সুজাপুর বিস্ফোরণ কাণ্ডে এনআইএ তদন্তের দাবি বিজেপি নেত্রী শ্রীরূপা মিত্রচৌধুরির

626

কালিয়াচক: সুজাপুর বিস্ফোরণ কাণ্ডে এনআইএ তদন্তের দাবি জানালেন বিজেপি নেত্রী শ্রীরূপা মিত্রচৌধুরি। তিনি বলেন, এই ঘটনায় জঙ্গিযোগ রয়েছে কিনা জানতে এনআইএ তদন্ত জরুরি। এদিকে বিস্ফোরণ কাণ্ডে পর থেকেই সুজাপুরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আনাগোনা শুরু হয়েছে। ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কলকাতা থেকে হেলিকপ্টারে এলাকায় আসেন পুর ও নগর উন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। শুক্রবার সকালে সুজাপুরের বিধায়ক ইশা খানচৌধুরি সহ কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছান। কংগ্রেসের তরফে নিহতদের জন্য ৫০ হাজার টাকা ও আহতদের জন্য ১০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হয়।

কংগ্রেসের প্রতিনিধি দলটি ব্যারিকেড টপকে বিস্ফোরণস্থলের খুব কাছাকাছি গিয়ে ঘুরে আসে। প্রতিনিধি দলে ছিলেন সুজাপুরের বিধায়ক ইশা খানচৌধুরি, বিধায়ক মুস্তাক আলম, মানিকচকের বিধায়ক মোত্তাকিন আলম, কংগ্রেস নেতা মহিবুর রহমান ফিটু সহ অন্যান্য নেতৃত্বরা। অন্যদিকে বিজেপির প্রতিনিধি দলে ছিলেন শ্রীরূপা মিত্রচৌধুরি, সুতপা মুখার্জি সহ জেলা বিজেপির নেতৃত্ব। কংগ্রেসের প্রতিনিধি দলকে ঘটনাস্থলের খুব কাছাকাছি যেতে দেওয়া হলেও বিজেপির প্রতিনিধিদলকে ব্যারিকেডের বাইরেই পুলিশ আটকে দেয়। এনিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিজেপি নেত্রী শ্রীরূপা মিত্রচৌধুরি।

- Advertisement -

তাঁর অভিযোগ, এর আগেও দক্ষিণ মালদার বিভিন্ন জায়গায় আতঙ্কবাদী হামলা হয়েছে। সুজাপুর, কালিয়াচক সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে অনেক আতঙ্কবাদী ধরাও পড়েছে। তাঁর দাবি, বৃহস্পতিবারের ঘটনাটি মেশিন বিস্ফোরণের বলে দাবি করে ধামাচাপা দিতে চাইছে রাজ্য সরকার। তিনি বলেন, এখানে অনেক বিস্ফোরক পদার্থ মজুত ছিল। তা থেকে বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে। কালিয়াচক-১ ব্লকের তৃণমূল সভাপতি রাহুল বিশ্বাস বলেন, শ্রীরূপা মিত্র দক্ষিণ মালদা থেকে গত লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হয়েছিলেন। জিততে না পারার জ্বালা নিবারণের জন্যই তিনি এই সমস্ত উলটোপালটা কথা বলছেন। এরকম একটা মর্মান্তিক ঘটনাকে নিয়ে বিজেপি ঘৃণ্য রাজনীতি করছে। এর থেকে হতাশার আর কী হতে পারে।

এদিন ঘটনাস্থল থেকে কংগ্রেস বিধায়ক মুস্তাক আলম ও ইশা খানচৌধুরির বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন।  তাঁরা জানান, সুজাপুরে এটি ঘটনা ঘটেছে। তদন্ত এখনও চলছে। ফরেনসিক দলও তদন্ত করবে বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। তবে তদন্ত শুরু হতে না হতেই বিজেপির নেতা-কর্মী, এমনকি রাজ্যপালও বিভিন্ন রকম কুমন্তব্য করতে শুরু করেছেন। তাঁদের কথা শুনে মনে হচ্ছে, তাঁরা আগে থেকেই জানতেন এখানে কী কী ছিল, কেমন করে ঘটনা ঘটল। সুজাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান আরিফ আলি বলেন, এখানে একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ তদন্ত করছে, ফরেনসিক দল আসবে। তদন্ত চলছে এখনও শেষ হয়নি। তাঁর কটাক্ষ, বিজেপির নেতা-নেত্রীরা যেসব মন্তব্য করছেন, তাতে মনে হচ্ছে তদন্ত শেষ হয়ে গিয়েছে।