বিরোধী পুলিশের তালিকা করছে বিজেপি

সানি সরকার, শিলিগুড়ি : ভবিষ্যতে খবরদারির লক্ষ্যে পুলিশে নজরদারি করবে বিজেপি। দলের সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার নির্দেশে বিজেপিবিরোধী পুলিশ আধিকারিকদের তালিকা তৈরি করছে গেরুয়া শিবির। যার জন্য প্রত্যেকটি জেলা কমিটিকে স্থানীয় স্তরে তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দলীয় সূত্রেই খবর, জেলা স্তর থেকে রিপোর্ট পাওয়ার পর চড়ান্ত তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে বিশেষ দাযিত্ব দেওয়া হয়েছে প্রাক্তন আইপিএস অফিসার ভারতী ঘোষকে। দলের কেন্দ্রীয় কমিটির মুখপাত্র রাজু বিস্ট বলেন, রাজ্যে সৎ এবং নিরপেক্ষ পুলিশ অফিসারও রয়েছেন। কিন্তু একশ্রেণির পুলিশ আধিকারিক-কর্মী নিজেদের শপথ ভুলে গিয়ে তৃণমূলের ক্যাডার হয়ে কাজ করছেন। সব খবরই আমরা পাচ্ছি। রিপোর্ট সংগ্রহ করা হচ্ছে। ২১-এর ভোটের পর অসৎ পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

টেরর এজেন্সি- রাজ্য পুলিশের কাজকর্ম বা ভূমিকা নিয়ে এই মন্তব্য করেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি। সোমবার শিলিগুড়িতে দলের সাংগঠনিক বৈঠকে প্রত্যেকটি জেলা কমিটি পুলিশি বাধার কথা তুলে ধরার পর তিনি এই মন্তব্য করেন। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলাওয়াড়ি সাংগঠনিক অবস্থান সংক্রান্ত আলোচনার সময় অধিকাংশ জেলা সভাপতি পুলিশের বিরুদ্ধে অত্যাচারের অভিযোগ তোলেন। এই আলোচনায় কোচবিহার এবং উত্তর দিনাজপুরে সংশোধনাগারে থাকা বিচারাধীন বিজেপি কর্মীর মৃত্যুর প্রসঙ্গও ওঠে। এরপরেই পুলিশকে টেরর এজেন্সি বলে নাড্ডা মন্তব্য করেন।

- Advertisement -

দলের রাজ্য কমিটির সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু বলেন, লোকসভা নির্বাচনে নাড্ডাজি উত্তরবঙ্গের দায়িত্বে থাকায় এখানকার পুলিশের সংস্কৃতি নিয়ে তিনি অনেক কিছুই জানেন। এরপরেও পুলিশি অত্যাচার তুলে ধরা হয়েছে বৈঠকে। তিনি পুলিশকে টেরর এজেন্সি বলেছেন। শুধু ছয় মাস লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। কোচবিহারের সাংসদ নিশীথ প্রামাণিক বলেন, পুলিশ নিরপেক্ষ সংস্থা। কিন্তু দেখা যাচ্ছে নিজেদের ডিউটি ভুলে কিছু পুলিশ অফিসার একটি রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করছেন এবং বেছে বেছে বিজেপি কর্মীদের ওপর অত্যাচার করছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে তো ব্যবস্থা নেওয়া হবেই।

দিল্লি ফিরে যাওয়ার আগে কয়েকজনকে নিয়ে কোর কমিটির বৈঠক করেন নাড্ডা। এখানেই তিনি জেলাওয়াড়ি বিজেপিবিরোধী পুলিশ আধিকারিকদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দেন। কীভাবে তালিকা তৈরি হবে? দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পুলিশ কমিশনার বা পুলিশ সুপার থেকে ওসি পদমর্যাদা অনুযায়ী তালিকা তৈরি করা হবে। এই ক্ষেত্রেও তিনটি পর্যায় রাখা হচ্ছে। ১) কারা সরাসরি বিজেপিবিরোধী অবস্থান নিয়ে মিথ্যা মামলা দিচ্ছেন ও অত্যাচার করছেন, ২) কারা তৃণমূলকে বাঁচাতে সক্রিয় এবং ৩) কোন পুলিশ আধিকারিকরা বিজেপিকে ভাঙতে তৃণমূলের হয়ে রাজনৈতিক কাজ করছেন। প্রত্যেকটি জেলা কমিটিকে গোপনে এই তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের ক্ষমতায় এলে বিজেপি যে এই ধরনের পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে তা তালিকা তৈরির নির্দেশেই স্পষ্ট।