ফেব্রুয়ারিতে রাজ্যজুড়ে রথযাত্রার ডাক বিজেপির

253

কলকাতা ও শিলিগুড়ি : পরিবর্তনের সরকারকে বদলে রাজ্যে নতুন করে পরিবর্তন আনতে ফেব্রুয়ারি মাস থেকে রাজ্যজুড়ে রথযাত্রা শুরু করতে চলেছে বিজেপি। ২৫ দিন ধরে ঘুরবে রথ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শার পরামর্শমতো রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রকেই ছুঁয়ে যাবে রথ।  রাজ্যের ৫টি অঞ্চল থেকে একটি করে রথ বেরোবে। বিজেপির পাঁচটি সাংগঠনিক জোন অর্থাৎ উত্তরবঙ্গ, রাঢ়বঙ্গ, নবদ্বীপ, মেদিনীপুর এবং কলকাতায় রাজ্য বিজেপির রথ বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করবে। শনিবার রাতে শিলিগুড়ির মাটিগাড়ার উপনগরীতে দলের নির্বাচনি ইস্তাহার কমিটির বৈঠকের পর বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার বলেন, কোথায় কী সমস্যা রয়েছে, সেটা সেখানকার মানুষই ভালো জানেন। তাই তাঁদের মতামত নেওয়ার জন্য রথ চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বিদ্বজ্জনদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় ইস্যুকে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। বৈঠকে সুকান্তবাবু ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জলপাইগুড়ির সাংসদ জয়ন্ত রায়, রাজ্য কিষান মোর্চার সহ সহনেত্রী শ্রীরূপা মিত্রচৌধুরী, দলের রাজ্যস্তরের নেতা কিশোর বর্মন, অমিতাভ চক্রবর্তী প্রমুখ। উত্তরবঙ্গের জন্য বড় আকারে একটি রথ বের করবে বিজেপি, যা কোচবিহার থেকে শুরু হয়ে মালদায় গিয়ে শেষ হবে। সেখানে পর্যায়ক্রমে অংশ নেবেন রাজ্যস্তরের নেতারা। এই রথযাত্রায় শুভেন্দু অধিকারী যাতে থাকেন, সেই চেষ্টা শুরু করেছেন উত্তরবঙ্গের বিজেপি নেতারা।

রবিবার সকালে নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য রাজ্য নেতৃত্ব আইসিসিআর প্রেক্ষাগৃহে আলোচনায় বসেন। দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, রাজ্যে দলের পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়, সহ পর্যবেক্ষক অরবিন্দ মেনন, সর্বভারতীয় সহসভাপতি মুকুল রায়, শুভেন্দু অধিকারী, রাহুল সিনহা শোভন চট্টোপাধ্যায় ও বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় সহ রাজ্যের শীর্ষ নেতারা বৈঠকে যোগ দেন। রথযাত্রা সহ রাজ্যের বিধানসভা ভোটে রণকৌশল নিয়ে সেখানে বিস্তারিত আলোচনা হয়। দিল্লির বৈঠকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শা রাজ্যের নেতাদের সমন্বয় করে চলার জন্য কড়া বার্তা দিয়েছেন। বিজেপি সূত্রে খবর, দলের নেতারা প্রতিদিনই একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নিলেও এর মধ্যে কোনও সামগ্রিক পরিকল্পনার ছাপ নেই বলে বেশ কিছুদিন ধরে অনুভব করছিলেন মুকুল রায়। তিনি এ ব্যাপারে সরাসরি অমিত শা-কে ফোন করেন। বৈঠকের জন্য সময় চান। তখনই অমিত শা ঠিক করেন, সবাইকে নিয়ে এই বৈঠক করবেন। এদিন সকালে অমিত শা-র কার্যালয় থেকে কলকাতায় ফোন করে জানতে চাওয়া হয় ওই বৈঠকের জন্য শুভেন্দু অধিকারীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে কি না। কিন্তু তখন আর শুভেন্দুর পক্ষে বিমানবন্দরে গিয়ে দিল্লির বিমান ধরে বৈঠকে হাজির হওয়ার সময় ছিল না। তাই ভবিষ্যতে নির্বাচনি রণকৌশল নিয়ে গঠিত কোর কমিটিতে তাঁকে যাতে রাখা হয় সেই নির্দেশ দেন অমিত শা। ওই কোর কমিটি নিয়মিত বৈঠক করবে। সব বৈঠকে অমিত শা বা সর্বভারতীয় সভাপতি জগৎপ্রকাশ নাড্ডার পক্ষে থাকা সম্ভব হবে না। তাই বৈঠকের রিপোর্ট তাঁদের দুজনকে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই বৈঠকেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছেন, জানুয়ারির শেষে তিনি বাংলায় আসতে পারেন। ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি দুবার রাজ্যে আসতে চান। পরবর্তী পর্যায়ে মার্চ মাসে টানা ১৫ দিন বাংলায় থাকার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকেও বাংলায় ঘনঘন প্রচারে আনতে চাইছেন রাজ্যের বিজেপি নেতারা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশের পরই আসবেন বলে বিজেপি সূত্রে খবর।

- Advertisement -

আপাতত বিজেপি রণকৌশল হিসেবে শাসকদল তৃণমূলে ভাঙন ধরানোর প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে চাইছে। একসঙ্গে যোগদান না করিয়ে ধীরে ধীরে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের দলে এনে তৃণমূলকে ডুবন্ত তরী হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে গেরুয়া শিবির। এর পাশাপাশি দলের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় রক্ষায় জোর দেওয়ার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বিচ্ছিন্নভাবে শিবপ্রকাশের সঙ্গে দিলীপ ঘোষদের গাঢ় সম্পর্ক বা কৈলাস বিজয়বর্গীয়-মুকুল রায়দের একসঙ্গে চলাফেরা থাকলেও সামগ্রিকভাবে দল হিসেবে বিজেপি এরাজ্যে এখনও সংসার গোছাতে পারেনি। আর এজন্যই কর্মসূচিগুলি ঠিকমতো দানা বাঁধছে না বলে মনে করছেন শীর্ষ নেতৃত্ব। এবার রথযাত্রার মাধ্যমে তাই এক ও অভিন্ন কর্মসূচিতে সমস্ত নেতা-কর্মীকে বেঁধে ফেলতে চাইছেন কেন্দ্রীয় নেতারা।