ভুয়ো লিফলেট বিলির অভিযোগে সাইবার থানায় বিজেপি

93

কলকাতা: কলকাতা সহ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের নাম দিয়ে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টিকারী লিফলেট ছড়ানো হচ্ছে। সেই লিফলেটে লেখা, রাজ্যে দাঙ্গা লাগাবার চেষ্টা করা হচ্ছে। কেউ দাঙ্গা লাগাতে চাইলে তারা যেন দিলীপ ঘোষ বা রাহুল সিনহার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। এদিন কলকাতার একটি পাঁচতারা হোটেলে বিজেপির মিডিয়া সেলের নবগঠিত দপ্তরে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে ওই কথা জানান দলের মুখ্য মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য।

সাংবাদিকদের সামনে কয়েকটি লিফলেট তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘তাঁরা খোঁজ নিয়ে দেখেছেন, অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের পক্ষ থেকে ঐ ধরনের কোন লিফলেট প্রকাশ করা হয়নি। তাছাড়া ওই লিফলেটে যে ফোন নাম্বার দেওয়া আছে তারা সেই ফোন নাম্বারে যোগাযোগ করে দেখেছেন যে, ওই ফোন নাম্বারটি একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের কর্মীর।’ তিনি জানান, তাঁরা অবিলম্বে ওই ব্যাপারে সাইবার থানায় অভিযোগ দায়ের করতে চলেছেন। তাঁর মতে তাদের দলের নাম খারাপ করার উদ্দেশ্যেই ওই ধরনের লিফলেট ছড়ানো হচ্ছে।

- Advertisement -

এদিন তৃণমূলের পক্ষ থেকে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের ২৯৪টির মধ্যে ২৯১টি আসনের যে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে সে ব্যাপারে করা একটি প্রশ্নের উত্তরে শমিকবাবু বলে, ‘তৃণমূল কংগ্রেস বড় গলায় ঘোষনা করে যে তাঁরা নাকি সংখ্যালঘুদের একমাত্র রক্ষক। অথচ বিগত দিনের প্রার্থী তালিকায় ৫৭ জন সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ভুক্ত মানুষের নাম থাকলেও এবারের তালিকায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ভুক্ত মানুষের নাম রয়েছে মাত্র ৪২ জনের।’

এদিন ওই সাংবাদিক বৈঠকে শমীকবাবু অভিযোগ করেন, ‘তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তাদের প্রার্থী তালিকায় নরেন্দ্র চক্রবর্তী নামে যাকে পাণ্ডবেশ্বরে প্রার্থী করা হয়েছে তিনি ২০১৬ সালে দমদম বিমানবন্দরে আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।’

এছাড়া এদিন সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছেন, যাদের তিনি বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী করতে পারেননি তাদের মন খারাপ করার কিছু নেই। কারণ খুব শীঘ্রই রাজ্যে বিধান পরিষদ পুনরায় চালু করা হবে। সেখানে তিনি তাদের সদস্য করে দেবেন। ওই ব্যাপারে করা একটি প্রশ্নের উত্তরে শমিকবাবু বলেন, ‘রাজ্য বর্তমানে ৫ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি ঋণের জালে ডুবে রয়েছে। এমতাবস্থায় পুনরায় বিধান পরিষদ চালু করা মানে আরও প্রচুর আর্থিক বোঝা ঘাড়ে পড়বে সরকারের। এছাড়া বিগত দিনে রাজ্য সরকার রাজ্যে পরিষদীয় সচিবের পদ সৃষ্টি করেছিলেন দলের বিক্ষুব্ধ নেতাদের ঠাঁই করে দেওয়ার জন্য। কিছুদিন নীল বাতি, লাল বাতি জ্বালিয়ে দলীয় নেতারা পরিষদীয় সচিব হিসাবে ঘোরাঘুরি শুরু করেছিলেন, কিন্তু হাইকোর্ট সেই নিয়োগ বাতিল করে দেয়।’ তার মতে তৃণমূল নেত্রী সম্ভবত সেই কথাটা ভুলে গিয়েছেন।