বিজেপি নেতা খুনের ঘটনায় বনধ ব্যারাকপুরে, স্বরাষ্ট্রসচিব-ডিজিপিকে তলব রাজ্যপালের

554
সংগৃহীত

কলকাতা: রবিবার ভরসন্ধ্যায় টিটাগড়ে থানার সামনেই খুন করা হয় বিজেপির দাপুটে নেটা মণীশ শুক্লা। তিনি বিজেপি–র ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলার সদস্য মণীশ শুক্ল। গতকাল রাতেই ব্যারাকপুরের বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং ঘনিষ্ঠ ওই বিজেপি নেতার মৃত্যু হয় বাইপাসের ধারে একটি বেসরকরি হাসপাতালে।

গতকাল মণীশ শুক্লা পার্টি অফিসে ঢুকছিলেন। সেইসময় বাইকে করে আসে কয়েকজন দুষ্কৃতী। জানা গিয়েছে, মাথা-বুক-ঘাড় লক্ষ্য করে চার-পাঁচ রাউন্ড গুলি চালিয়ে চম্পট দেয় চারা। গুলি লাগে মণীশবাবুর মাথায়। তড়িঘড়ি তাঁকে হাসপাতালে আনা হয়। কিন্তু, শেষরক্ষা হয়নি। এরপরই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশাল পুলিশ বাহিনী। নামানো হয় র‍্যাফ ও কমব্যাট ফোর্স। এই ঘটনার পরপরই তৃণমূল-বিজেপি চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিজেপি তৃণমূলের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছে। যদিও হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল।

- Advertisement -

এই ঘটনায় এদিন সকাল ১০ টায় রাজ্য সরকারের স্বরাষ্ট্রসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি বীরেন্দ্রকে তলব করেছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর। একটি টুইটবার্তায় তিনি বলেন, ‘টিটাগড় পুরসভার কাউন্সিলর মণীশ শুক্লার খুনের ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জেরে রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে সোমবার সকাল ১০ টায় স্বরাষ্ট্রসচিব ও পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ডিজিকে তলব করা হয়েছে।’

এদিকে, এই ঘটনার প্রতিবাদে এদিন ব্যারাকপুরে ১২ ঘণ্টা বনধের ডাক দিয়েছে রাজ্য বিজেপি। ব্যারাকপুর জুড়ে কাল একাধিক বিক্ষোভ কর্মসূচিতে দলের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় সিং, সাংসদ অর্জুন সিং এবং সাংসদ তথা রাজ্য যুব মোর্চার সভাপতি সৌমিত্র খাঁরা নেতৃত্ব দেবেন বলে দলীয় সূ্ত্রে জানা গিয়েছে। কে বা কারা গুলি চালালো তা এখনও জানা যায়নি। জানা গিয়েছে, বিটি রোড জুড়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন বিজেপি কর্মী–সমর্থকরা। এলাকায় উত্তেজনা থাকায় বসেছে পুলিশ পিকেটও। এদিকে এই ঘটনায় সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বিজেপি–র সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা রাজ্য বিজেপি–র কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়। ঘটনার তদন্ত চলছে।