অরুণ, সুষমাদের বিকল্প খুঁজতে নাকাল বিজেপি

1042

প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত, নয়াদিল্লি: সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি শুরু হতে চলেছে বাদল অধিবেশন। প্রায় ছমাসের মাথায় ফের একবার সংসদের ঘণ্টা বেজে ওঠায় সাজোসাজো রব সমস্ত রাজনৈতিক দলে। এর মাঝে বিজেপির চার শীর্ষ নেতার অভাব জাঁকিয়ে বসেছে দলে। তাঁদের শূন্যস্থান পূরণে যোগ্য নেতা বা নেত্রী কম পড়ছে বিজেপিতে। কে বা কারা সেই স্থান পাবে, তা নিয়ে দীর্ঘ জল্পনা চললেও এখনও সেই শূন্যস্থান ভরাট করা সম্ভব হয়নি। এক বছর হল প্রয়াত হয়েছেন বিজেপির তিন শীর্ষ নেতা অরুণ জেটলি, সুষমা স্বরাজ এবং অনন্ত কুমার। অর্থ, বিদেশ ও সংসদীয় মন্ত্রকে এর ফলে সৃষ্টি হয়েছিল বেনজির শূন্যতা। পরবর্তী কালে নির্মলা সীতারমন, এস জয়শংকর ও প্রহ্লাদ যোশি হাল ধরলেও হাল ফেরাতে পারেননি। এর মধ্যে উপরাষ্ট্রপতি পদের দায়িত্ব সামলাতে সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে গিয়েছেন বেঙ্কাইয়া নাইডুর মতো অভিজ্ঞ রাজনীতিক।

বিজেপির একাংশ মনে করে, শুধু মন্ত্রী হিসেবে নয়, দলের সাংগঠনিক ও সামগ্রিক পরিচালক রূপে অগ্রগণ্য ছিলেন জেটলি, স্বরাজ, কুমার ও নাইডু। তাঁদের সেই শূন্যস্থান পূরণের সামর্থ্য এই মুহূর্তে বিজেপিতে কারোর নেই। সংসদে বিজেপির হাল সামলাচ্ছেন মোদি ও শা জুটি। দলের সভাপতি পদ ছেড়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের দায়িত্ব সামলানোর পর অমিত শার বকলমে দলের সাংগঠনিক দিকটি দেখভাল করছেন বর্তমান সভাপতি জেপি নাড্ডা। কিন্তু, এখনও সম্পূর্ণ রূপে দলের হাল ফেরাতে পারেননি ভদ্র, মিতভাষী নাড্ডা। অমিত শার আগ্রাসী ভাব তার মধ্যে দেখা যায় না। এখনও অমিত শার পরামর্শ মেনেই কাজ করেন নাড্ডা।

- Advertisement -

এই মুহূর্তে মোদির নেতৃত্বে বিজেপির সংসদীয় বোর্ডের হাল সামলাচ্ছেন অমিত শাহ, রাজনাথ সিং, নীতিন গড়করি, থাওয়ার চাঁদ গেহলত, বিএল সন্তোষ, শিবরাজ সিং চৌহান ও জেপি নাড্ডা। এই বৃত্তে স্থান পেতে চান কংগ্রেস ত্যাগী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। সূত্রের খবর, তিনি নাগপুরে আরএসএসের দপ্তরে গিয়ে মোহন ভাগবতের সঙ্গে দেখা করে এসেছেন।

জানা গিয়েছে, মোদির মন্ত্রীসভায় জায়গা বানিয়ে দেওয়ার আর্জি নিয়ে ভাগবতের শরণাপন্ন হন সিন্ধিয়া। একই জল্পনা চলছে অসমের প্রাক্তন কংগ্রেসি ও অধুনা বিজেপি নেতা হিমন্ত বিশ্বশর্মাকে নিয়ে। দলের শীর্ষমহলে বিশ্বশর্মার গতিবিধি অবাধ। বিজেপি সূত্রের খবর, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে অসম থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না বলে জানিয়েছেন তিনি। কেন্দ্রীয় স্তরে অপেক্ষাকৃত গুরুত্বপূর্ণ ও শীর্ষপদের দাবিদার তিনি। বিজেপির একাংশ এখনও কংগ্রেসের এই দলছুট নেতাদের মুহাজির রূপেই দেখেন। এক বিজেপির নেতা আক্ষেপ করে বলেছেন, ‘আমরা কংগ্রেস মুক্ত ভারত চেয়েছিলাম। এখন কংগ্রেসযুক্ত দলে পরিণত হতে চলেছে বিজেপি।‘