিলেন, তা লিখিত আকারে জমা দেওয়ার কথাও বলেছে কেন্দ্রীয় কমিটি। কেউ যদি প্রকাশ্যে না এসেও মতামত দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন, তাঁকেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এক বিজেপি নেতার কথায়, এমন অনেকেই আছেন, যাঁরা চাইছেন রাজ্যের ক্ষমতায় বিজেপি আসুক। কিন্তু কার্যত তৃণমূলের ছত্রছায়ায় থাকায় এখনই প্রকাশ্যে আসতে চাইছেন না। তাঁদের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ রেখে চলেছি। বিজেপি সূত্রে খবর, বিশিষ্টজনদের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে যে মতামত উঠে আসবে, তা গুরুত্ব পাবে বিধানসভা ভিত্তিক নির্বাচনি ইস্তেহারে।

- Advertisement -