পুলিশকে জুতো চাটানো হুঁশিয়ারি মামলায় বিজেপি নেতা রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়ের জামিন

345

আসানসোল: গত একমাসে জামুড়িয়া ও আসানসোলে দলীয় সভা থেকে পুলিশকে দেখে নেওয়া ও রাজ্যে ক্ষমতায় এলে জুতো চাটানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন বিজেপির রাজ্যের সাধারণ সম্পাদক তথা রাঢ়বঙ্গের পর্যবেক্ষক রাজু বন্দোপাধ্যায়। তার সেই মন্তব্যের জন্য জামুড়িয়া ও আসানসোল দক্ষিণ থানার পুলিশ আলাদা আলাদা ভাবে রাজু বন্দোপাধ্যায়ের নামে ভারতীয় দন্ডবিধির একাধিক ধারায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করেছিল। বুধবার সেই দুটি মামলায় জামিন নিতে আসানসোল আদালতে আত্মসমর্পণ করেন বিজেপির রাজু বন্দোপাধ্যায়। এদিন তার হয়ে দুটি মামলায় আদালতের বিচারকের কাছে সওয়াল করেন আইনজীবী শেখর কুন্ড।

তবে বিজেপির এই নেতা যে পুলিশের মামলা করার জন্য একটুও ভয় পাননি, এদিন আবারও তার প্রমাণ মিলেছে। এদিন তিনি সরাসরি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, এই বাংলায় এখন জামতাড়া গ্যাংয়ের শাসন চলছে। যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। বাংলায় এখন তৃণমূল কংগ্রেসের মাফিয়া, গুন্ডা, ক্রিমিনাল ও সিন্ডিকেট রাজের দৌরাত্ব চলছে। এরা প্রকাশ্য রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। পুলিশ দেখছে না। যেমন আসানসোলের জিতেন্দ্র তেওয়ারি, বীরভূমের অনুব্রত মন্ডল, পূর্ব বর্ধমানের স্বপন দেবনাথ ও ববি হাকিম। আর আমাদের মত যারা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে রাজ্যে আন্দোলন করছে বা সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে সরব হচ্ছে, তাদের নামে মিথ্যা মামলা করা হচ্ছে। জেলে ভরে দেওয়া হচ্ছে। তাদের আদালতে হাজিরা দিয়ে বেল নিতে হচ্ছে। বাংলায় সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, এরপর আর রাজ্যে এইসব চলবে না। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় আসছে। তখন তৃণমূল কংগ্রেসের এইসব নেতাদের জেলে পাঠানো হবে। তখন কেউ বেলও পাবে না। রাজ্যের মানুষের ৪০০/৫০০ কোটি টাকা দিয়ে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ প্রশান্ত কিশোর বা পিকেকে বাংলায় আনা হয়েছে। তাতে অবশ্য কিছু হবে না। পিকে তো পেশাদার। সে টাকা পেলেই কাজ করবে। গোটা তৃণমূল কংগ্রেস দলটাই পিকের কাছে বন্ধক হয়ে গেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে এখন বাংলার মানুষেরা আর নেই। তৃণমূল কংগ্রেসকে এখন পুলিশ প্রশাসন ও গুন্ডারা চালাচ্ছে। বিরোধীদের এখানে রাজনীতি করতে দেওয়া হচ্ছে না। বিশেষ করে বিজেপিকে। বিজেপি কেউ করলে তাকে ভয় দেখানো হচ্ছে।

- Advertisement -

এদিন রাজু বন্দোপাধ্যায়ের সঙ্গে ছিলেন বিজেপির জেলা সভাপতি লক্ষণ ঘোড়ুই, কাউন্সিলর তথা মহিলা মোর্চার সভানেত্রী আশা শর্মা, সুব্রত মিশ্র সহ অন্যান্যরা। আইনজীবী শেখর কুন্ডু বলেন, দুটি মামলাতেই রাজু বন্দোপাধ্যায় সহ অন্যান্যরা জামিন পেয়েছেন। অন্যদিকে, রাজু বন্দোপাধ্যায়কে এদিন পাল্টা আক্রমণ করেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যের অন্যতম সাধারণ সম্পাদক তথা আসানসোল শহরের আহ্বায়ক ভি শিবদাসন ওরফে দাসু। তিনি বলেন, ওই ব্যক্তি যে ভাষায় কথা বলেন, তাতে তার রাজনীতি করার কোন যোগ্যতা নেই। আমরা তার দলের নেতাদের নামে ওর থেকে চারগুণ খারাপ ভাষায় কথা বলতে পারি। কারণ তা আমাদের রুচিতে বাঁধে। আমরা মমতা বন্দোপাধ্যায়ের আদর্শ মেনে চলি ও তার দল করি। তবে, এবার থেকে এই নেতা আসানসোলে এসে এমন কথা বললে, মেরে ঠ্যাং ভেঙ্গে দেবো। তখন দেখবো কে তাকে বাঁচায়।