নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষিত না হলেও রায়গঞ্জে প্রচার শুরু বিজেপির

257

দীপঙ্কর মিত্র, রায়গঞ্জ: রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হতে অন্তত ছ’মাস বাকি। দীপাবলির একটা আমেজ এখনও রয়েছে। পাশাপাশি কোভিড নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে রয়েছে আতঙ্ক। এই অবস্থায় চুপ করে বসে নেই বাম-ডান সহ বিভিন্ন দলগুলি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দেবশ্রী চোধুরী জেলার বিভিন্ন বিধানসভা এলাকায় গিয়ে দলীয় নেতৃত্বদের ময়দানে নেমে পড়ার জন্য মিটিং করছেন। পাশাপাশি তৃণমূল, সিপিএম ও কংগ্রেস নেতৃত্ব মাঠ ময়দান চষে বেরাচ্ছেন।

তবে সবাইকে টপকে রায়গঞ্জ শহরে ভোটের প্রচার শুরু করে দিল বিজেপি। দিনক্ষণ ঘোষণা না হলেও একুশের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার শুরু করল জেলা বিজেপির ওবিসি মোর্চা। তবে কোনও প্রার্থীর সমর্থনে নয়, দলীয় প্রতীক চিহ্নে ভোট দেওয়ার জন্য ভোটারদের কাছে আবেদন করল নেতৃত্ব। দলীয় প্রতীক পদ্মফুল চিহ্নে ভোট দেবার আবেদন জানিয়ে রায়গঞ্জ শহরে পোস্টারে ছয়লাপ করে দিয়েছেন বিজেপিকর্মীরা।

- Advertisement -

রায়গঞ্জ শহরের শিলিগুড়ি মোড় থেকে বিদ্রোহী মোড় পর্যন্ত রাস্তার দুপাশে বিদ্যুতের খুঁটিতে পদ্মফুল চিহ্নে ভোটের আবেদন জানিয়ে পোস্টার লাগানো হয়েছে। যদিও তৃণমূল, বাম ও কংগ্রেস নেতৃত্ব বিজেপিকে ভোটপাখি বলে কটাক্ষ করেছেন। বিরোধী নেতৃত্বের দাবি, সারা বছর মানুষের পাশে থাকে না এরা। তাই ভোট আসতেই এরা নিজেদের অস্তিত্ব বোঝাতে পোস্টার টাঙিয়ে মানুষের মনে জায়গা করে নিতে চায়। মানুষ এবার যোগ্য জবাব দেবে। যদিও বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, বাম-কংগ্রেস ও তৃণমূল হেরে যাওয়ার আতঙ্কে ভুলভাল বলছে।

একুশের বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষন এখনও ঘোষণা হয়নি। প্রকাশিত হয়নি কোনও রাজনৈতিক দলের প্রার্থী তালিকাও। শুরু হয়নি দেওয়াল দখলও। নির্বাচনের বাকি প্রায় ৬ মাস। কোভিড পরিস্থিতি কোন দিকে যায় তা নিয়ে উদ্বিগ্ন সাধারন মানুষ। কিন্ত এসবের না তাকিয়ে বিজেপি নির্বাচনী প্রচার শুরু করে দিল। রায়গঞ্জ শহরে বিজেপির প্রতীক পদ্মফুলে ভোট দেবার আবেদন জানিয়ে শহরে পোস্টারে পোস্টারে ছয়লাপ করে দেওয়া হয়েছে। পোস্টার দেখে মনে হচ্ছে নির্বাচন প্রায় আসন্ন!

বিজেপির ওবিসি সেল শহরজুড়ে এই পোস্টার দিয়েছে। পোস্টারে জ্বলজ্বল করছে “২১-শে পিসি হবে তোমার বির্সজন, নবান্ন হবে পদ্মের পর্দাপণ, নতুন চালে করব নবান্ন, ২০২১-শে জয় হবে নবান্ন।” এই ধরনের পোস্টার চোখে পড়তেই পথচলতি মানুষ থেমে পড়ছেন। আবার অনেকে মোবাইল দিয়ে ছবি তুলছেন। রায়গঞ্জ শহরে নির্বাচনের এতদিন আগে বিজেপির পোস্টার চোখে পড়ায় কেউ কেউ আবার বিদ্রুপও করেছেন।

বিজেপির রায়গঞ্জ শহর উত্তর মণ্ডল কমিটির সভাপতি অভিজিৎ যোশী জানান, মানুষ তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতি বীতশ্রদ্ধ। রায়গঞ্জের কিছু তৃণমূল কংগ্রেস নেতা দলের প্রচার না করে নিজের প্রচারে ব্যস্ত। তাই রায়গঞ্জের মানুষের মন জানতে নির্বাচনী প্রচার শুরু করছি। দলের প্রতীকেই প্রচার করা হচ্ছে। দল যাকেই প্রার্থী করুক তাঁকে নিয়ে প্রচারে ঝাঁপাবেন দলীয় নেতা ও কর্মীরা। বাম ও কংগ্রেসকে তিনি গুরুত্ব দিতে নারাজ।

যোশীবাবু বলেন, রায়গঞ্জ বিধানসভা এবার পদ্মফুলের হবে। এখানে জোট ঘোঁট করে লাভ নেই। বাম-কংগ্রেসকে এবারে চিরতরে বিদায় করবে মানুষ। সিপিএমের রায়গঞ্জ এরিয়া কমিটির সম্পাদক তীর্থ দাস বলেন, এবার আর ধর্মের সুড়সুড়ি দিয়ে ভোট বিজেপি পাবে না। দেশের মানুষকে বিপদে ফেলে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। একদিকে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, অন্যদিকে বেকার সমস্যা, ছাঁটাই বিজেপি সরকারের উপহার। তাই ঘরে ঘরে পোস্টার টাঙ্গিয়ে দিলেও এবার আর বিজেপি ভোট পাবে না। তৃণমূলও এবার নির্মূল হবে।

জেলা কংগ্রেসের কার্যকরি সভাপতি পবিত্র চন্দ বলেন, তৃণমূল আর বিজেপিকে এবার উচিৎ শিক্ষা দেবে সাধারণ মানুষ। তাই এত আগে পোস্টার টাঙিয়ে কোনও লাভ হবে না বিজেপির। সারাবছর সাধারণ মানুষের পাশে থাকি আমরা। বাম-কংগ্রেস জোট প্রার্থীরা রায়গঞ্জ সহ জেলার প্রতিটি বিধানসভা আসনে জয়ী হবে। তৃণমূল কংগ্রেস এই নির্বাচনী প্রচারকে আমল দিতে রাজী নন।

রায়গঞ্জ বিধানসভার তৃণমূল কংগ্রেসের কো-অর্ডিনেটর অরিন্দম সরকার বিজেপিকে ভোট পাখি বলে কটাক্ষ করেছেন। তিনি বলেন, করোনা, লকডাউন, বন্যা পরিস্থিতিতে মানুষ যখন চূড়ান্ত অসহায় অবস্থায় দিন কাটিয়েছেন, তখন দিনরাত এক করে মানুষের পাশে আছেন তৃণমূল কর্মীরা। ধারাবাহিকভাবে ত্রাণসামগ্রী বিলি করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের পাশে কোনও বিজেপি নেতা-কর্মীর দেখা মেলে না। তাই আসন্ন নির্বাচনে মানুষ এদের প্রত্যাখান করে তৃতীয়বারের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষমতায় আনবেন। তাই এত আগে ফ্লেক্স-ফেস্টুনের প্রচার করে বিজেপির কোনও লাভ হবে না।