আলিপুরদুয়ারে অরাজনৈতিক মুখ খুঁজছে বিজেপি

ভাস্কর শর্মা, আলিপুরদুয়ার : লোকসভা নির্বাচনে ব্যাপক সাফল্যের পর এবার বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির টিকিট পেতে দলের প্রভাবশালী নেতারা মরিয়া। তবে সূত্রের খবর, বিজেপির কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্ব আলিপুরদুয়ার জেলার চারটি বিধানসভাতেই অরাজনৈতিক মুখ খুঁজছেন। তবে অরাজনৈতিক মুখদের টিকিট দিলে জেলাস্তরে তা নিয়ে দ্বন্দ্বও শুরু হতে পারে বলে অনেকেই আশঙ্কা করছেন। চারটি বিধানসভা বাদ দিয়ে একমাত্র মাদারিহাট বিধানসভা আসনে বর্তমান বিধায়ক তথা বিধানসভার বিজেপির পরিষদীয় দলনেতা মনোজ টিগ্গার টিকিট পাওয়া প্রায় ফাইনাল হয়ে আছে। এ বিষয়ে মনোজ মুখ না খুললেও বিজেপি জেলাস্তরের সব নেতৃত্বই বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছেন। মাদারিহাটে মনোজের বিকল্প কেউ নেই বলেই তাঁদের দাবি।

গত লোকসভা নির্বাচনের পর জেলার পাঁচটি বিধানসভাতেই বিজেপি শক্তপোক্ত ভিতের উপর দাঁড়িয়ে। এমন পরিস্থিতিতে দলের অনেক নেতাই এখন টিকিটের দাবিদার। বেশ কয়েজন নেতার নাম নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনাও চলছে। তবে দলীয় সূত্রে খবর, আরএসএস ঘনিষ্ঠ ছাড়া কেউ বিজেপির টিকিট পাবেন না। আলিপুরদুয়ার বিধানসভা ক্ষেত্রে কে টিকিট পাবেন তা নিয়ে এখন সবচেয়ে বেশি চর্চা চলছে। গত বিধানসভায় বিজেপি এখানে ভালো ফল না করলেও লোকসভায় সাফল্য পায়। সেই সাফল্য ধরে রাখতেই দল আলিপুরদুয়ার বিধানসভায় হেভিওয়েট কাউকে দাঁড় করাতে চাইছে। এখানে একজন চিকিৎসক, একজন অধ্যাপক সহ বেশ কয়েকজন সক্রিয় আরএসএস কর্মীর নাম নিয়ে চর্চা চলছে। কালচিনি ব্লকে বর্তমান বিধায়ক উইলসন চম্প্রমারিকে নিয়ে চর্চা রয়েছে। তিনবারের বিধায়ক উইলসন গত বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিটে জয়লাভ করেন। তবে বছর দেড়েক আগে তিনি বিজেপিতে যোগদান করেছেন। বিজেপির এসটি মোর্চার রাজ্য সহ সভাপতি মনোজকুমার ওরাওঁয়ে নাম নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে।

- Advertisement -

তপশিলি ভোট টানতে বিজেপির আলিপুরদুয়ার জেলা সাধারণ সম্পাদক বীরেন্দ্র বরা ওরাওঁ তুরুপের তাস হতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি এর আগে বিজেপির টিকিটে লোকসভা নির্বাচনে আলিপুরদুয়ার আসনে তৃণমূলের প্রার্থী দশরথ তিরকির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে ছিলেন। প্রার্থীপদ নিয়ে দলের জেলা সম্পাদক অসীম পাখরিনের নামও উঠে আসছে। গত বিধানসভা ভোটে বিশাল লামা বিজেপির প্রার্থী ছিলেন। গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সুপ্রিমো বিমল গুরুং সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সখ্য বাড়ালেও বিমল ফের তাঁদের দিকে ঝুঁকতে পারেন বলে বিজেপির একাংশের ধারণা। সেরকম হলে মোর্চার পূর্ব ডুয়ার্স কমিটির সম্পাদক বিশাল লামাকে ফের বিজেপি প্রার্থী করারও একটা অংশ থেকে দাবি উঠেছে। কুমারগ্রাম ব্লকে ৪ নম্বর মণ্ডল কমিটির সদস্য জীতকুমার টোপ্পোর নাম নিয়ে চর্চা চলছে। আবার ভারতীয় টি ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন (বিটিডব্লিউইউ)-এর সেন্ট্রাল কমিটির সদস্য তথা আদিবাসী নেতা লুইস কুজুর এবং বিজেপির জেলা সম্পাদক বিনোদকুমার মিনজের নামও বিধানসভা আসনের প্রার্থী নিয়ে জোর চর্চা চলছে।

কুমারগ্রাম বিধানসভায় বিজেপি ভালো জায়গায় থাকায় এই আসনের আরও বেশ কয়েজন আসএসএস ঘনিষ্ঠ বিজেপি নেতার নাম নিয়ে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। ফালাকাটায় বিজেপির পুরোনো কর্মী জেলার নেতা দীপক বর্মনের নাম প্রথম সারিতেই আলোচনায় উঠে আসছে। সেইসঙ্গে সিপিএম থেকে আসা জেলা পরিষদের প্রাক্তন সদস্য রঞ্জিত বর্মনের নাম নিয়ে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি প্রার্থী হিসেবে রঞ্জন বর্মনের নামও বিজেপির নেতা-কর্মীরা আলোচনা করছেন। দলের আলিপুরদুয়ারের জেলা সভাপতি গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা বলেন, কে টিকিট পাবেন তা কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্ব ঠিক করবে। বিধানসভা নির্বাচনে জেলার পাঁচটি বিধানসভা আসন দখল করাই আমাদের লক্ষ্য।