বিক্ষুব্ধ তৃণমূল নেতাদের পেতে জেলা পরিষদ দখলের ছক বিজেপির

149

শুভঙ্কর চক্রবর্তী, আলিপুরদুয়ার : আলিপুরদুয়ার জেলা পরিষদকে সামনে রেখে দলবদলের নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে আলিপুরদুয়ারে। জেলার পাঁচ আসনে প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরে শুরু হয়েছে বিক্ষোভ, যার জেরে বিজেপির দিকে ঝুঁকেছেন একাধিক তৃণমূল নেতা।

গত কয়েকদিনে কলকাতায় বিজেপির একাধিক রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে বিক্ষুব্ধ তৃণমূল নেতাদের বৈঠক হয়েছে বলে খবর। ফলে স্থানীয় বিজেপিতেও দেখা দিয়েছে অসন্তোষ। ক্ষোভের আঁচ পেয়ে কলকাতায় গিয়েছেন জেলা বিজেপি নেতাদের একটি দল। কয়েকজন তৃণমূল নেতার নাম উল্লেখ করে তাঁদের এখনই দলে না নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। তারপরই জেলা পরিষদ দখলের বিষয়টিকে সামনে রেখে দলবদলের পরিকল্পনা তৈরি হয়েছে বলেই খবর।

- Advertisement -

বিজেপি সূত্রের খবর, যাঁদের নিয়ে আপত্তি তুলেছেন স্থানীয় নেতারা তাঁদের বেশিরভাগই জেলা পরিষদের সদস্য। ব্যক্তিগতভাবে তাঁদের যোগদান নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও ব্যক্তির গুরুত্ব কমিয়ে জেলা পরিষদ দখলের বিষয়টিই বড় করে দেখানো হবে কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে। আর সেই রাস্তাতেই যোগদানের পথ পরিষ্কার করা যাবে। সেটা হলে মালদার পর তৃণমূলের হাতছাড়া হতে পারে আলিপুরদুয়ার জেলা পরিষদ।
দলীয় প্রতীকে একজনও জয়ী সদস্য না থাকা সত্ত্বেও কংগ্রেস থেকে আসা মোহন শর্মার নেতত্বে দল ভাঙিয়ে ২০১৪ সালে নবগঠিত আলিপুরদুয়ার জেলা পরিষদ দখল করেছিল তৃণমূল। সেই সময় মুকুল রায়ে তত্ত্বাবধানে দলবদল হয়েছিল। সেই ফর্মুলাই এবার তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করতে চাইছে বিজেপি।

শুধু আলিপুরদুয়ার নয়, দলীয় প্রার্থী নিয়ে তৃণমূলে ক্ষোভ রয়েছে কুমারগ্রাম ও কালচিনিতেও। আলিপুরদয়ারে সৌরভ চক্রবর্তীর বদলে দলের আলিপুরদুয়ার-২ ব্লক সভাপতি মনোরঞ্জন দে-কে প্রার্থী করার দাবি উঠেছে। দলের নেতা মোহন শর্মার খাসতালুক কালচিনি। তৃণমূলের অন্দরে কান পাতলেই শোনা যাবে ওই কেন্দ্রে সন্দীপ এক্কা বা বিকাশ লামাকে প্রার্থী করতে চেয়েছিলেন মোহন। অথচ সেখানে প্রার্থী করা হয়েছে কট্টর মোহন বিরোধী হিসাবে পরিচিত পাশাং লামাকে।

কুমারগ্রাম কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী হয়েছেন বিজেপি থেকে আসা লিয়স কুজুর। ওই কেন্দ্রে বিপ্লব নার্জিনারিকে প্রার্থী চেয়েছিলেন তৃণমূলের একটা বড় অংশ। তৃণমূলের একটি সূত্রে বলছে, বিপ্লবের হয়ে দলের ভিতরে সওয়াল করেছিলেন জেলা পরিষদের সভাধিপতি শীলা দাসসরকার। মনোরঞ্জনবাবু জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি। অন্যদিকে মোহন শর্মা জেলা পরিষদের মেন্টর। অর্থাৎ জেলা পরিষদ নিয়ন্ত্রণ করছেন যে তৃণমূল নেতারা তাঁরাই যে প্রার্থী নিয়ে খুশি নন, সেকথা আর গোপন নেই। জেলা পরিষদের আরও কয়েকজন সদস্যও বিক্ষুব্ধ বলেই তৃণমূল সূত্রের খবর।

জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সুমন কাঞ্জিলাল বলেন, বুধবার দলের রাজ্য নেতাদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। কয়েকজন তৃণমূল নেতা যোগদান করতে চাইছেন। সেটা নিয়ে আমরা সাধারণ বিজেপি কর্মীদের ক্ষোভ এবং আমাদের কিছু আপত্তির কথা জানিয়েছি। বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, কেউই তৃণমূলে থাকতে চাইছেন না। আলিপুরদুয়ার থেকেও বহু মানুষ দলে আসতে চাইছেন। তবে আমরা আলোচনা করে বুঝেশুনেই যোগদান করাব।

তৃণমূলের আলিপুরদুয়ার জেলা সভাপতি মৃদুল গোস্বামী অবশ্য দাবি করেছেন, দলে প্রার্থী নিয়ে কোনও ক্ষোভ নেই। তাঁর বক্তব্য, দলবদলের গুজব ছড়ানো হচ্ছে। দলীয় প্রার্থীর হয়ে এখনও প্রচারে দেখা না গেলেও মনোরঞ্জনবাবুও গুজবের তত্ত্বকেই সামনে আনছেন। তিনি কলকাতা যাননি বলেও দাবি করেছেন। মোহন শর্মা জানিয়েছেন, তাঁর স্ত্রী গুরুতর অসুস্থ হওয়ায় চিকিৎসার জন্য কয়েদিন থেকে তিনি শিলিগুড়িতে আছেন। তিনি বলেন, কংগ্রেস থেকে তৃণমূলে আসার সময় সবাইকে জানিয়ে এসেছি। ফের যদি কোথাও যাই তবে সবাইকে জানিয়ে যাব। আমার নাম করে মিথ্যা খবর ছড়ানোয় মর্মাহত। শেষ পর্যন্ত আলিপুরদুয়ারের রাজনীতি কোন পথে এগোয়, সেটাই এখন দেখার।