ফালাকাটায় কৃষক ভোটে নজর বিজেপির

322

সুভাষ বর্মন, ফালাকাটা: ফালাকাটায় যে কোনও নির্বাচনে কৃষক ভোট বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়ায়। সংখ্যাগরিষ্ঠ কৃষক ভোটের সমর্থনেই একসময় বামেদের শক্ত ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছিল ফালাকাটা। ২০১১ সালে এই কৃষকদের সমর্থনেই ফালাকাটার আসনটি সিপিএমের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয় তৃণমূল কংগ্রেস। তবে গত লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের কৃষক ভোট ব্যাংকে থাবা বসায় বিজেপি। সম্প্রতি কেন্দ্রের কৃষি আইনের বিরোধিতায় কিছুটা ব্যাকফুটে রয়েছে পদ্মশিবির। তাই কৃষকদের নজর ঘোরাতে এবার ফালাকাটায় ঝাপিয়ে পড়ল দলের কৃষক সংগঠন। বৃহস্পতিবার ফালাকাটার ভৈরবেরহাটে দলের কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কিষাণ মোর্চার রাজ্য সহ সভানেত্রী শ্রীরুপা মিত্র চৌধুরী। যদিও তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপির এই তৎপরতাকে গুরুত্ব দিতে চায়নি।

ফালাকাটা শহর বাদে ১০টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা কৃষি অধ্যুষিত। ২০১৮-র পঞ্চায়েত ও ২০১৯-র লোকসভা নির্বাচনে এই বিধানসভা আসনে ধাক্কা খায় তৃণমূল। বিশেষ করে গত লোকসভা নির্বাচনে এই আসনে বিজেপির থেকে ২৭ হাজার ভোট কম পাওয়ায় তৃণমূলের অন্দরে বারবার মূল্যায়ণ হয়েছে। কৃষক ভোটের একাংশের সমর্থন উঠে যাওয়ার বিষয়টিও দলের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। সেজন্য কয়েক মাস আগে তৃণমূলের কৃষক সংগঠনকে ঢেলে সাজানো হয়। নিষ্ক্রিয় নেতাদের সরিয়ে নতুনদের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের কৃষি আইনের বিরোধিতায় বাড়তি অক্সিজেন পায় তৃণমূল। পুজোর আগে ওই আইনের বিরোধিতায় বিজেপির বিরুদ্ধে ধারাবাহিক কর্মসূচি চালায় শাসক দল। তাই কৃষক ভোট ব্যাংক যাতে কোনওভাবেই হাতছাড়া না হয় সেজন্য এবার ফালাকাটায় লাগাতার কর্মসূচি চালিয়ে যেতে চাইছে বিজেপি।

- Advertisement -

বিজেপির কিষাণ মোর্চার জেলা সভাপতি সুজিত সাহা বলেন, ‘ফালাকাটার কৃষক ভোট বিজেপির সঙ্গেই রয়েছে। তৃণমূল চেষ্টা করলেও কৃষকদের মতিভ্রম করতে পারবে না। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ফালাকাটার কৃষকরা তৃণমূলকে সঠিক জবাব দেবে৷ এখন থেকে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন পর্যন্ত ফালাকাটায় দলের ধারাবাহিক কর্মসূচি চলবে।’ তাঁর দাবি, তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার কৃষক হিতৈষী নয় বলেই কেন্দ্রীয় কৃষি আইনের বিরোধিতা করছে। সেজন্যই ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রীর কৃষক সম্মাননিধি যোজনা এই রাজ্যে চালু হয়নি। সাধারণ কৃষকরা এসব ভালোভাবেই জানেন। তবে কিষাণ ও খেতমজদুর তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি প্রসেনজিৎ রায় বিজেপির কর্মসূচিকে কটাক্ষ করেছেন। প্রসেনজিৎবাবু বলেন, ‘রাজ্য সরকার কৃষকদের জন্য বহু প্রকল্প চালু করেছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার কৃষকদের ক্ষতির জন্য কৃষি বিলকে আইনে পরিণত করেছে। তাই কোন সরকার কতটা কৃষক দরদি, তা ফালাকাটার কৃষকরা জানেন। আমাদের তরফে কেন্দ্রীয় কৃষি বিলের ধারাবাহিক প্রতিবাদের জেরে ফালাকাটায় বিজেপি পিছিয়ে পড়েছে। তাই তাদের রাজ্য নেতারা এসে লোক দেখানো কর্মসূচি পালন করলেও লাভ হবে না।’ এদিকে ফালাকাটার পর এদিন বিকেলে আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের শালকুমারহাটের ভান্ডানি ও বনচুকামারিতে দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দেন বিজেপির কিষাণ মোর্চার রাজ্য সহ সভানেত্রী শ্রীরুপা মিত্র চৌধুরী।