১৭ বছর ধরে বিজেপি আমাদের ভোটের কাজে ব্যবহার করেছে: বিমল গুরুং

1578
কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠকে বিমল গুরুং। ছবিঃ কৌশিক দত্ত।

কলকাতা: বৃহস্পতিবার সাংবাদিক সম্মেলনে বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা নেতা বিমল গুরুং। এদিন কলকাতায় ললিত গ্রেট ইস্টার্ন হোটেলে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে বিমল গুরুং বলেন, ‘১৭ বছর বিজেপির সঙ্গে থেকে পাহাড় ইস্যুর স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা চালিয়েছি। পাহাড় সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য বিজেপি আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু ১৭ বছরেও কিছু করেনি। তাই বিজেপির সঙ্গ ছেড়ে পাহাড় সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য ফের তৃণমূলে যোগ দিয়েছি। ২০২১-এর নির্বাচনে তৃণমূলের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করে বিজেপিকে একটা উচিত শিক্ষা দেব এবং তৃতীয়বারের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসাব।’

২০১৯ সালের জুন মাসে দার্জিলিং পুরসভার গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার ১৭ জন পুরপিতা বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। তাঁরা প্রত্যেকেই এদিন বিজেপির সঙ্গ ত্যাগ করে ফের গোর্খা জনমুক্তি মোর্চায় যোগ দিয়েছেন।

- Advertisement -

এদিন বিমল গুরুং জানান, বিজেপি দীর্ঘদিন তাঁদের শুধুমাত্র ভোটের কাজে ব্যবহার করেছে। ভোটের আগে বিজেপি বড় বড় আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কোনও কাজ হয়নি। তাই তিনি বিজেপির সঙ্গ ত্যাগ করে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন। পাশাপাশি দলের সমস্ত পুরপিতাকেই বিজেপি থেকে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চায় ফিরিয়ে এনেছেন।

বিমল আরও জানান, তিনি কথায় নন, কাজে বিশ্বাসী। চেয়ার বাঁচাতে তিনি রাজনীতি করেন না। আর সেটা প্রমাণ করে দেবেন ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে। তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী তথা বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফের মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসাবেন। খুব শীঘ্রই তাঁরা তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে আলোচনায় বসে বিজেপিকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য রূপরেখা তৈরি করবেন।

উল্লেখ্য, দার্জিলিং পুরসভার ৩২টি আসনের মধ্যে ৩১টি আসনে নির্বাচন হয়েছিল। তার মধ্যে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা (গুরুং পন্থীরা) পেয়েছিল ১৯টি। দু’জন পুরপিতা মারা গিয়েছেন। বাকি রয়েছেন ১৭ জন। তাঁরা গোর্খা জনমুক্তি মোর্চায় ফিরে এসেছেন ও তৃণমূলের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করবেন।