গৌতমের অসুস্থতায় বাম-বিজেপির পৌষমাস

470
file photo

সানি সরকার, শিলিগুড়ি : ব্যবধান ঘোচাতে প্রস্তুতিটা শুরু হয়েছিল অনেক আগেই। কিন্তু তাল কাটল পর্যটনমন্ত্রীর কোভিড সংক্রমণ। কোভিড পরিস্থিতিতে যাঁরা করোনা ভীতিকে দূরে সরিয়ে রেখে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রত্যেকদিন শামিল হচ্ছিলেন, সেই তৃণমূল কর্মীরাও রণেভঙ্গ দিলেন। আর তৃণমূলের এমন দশাকে কাজে লাগিয়ে জায়গা দখল করতে পুরোমাত্রায় ময়দানে নেমেছে বাম এবং বিজেপি। ডাবগ্রাম-ফুলবাড়িতে তাই এখন জনসংযোগের লড়াই চলছে লাল এবং গেরুয়া শিবিরের। তবে মন্ত্রী অসুস্থ হলেও বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে তাঁরা লাগাতার কর্মসূচি নিচ্ছেন বলে দাবি তৃণমূল নেতত্বের।

কোভিড পরিস্থিতিতে যাবতীয় ভীতিকে দূরে সরিয়ে রেখে লাগাতার কর্মসূচিতে ছিল রাজ্যের শাসকদল। স্থানীয় বিধায়ক তথা পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেবের নেতত্বে প্রায় প্রত্যেকদিনই দলবদল, মিটিং, মিছিল অব্যাহত ছিল। যা নিয়ে প্রশ্নও উঠেছিল বিভিন্ন মহলে। কিন্তু ৬ নভেম্বর মন্ত্রী করোনা সংক্রামিত হতেই, ডাবগ্রাম-ফুলবাড়িতে তৃণমূলে ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ইতি পড়েছে বিধানসভা নির্বাচনকেন্দ্রিক যাবতীয় রাজনৈতিক কর্মসূচিতে। মাঝে মন্ত্রীর হয়ে দলের তরফে ছটপুজোর সামগ্রী বিতরণ হয়েছে বটে, কিন্তু সেই অর্থে ভিড় বা উত্সাহ দেখা যায়নি। অথচ ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে গত লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির থেকে তৃণমূল পিছিয়ে ছিল প্রায় ৮৬ হাজার ভোটে। সেই ব্যবধান ঘুচিয়ে জয়ে রাস্তায় হাঁটাটাই এখন লক্ষ্য তৃণমূলের। তবে জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী তৃণমূলের ব্লক সভাপতি দেবাশিস প্রামাণিক বলেন, লোকসভা নির্বাচন এবং বিধানসভা ভোটের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। উন্নয়নের নিরিখেই মানুষ ভোট দেবেন এবং গৌতমবাবু পুনর্বার জয়ী হবেন। দল টানা কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বলেও দাবি তাঁর।

- Advertisement -

এদিকে, মন্ত্রীর অসুস্থতায় যখন কার্যত তৃণমূল ঝিমিয়ে রয়েছে, তখন ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি দখলের লক্ষ্যে তত্পর হয়ে উঠেছে বাম এবং বিজেপি। দুটি দলই প্রত্যেকদিন কিছু না কিছু কর্মসূচি নিচ্ছে এবং জনসংযোগে জোর দিয়েছে। বাম দলগুলির তরফেও প্রত্যেকটি বাড়িতে যাওয়ার পাশাপাশি গ্রুপ মিটিং, মিছিল করা হচ্ছে। গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে নিত্যপ্রযোজনীয় জিনিসের মূল্যবৃদ্ধিকে। তবে মন্ত্রীর অসুস্থতার সুযোগকে কাজে লাগাতে তাঁরা সক্রিয় হয়ে উঠেছেন, তা মানতে নারাজ সিপিএম নেতা দিলীপ সিং। তিনি বলেন, আমরা আমাদের মতো কাজ করছি। নিয়মিত প্রচার করছি। তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বজনপোষণ, জমি কেলেঙ্কারিকে হাতিয়ার করে রাজনীতির ময়দানে ঝড় তোলার চেষ্টা করছে বিজেপি। প্রায় প্রত্যেকদিন জলপাইগুড়ির সাংসদ জয়ন্ত রায়, বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক রথীন্দ্র বসুরা জোর দিয়েছেন জনসংযোগে। মন্ত্রীর অসুস্থতার জন্য তাঁদের এই তত্পরতা, মানতে নারাজ বিজেপি নেত্রী শিখা চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য নেতৃত্বের নির্দেশে আমরা নিয়মিত কর্মসূচিতে রয়েছি। বিধানসভা কেন্দ্রটি দখল করাই আমাদের লক্ষ্য।