প্রার্থী পছন্দ হয়েছে? জানতে চেয়ে ফোন আইটি সেলের

65

সুভাষ বর্মন, ফালাকাটা : হ্যালো.. আইটি সেল থেকে বলছি। দলের প্রার্থী পছন্দ হয়েছে তো আপনার? আপনার এলাকায় অন্য নেতা-কর্মীদের পছন্দ হয়েছে তো? ঘনঘন ফোন আসছে বিজেপি নেতাদের মোবাইলে। বুথ থেকে অঞ্চলস্তরের নেতারা ফোন পাচ্ছেন। ফোন আসছে বিজেপির আইটি সেল থেকে। প্রথমে নিশ্চিত করে নেওয়া আছে ফোন গ্রাহকের পরিচিতি। তারপর জানতে চাওয়া হচ্ছে প্রার্থী সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া। প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে বড় বিড়ম্বনায় আছে বিজেপি। অন্য কিছু জেলার মতো আলিপুরদুয়ারেও দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিজেপির মনোনয়ন নিয়ে অসন্তোষ তীব্র। প্রার্থী নিয়ে বিক্ষোভ তৃণমূলেও আছে। কিন্তু ইতিমধ্যে সেই ক্ষোভ-বিক্ষোভ কিছুটা প্রশমন করে প্রচারে দলকে নামিয়ে দিতে পেরেছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। কিন্তু বিজেপির অন্দরের দ্বন্দ্ব এখনও পুরোপুরি মেটেনি। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব তাই এলাকার নেতাদের মান ভাঙাতে সবরকম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আইটি সেলের ফোন সেই চেষ্টারই অংশ।

যদিও তাতে যে সবক্ষেত্রে মান ভাঙানো যাচ্ছে, তা নয়। বিজেপি সূত্রে খবর, ফালাকাটার নেতারা নেতিবাচক উত্তর না দিলেও আলিপুরদুয়ার ও কালচিনি কেন্দ্রে প্রার্থী মনোনয়ন সম্পর্কে বিরূপ প্রতিক্রিয়া পাচ্ছে বিজেপির আইটি সেলের রাজ্য কন্ট্রোল রুম। দলের আলিপুরদুয়ার জেলা কমিটির সহ সভাপতি জয়ন্ত রায়ও এমন ফোন পেয়েছেন। তিনি বলেন, দলের রাজ্য নেতৃত্বের থেকে আমার কাছেও ফোন এসেছে। এটা ভেরিফিকেশন কল। এটা দলের একটি পদ্ধতি। দল এভাবে নীচুস্তর থেকে সব মহলের মতামত জেনে নিচ্ছে। তবে প্রার্থী নিয়ে এখন কোনও ক্ষোভ-বিক্ষোভ নেই। দলীয় প্রার্থীদের জেতাতে আমাদের সবাই মাঠে নেমে পড়েছেন। প্রার্থী ফ্যাক্টর নয়। আমাদের মূল বিষয় হল পদ্মফুল প্রতীক। আলিপুরদুয়ার জেলার পাঁচ আসনেই পদ্মফুল ফুটবে বলে আশাবাদী তিনি।

- Advertisement -

ফালাকাটায় বিজেপির অন্যতম বুথ সভাপতি সুরেন্দ্রনাথ বর্মনের কথায়, কলকাতা থেকে আমার কাছে ফোন এসেছিল। আমার কেন্দ্রে প্রার্থী পছন্দ হয়েছে কি না, তা ফোনে জানতে চাওয়া হয়। আমি জানিয়ে দিয়েছি, আমার বুথের দলীয় কর্মী-সমর্থকদের ফালাকাটা কেন্দ্রের প্রার্থী পছন্দ হয়েছে। প্রার্থী যাঁদের নাপসন্দ, তাঁরা অবশ্য প্রকাশ্যে এ নিয়ে কিছু বলছেন না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আলিপুরদুয়ার কেন্দ্রের এক বিজেপি নেতা বলেন, ফোনে যা বলার বলেছি। এ নিয়ে সংবাদমাধ্যমকে কিছু জানাব না। গত ৫ মার্চ তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থীতালিকা ঘোষণার পর প্রার্থী নিয়ে আলিপুরদুয়ার, কালচিনি ও মাদারিহাট কেন্দ্রে শাসকদলের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছিল বটে কিন্তু তড়িঘড়ি ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমে পড়েছিল শাসকদল। ফালাকাটা ও কুমারগ্রাম কেন্দ্রে অবশ্য প্রার্থী নিয়ে ঘাসফুল শিবিরের কোনও সমস্যা ছিল না। ওই দুই কেন্দ্রে শুরু থেকেই প্রচারে ঝড় তুলেছে তৃণমূল।

১৪ মার্চ ফালাকাটা বাদে জেলার বাকি চার আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে বিজেপি। আলিপুরদুয়ার কেন্দ্রে অর্থনীতিবিদ অশোক লাহিড়ি ও কালচিনি কেন্দ্রে বিশাল লামাকে মনোনীত করায় সব থেকে বেশি কোন্দল প্রকাশ্যে আসে। কোন্দলের আশঙ্কায় ফালাকাটায় প্রার্থী ঘোষণা স্থগিত রাখেন বিজেপি নেতৃত্ব। দলের অন্দরের ক্ষোভ মেটাতে রাজ্য নেতা সায়ন্তন বসু আলিপুরদুয়ারে যান। পরে আলিপুরদুয়ার কেন্দ্রে প্রার্থী বদল করে সুমন কাঞ্জিলালকে টিকিট দেয় বিজেপি। এ নিয়ে আদি নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ফালাকাটায় প্রার্থী করা হয় দীপক বর্মনকে। ওই কেন্দ্রে বিজেপির বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠী নির্দল হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দলের জেলা নেতারা বিক্ষুব্ধদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করে মান ভাঙানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বটে। কিন্তু জট এখনও পুরোপুরি মেটেনি বলে রিপোর্ট পেঁছেছে বিজেপির রাজ্যস্তরে। তাই শেষ মুহূর্তে দলের আইটি সেলের এই তৎপরতা বলে মনে করা হচ্ছে।