তৃণমূল নেতার বেফাঁস মন্তব্যের প্রেক্ষিতে কমিশনের দ্বারস্থ বিজেপি

123

বর্ধমান: নির্বাচন কমিশনের অনুমতি না নিয়েই রবিবার তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীর সমর্থনে হয়েছিল সভা। পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বরের কুসুমগ্রামে অনুষ্ঠিত তৃণমূলের ব্লক সভাপতি মহম্মদ ইসমাইল সেই সভা থেকে বলেছিলেন, ‘ভোট ঘোষনা করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আমরাও দলের সৈনিক। আমাদের প্রত্যেকের কাঁধে একটা করে ’বন্দুক’ ঝুলিয়ে দিয়েছেন আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আমরাও যুদ্ধে নেমে পড়েছি।’ দলীয় প্রার্থীকে পাশে নিয়ে প্রকাশ্য জনসভা থেকে এক তৃণমূল নেতার এহেন মন্তব্য ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে বিজেপি নেতারা। যদিও সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী জানিয়েছেন, সভার জন্য অনুমতি না নেওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই।

মন্তেশ্বর বিধানসভা থেকে গতবার ভোটে লড়ে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী সৈকত পাঁজা। এবারের বিধানসভা ভোটের নির্ঘন্ট ঘোষণার অনেক আগেই শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে সৈকত পাঁজা বিজেপিতে যোগদান করেন। গতবার জেলার মঙ্গলকোট বিধানসভা আসন থেকে জয়লাভ করে রাজ্যের মন্ত্রী হওয়া সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীকে এবার মন্তেশ্বর বিধানসভা আসনে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীকে দল প্রর্থী করলেও তাকে মেনে নেওয়া নিয়ে প্রথমদিকে অসন্তোষ প্রকাশ করেন মন্তেশ্বরের তৃণমূল কর্মীদের একটা অংশ। তবে রবিবার একের পর এক বৈঠক করে দলের নেতা ও কর্মীদের মানভঞ্জন করতে সক্ষম হন তৃণমূল প্রর্থী। ওইদিন বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ প্রার্থীকে সঙ্গে নিয়ে মন্তেশ্বরের কুসুমগ্রামে একটি পথসভা করেন তৃণমূল নেতারা। ওই পথসভা নির্বাচন কমিশনের অনুমতি না নিয়ে করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন মন্তেশ্বরের বিজেপি নেতারা। এনিয়ে বিজেপির ১৫ নম্বর মন্ডলের সভাপতি নরোত্তম ঘোষ কমিশনে অভিযোগও দায়ের করেছেন।

- Advertisement -

নরোত্তম ঘোষ বলেন, ‘তৃণমূলের প্রার্থী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী রবিবার কুসুমগ্রাম বাজারে মাইক্রোফোন সহযোগে পথসভা করেন। ওই পথসভার জন্য তিনি নির্বাচন কমিশনের অনুমতি না নিয়ে বিধি ভঙ্গ করেছেন। তাই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ জানিয়েছি। মহম্মদ ইসমাইলের বক্তব্য প্রসঙ্গে নরোত্তমবাবু বলেন, ‘তৃণমূলের নেতারা এমন বক্তব্য রাখবেন এটাই প্রত্যাশিত।’

যদিও সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী জানিয়েছেন, অনুমতি না নেওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি অল্প কিছু সময় সেখানে থেকে বক্তব্য রেখেছি। বিজেপি এর আগেও অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছিল।