লক্ষীরতন শুক্লা পদত্যাগ করায় দিদিমণি ভয় পেয়ে গিয়েছেন, বললেন দিলীপ ঘোষ

137

বর্ধমান, ৫ জানুয়ারিঃ প্রতিদিনই তৃণমূলের উইকেট পড়ছে। এবার লক্ষ্মীরতন শুক্লা পদত্যাগ করলেন। এসবের জন্য দিদিমণি ভয় পেয়ে গিয়েছেন। তাই গুণ্ডাদের লেলিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাঁরা বিজেপি কর্মীদের গাড়ি ভাঙছে, বাড়ি ভাঙছে। দিদির ভাইয়েরা বেশি বাড়াবাড়ি করলে, এবার ডাণ্ডা মেরে ঠাণ্ডা করে দেওয়া হবে। মঙ্গলবার পূর্ব বর্ধমানের কুড়মুনের হাটতলায় অনুষ্ঠিত জনসভা থেকে এমনই হুঁশিয়ারি দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। সেখান থেকেই তৃণমূল কংগ্রেস ও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি।

দিলীপ ঘোষ এদিন তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, সারা ভারতবর্ষে ৯ কোটির বেশি কৃষক ১৪ হাজার টাকা পেয়েছে। আমরা আন্দোলন করেছি বলে, এখন দিদিমণি তা মানতে বাধ্য হয়েছেন। তবে, দিদি চাইছেন কৃষকদের অ্যাকাউন্টে নয়, টাকা দিতে হবে তাঁর হাতে। কিন্তু, ওই টাকা দিদির হাতে গেলেই সব কাটমানি হয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রী দেখেছেন আমপানের টাকা সব আত্মসাৎ করেছেন দিদির ভাইয়েরা। ক্ষতিগ্রস্তদের টাকা চলে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদের অ্যাকাউন্টে।

- Advertisement -

স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, এসব আসলে ‘ঢপের চপ’। লকডাউনের সময় নরেন্দ্র মোদি বাড়ি বাড়ি র‍্যাশন পাঠিয়ে দিয়েছেন। সেই রেশনের চাল, ডাল, গমও পাচার করা হয়েছে। তৃণমূল নেতারা সেই সব সামগ্রী গায়েব করেছে। রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রীকে চাল চোর বলেও কটাক্ষ করেন বিজেপি নেতা। দিলীপ ঘোষের দাবি, র‍্যাশনের ভালো চাল, গম সব বাংলাদেশে পাচার করা হয়েছে। রাজ্য বিজেপি সভাপতি আরও দাবি করেন, রাজ্যের সব জেলগুলো এখন পরিষ্কার করা হচ্ছে। মে মাসের পর সব জেলে যাবে। দিদির ভাইয়ের জন্যও জেল ঠিক করা হচ্ছে।

লক্ষ্মীরতন শুক্লার পদত্যাগ নিয়ে দিলীপ বাবু বলেন, এখন প্রতিদিনই তৃণমূলের উইকেট পড়ছে। দিদির কাছে ফোন এলেই দিদি ভাবেন, আবার কেউ পদত্যাগ করেছে বোধ হয়। রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে দিদি ভাবছেন ও পদত্যাগ করবে না। কিন্তু, রাজীব তো আমার খাঁটি লোক। দিলীপ বাবু অভিযোগ করেন, বিশ্বভারতীকে নিয়ে নোংরামি করছে রাজ্য সরকার। সেখানকার গেট বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সভায় উপস্থিত দলের কর্মীদের উদ্দেশ্যে দিলীপ বাবু বলেন, মে মাসে নির্বাচন আসছে।আপনারা হাতে ভোটার কার্ড নিয়ে বুথে যাবেন। এবার আর দিদির পুলিশ বুথে থাকবে না। দিদির ভাইয়েরা
গণ্ডগোল করলে, ডান্ডা মেরে ঠান্ডা করে দেওয়া হবে।

সদ্য তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে যাওয়া সাংসদ সুনীল মণ্ডল কুড়মুনের সভায় উপস্থিত ছিলেন। তিনি আইপ্যাককে নিয়ে কটাক্ষ করেন। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিনা পুজির ব্যবসাদার আইপ্যাক। পিকে-কে শকুন বলেও কটাক্ষ করেন সাংসদ সুনীল মণ্ডল। একইসঙ্গে সনীল মণ্ডল দাবি করেন, তিনি আর শুভেন্দু অধিকারী বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেসের ঘণ্টা বাজিয়ে দিয়েছেন। তৃণমূলের বঙ্গধ্বনি শুরু হয়ে গিয়েছে। মন্ত্রীসভা থেকে ও জেলা সভাপতির পদ থেকে মন্ত্রীরা পদত্যাগ করেছেন। সভায় বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার, বিজেপি জেলা সভাপতি সন্দীপ নন্দী, রাজ্য সহসভাপতি রাজু ব্যানার্জী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।