রেল প্রতারণা মামলার চার্জশিটে ‘নেই’ নাম, বিতর্কে মুকুল

867

কলকাতা: পূর্ব রেলের জোনাল রেলওয়ে ইউজার্স কলসালটেটিভ কমিটির সদস্য হওয়ার জন্য সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের মামলার যে চার্জশিট জমা পড়েছে শুক্রবার আলিপুর আদালতে বিশেষ তদন্ত দল অর্থাৎ এসআইটি-এর তরফে, তাতে বিজেপির জাতীয় সহ-সভাপতি মুকুল রায়ের নাম ছিল না। আর এর জেরে রাজ্য রাজনীতিতে দানা বাঁধতে শুরু করেছে নয়া জল্পনা।

জানা গিয়েছে, রেল-কমিটির সদস্যপদ পাইয়ে দেওয়ার টোপে এক ব্যবসায়ীর থেকে ৬০ লক্ষ টাকা হাতানোর অভিযোগে মামলা হয়েছিল মুকুল রায় সহ কয়েক জনের নামে। একাধিক বার কলকাতা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়তে হয়েছিল তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যাওয়া এই নেতাকে। তবে শুক্রবার যে চার্জশিট জমা পড়েছে আলিপুর আদালতে, তাতে বাকি ৪ অভিযুক্তের নাম থাকলেও বাদ গিয়েছেন মুকুল।

- Advertisement -

সূত্রের খবর, গত বছর জানুয়ারি মাসে বেহালার এক ব্যবসায়ী সরশুনা থানায় অভিযোগ করে জানান, পূর্ব রেলের জোনাল রেলওয়ে ইউজার্স কলসালটেটিভ কমিটির সদস্য পদ পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে ২০১৫-২০১৬ সালের মধ্যে তাঁর থেকে বিভিন্ন দফায় ৪৬ লক্ষ টাকা নেওয়া হয়। ভুয়ো নিয়োগপত্র এবং আইডি কার্ড দিয়ে আরও ১৫ লক্ষ টাকা হাতানো হয়।

তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে মুকুল রায়, একদা মুকুল ঘনিষ্ঠ বাবান ঘোষ, রাহুল সাউ, সাদ্দাম হুসেন আনসারি এবং কামাল হুসেন আনসারির বিরুদ্ধে প্রতারণা, জালিয়াতি-সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ। তবে একদা রেলমন্ত্রী মুকুলই নিজাম প্যালেসে তাঁর সঙ্গে বাবান, রাহুলদের আলাপ করিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ করেছিলেন বেহালার ওই ব্যবসায়ী।

এরপর ওই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে গ্রেপ্তার হন বাবান। পরে রাহুল, সাদ্দামও। যদিও ওই তিনজনই বর্তমানে জামিনে মুক্ত। কিন্তু মুকুল রায়কে কেন শুধু তলব করা হচ্ছে? এই নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু হয় বিভিন্ন মহল থেকে।

এরপরই সরব হতে দেখা গিয়েছে স্বয়ং মুকুল রায়কে। তিনি বলেন, ‘মিথ্যা মামলায় ফাঁসাতেই পারে। তবে শেষ পর্যন্ত আইনেরই জয় হবে। অন্যদিকে, রাজনৈতিক মহলের সব জল্পনা আদতে ভিত্তিহীন।‘

মুকুল বাবুর এহেন দাবির পর সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীর বক্তব্য, ‘কখন কী হচ্ছে, কেউ জানে না। সবই তো এখন নবান্নের নির্দেশে হয়।’